দিনাজপুরে নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটাচ্ছে বাদাম চাষ

ফলন বেশি, চাষে সময় লাগে কম, বাজারে চাহিদাও তুঙ্গে

বাদাম চাষকে ঘিরে লাভের আশায় বুক বাঁধছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের চাষিরা। বাদাম চাষে ফলন বেশি, কম সময়ে ঘরে তোলা যায় ফসল। তার ওপর, বাজারে বাদামের চাহিদাও বেশ ভালোই। সবটা মিলিয়ে বাদাম চাষে ঝুঁকছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন, কুমারগঞ্জ, কুশমণ্ডি ও বালুরঘাট ব্লক-সহ আটটি ব্লকের চাষিরা। 

এতদিন সরষে চাষের পর আমন ধান উৎপাদনের আগে জমিতে পাট চাষ করতেন কৃষকরা। কিন্তু, এখন তাঁরাই বেছে নিচ্ছেন বাদামের চাষ। মাত্র তিনমাসে ফসল উঠে আসে বাদাম চাষে। জমির উর্বরতাও বাড়ে। জলের খরচও কম হয়। ফলে, সেচ পেতে সমস্যা এমন সব জমিতেও অনায়াসে করা যায় বাদামের চাষ। তাছাড়া, রাজ্য সরকারের ‘আত্মা প্রকল্পের’ মাধ্যমে বাদাম চাষে আগ্রহী চাষিদের বীজ ও সার দেওয়া হচ্ছে। বাদাম চাষের পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে উৎসাহী চাষিদের। 

বাদাম অর্থকরী ফসল। বাজারে এর চাহিদাও তুঙ্গে। ফসল নষ্টও হয় কম। ফলে, সহজেই লাভ উঠে আসে। চাষের হ্যাপা কম, সময়ও কম লাগায় বাদামের পরেই রোপণ করা যায় আমন ধানের চারা। সব মিলিয়ে, বাদাম চাষকে ঘিরেই এখন আশায় বুক বাঁধছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রায় ২০০০ কৃষক। আপাতত ২০০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ চলছে। উচ্চ ফলনশীল এ-২৪ এবং ক্যাট-২০ এই দু‌ই প্রজাতির বাদাম চাষ করছেন চাষিরা। ফলন হচ্ছে বেশ ভালোই। পরের বছরগুলিতে যে বাদাম চাষের পরিমাণ আরো বাড়বে, বলাই বাহুল্য। 

Developed by DXDasia