বাউল-ফকির, সত্যপীর-সাঁওতাল, খ্রীষ্টোৎসব, রামায়ণ- সব ধর্মকে নিয়েই শুরু হল পৌষমেলা

আজ ৭ই পৌষ

“পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে আয় রে চলে আয় আয় আয়…” – ‘রক্তকরবী’ নাটকে বারবার ধ্বনিত হয় এই গান। আনন্দের গান, উৎসবের গান, ভালোবাসা আর পাশে থাকার গান, এই গান বেঁচে থাকারও। শীতকাল আমাদের জানান দেয়, কুয়াশা আর গুড়ের সঙ্গে সঙ্গে চলে এসেছে কত কত উৎসব। সেই সমস্ত উৎসবের এক একটি চরিত্র। বাংলা তার নিজস্ব মেজাজে সম্পূর্ণ বাঙালিয়ানা নিয়ে মজে আছে যুগ যুগ ধরে। ঠিক যেমন শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী পৌষ উৎসব বা পৌষমেলা।

“সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে শোনো শোনো পিতা”… আজ সকালে শান্তিনিকেতনবাসীও শুনল বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের গান। এইভাবেই সকালে সকলের ঘুম ভাঙল। ঘন কুয়াশার মধ্যেই ছাতিমতলায় সমবেত হন পড়ুয়া ও আশ্রমিকরা। পৌষমেলার উৎসবে সামিল দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও। দিনভর চলবে নানান অনুষ্ঠান।

ছাতিমতলায় ছাত্র-ছাত্রীরা 

১৮৪৩ সালের ২১ ডিসেম্বর (১২৫০ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কুড়ি জন অনুগামীকে নিয়ে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের থেকে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। এটিই শান্তিনিকেতনের পৌষ উৎসবের মূল ভিত্তি। ১৮৯১ সালের ২১ ডিসেম্বর (১২৯৮ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ) শান্তিনিকেতনে একটি ব্রাহ্মমন্দির স্থাপিত হয়। ১৮৯৪ সালে ব্রাহ্মমন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণে মন্দিরের উল্টোদিকের মাঠে একটি ছোটো মেলা আয়োজন করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনের সেই পৌষমেলা শুধুমাত্র বীরভূম জেলার নয়, অন্যান্য অঞ্চলের পর্যটকেদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। প্রথম দিকে ব্রাহ্মমন্দিরের (উপাসনাগৃহ) উত্তর দিকের মাঠে মেলা আয়োজিত হত। সেই দিন সান্ধ্য উপাসনার পর বাজি পোড়ানো হত। পরে মেলার আয়তন বৃদ্ধি পেলে শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লীর মাঠে মেলার আয়োজন শুরু হয়।

অনুষ্ঠান সূচি 

পৌষ উৎসব ১৪২৬-এর শুভ সূচনা শুরু হয়েছে গতকাল ৬ পৌষ। গৌরপ্রাঙ্গন বৈতালিক এবং শান্তিনিকেতন গৃহতে সানাইয়ের মাধ্যমে গতকাল শুরু হয়েছে অনুষ্ঠান। আজ থেকে আগামী ১০ পৌষ পর্যন্ত চলবে মেলা। আম্রকুঞ্জে থাকবে আশ্রমিক সংঘের অনুষ্ঠান, আলাপিনী মহিলা সমিতির অনুষ্ঠান। মেলাপ্রাঙ্গনে থাকছে রায়বেঁশে, ছৌ নৃত্য, কাঠি নৃত্য, যাত্রাভিনয়, ফকিরদের গান, সত্যপীরের পাঁচালি, বাউল গান, খ্রীষ্টোৎসব, রামায়ণ গান, সাঁওতালদের খেলাধূলা ইত্যাদি। সর্বধর্মসমন্বয়ের প্রতীক হিসাবে ঐতিহ্যবাহী পৌষের ডাকে কান পেতেছে মানুষ। আজ ৭ই পৌষ। লালমাটির উৎসবে রাঙা হবে সমস্ত ভালোবাসা।

Developed by DXDasia