
চলচ্চিত্র উৎসবের বড়ো আকর্ষণ গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালা এবং নজরুল তীর্থের এক্সিভিশন
শহরে চলছে সিনেমার উৎসব। বাংলার নানান প্রান্ত থেকে সিনেপ্রেমীরা এসে ভিড় জমাচ্ছেন নন্দন-রবীন্দ্রসদন চত্ব্বরে, নজরুল তীর্থে, ডায়মন্ড প্লাজা, নবীনা, মিত্রা, বসুশ্রীতে। কেউ আসছেন বিশ্বসেরা পরিচালকদের কাজ দেখতে, কেউ আসছেন নানা ভাষায় সিনেমার স্বাদ পাওয়ার জন্য, কেউ আসছেন নেহাতই কৌতূহলে। এরই মধ্যে বাংলা সিনেমা শতবর্ষ পার করল এই বছর। ১৯১৯ সালে রুস্তমজি ধোতিওয়ালা পরিচালিত ম্যাডন থিয়েটার পরিবেশিত ছবি ‘বিল্বমঙ্গল’ মুক্তি পায়। এভাবেই শুরু হয় বাংলা সিনেমার জয়যাত্রা। তারপর সত্যজিৎ রায় থেকে ঋতুপর্ণ ঘোষ কিংবা অঞ্জন চৌধুরী থেকে রাজা চন্দ অনেকেই নানা পথে নানা ধারা-উপধারায় বাংলা সিনেমাকে বইয়ে নিয়ে চলেছেন নিরন্তর। বাংলা ছবির শতবর্ষকে স্মরণে রেখে ২৪ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রাখা হয়েছে ‘চালচিত্র’ নামের এক প্রদর্শন।

গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালা এবং নজরুল তীর্থে আয়োজিত এই প্রদর্শনে বাংলা সিনেমার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে অত্যন্ত জমকালোভাবে। গত রবিবার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, জয়া বচ্চন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রথিতযশা অভিনেতারা গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শশালায় এসে প্রদর্শনটির উদ্বোধন করেন। দর্শকের যাতে বুঝতে সুবিধে হয়, তার জন্য গোটা প্রদর্শনটিকে চারটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্বে আছে, ১৯১৭ সাল থেকে ১৯৩০ সাল পর্যন্ত সময়কাল। ১৯৩১ থেকে ১৯৫৫ অবধি রয়েছে দ্বিতীয় পর্বে। তৃতীয় পর্বে ১৯৫৬ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত বাংলা সিনেমার ইতিহাস সাজানো রয়েছে। ১৯৮১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত রয়েছে চতুর্থ তথা শেষ পর্বে। সর্বজিৎ চক্রবর্তী, সঞ্জয় ঘোষ দস্তিদার, নির্মল ধর, অর্ণব সাহা, স্নেহাশিস ভট্টাচার্য, বিজয় সাউ, সুমিত ঘোষাল প্রমুখ মিলে ডিজাইন করেছেন এই প্রদর্শনটির।

বাংলা সিনেমার অনেক অজানা তথ্য উঠে এসেছে এই আয়োজনে। যেমন ধরা যাক, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচালিত একমাত্র ছবি ‘নটীর পূজা’ সম্পর্কিত অনেক খবরই এখানে মানুষ পাবেন। বাংলা চলচ্চিত্রের আদিপুরুষ হীরালাল সেন, প্রবাদপ্রতীম অভিনেতা উত্তমকুমার, বিশ্বখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় এবং তাঁদের সঙ্গে প্রমথেশ বড়ুয়া, নীতিন বোস, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, জহর রায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মতো চলচ্চিত্রের বিভিন্ন দিকের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব সম্বন্ধে দর্শকদের অবগত করা হয়েছে। এখানে ‘পথের পাঁচালী, ‘গণদেবতা’, ‘চোখ’, ‘শত্রু’ এবং আরও অনেক কালজয়ী সিনেমার পোস্টার দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ। চলচ্চিত্র সম্পর্কিত ডাকটিকিট এবং পুরোনো ফিল্ম প্রোডাকশন কোম্পানিগুলির লোগো দিতে সাজানো বিরল সংগ্রহ মুগ্ধ করবে দর্শকদের। বাংলা সিনেমার প্রথম গ্রামাফোন রেকর্ড ‘চণ্ডীদাস’ (১৯৩২) রাখা আছে দর্শদের জন্য। এই প্রদর্শন তো আছেই, পাশাপাশি ‘Hundred Years of Bengali Cinema’ নামে একটি বিভাগ রাখা হয়েছে চলচ্চিত্র উৎসবে। বিভিন্ন সময়ে তৈরি হওয়া ‘উদয়ের পথে’, ‘স্ত্রীর পত্র’, ‘কোনি’, ‘সপ্তপদী’-র মতো ১৩টি বাংলা সিনেমা এই বিভাগে দেখানো চলছে।


