
উত্তরবঙ্গে এখন সেই গাছ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে, নেপথ্যে রয়েছেন অমিত সরকার
গাছের ফল থেকে তৈরি হবে ভেষজ ডিজেল। সেই ডিজেল দিয়ে চলবে গাড়ি, এমনকি ট্রেনের ডিজেল ইঞ্জিনও। উত্তরবঙ্গে এমনই একটি গাছ নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় এখন সেই গাছ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। গাছটির বিজ্ঞানসম্মত নাম পোঙ্গানিয়া পিনাটা। ডাক নাম পিনাটা। এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সামাজিক বনসৃজন দপ্তরও। তার থেকেও বড়ো কথা, এই গাছ চাষের কাজে নেমে পড়েছেন শিলিগুড়ি লিগ্যাল এইড ফোরামের লোকজনও। তাঁরা গ্রামে গ্রামে পিনাটা ফ্যান্স ক্লাব তৈরি করছেন। নেপথ্যে রয়েছেন অমিত সরকার।
প্রথমে বছরখানেক আগে অমিতবাবু শিলিগুড়ির মাটিগাড়া ব্লকে এরকম কিছু গাছ আবিষ্কার করেন। তারপর দায়িত্ব নিয়ে সামাজিক বনসৃজন দপ্তর সহ বন বিভাগকে চিঠি দিয়ে এই গাছ নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর এক ছাতার তলায় সকলে মিলে কাজ শুরু করেন। প্রথম এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় গত জুলাই মাসে। শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি এবং মাটিগাড়াতে তৈরি হয়েছে পিনাটা ফ্যান্স ক্লাব। নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ থেকে শুরু করে বাল্যবিবাহ রোধ, বন্যপ্রাণী রক্ষার মতো নানারকম কাজে নামানো হয়েছে ক্লাবগুলোকে।

সাধারণত একসঙ্গে অনেকটা বিশেষ জঙ্গলের মতোই হয় এই গাছ। চার থেকে পাঁচ বছর পর গাছে ফল হয়। আর সেই ফল থেকেই বিশেষ পদ্ধতির সাহায্যে তেল বের করা হয়, নাম বায়ো ডিজেল। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের অধ্যাপক পলাশ মণ্ডল জানিয়েছেন, তাঁরা এই গাছ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছেন। এই গাছ দিয়ে এখন পুনর্বাসনের কাজও শুরু হয়েছে। যেভাবে যানবাহন বাড়ছে তাতে আগামী দিনে ডিজেল পাওয়া বিরাট সমস্যার হবে। সেক্ষেত্রে এই গাছ থেকে বায়ো ডিজেল তৈরি করলে তা বিরাট ব্যাপার হবে। শিলিগুড়ি লিগ্যাল এইড ফোরামের অমিত সরকার জানিয়েছেন, “এই গাছের পাতা অনেকটা বেল পাতার মতো দেখতে। গাছটির উচ্চতা পাঁচ ফুট। চাষ শুরু হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। নকশালবাড়ি, মাটিগাড়া, ফুলবাড়িতে তৈরি করা হয়েছে পাঁচটি ফ্যান্স ক্লাব। ক্লাবের মাধ্যমে টেবিল টেনিস এবং ফুটবল খেলা হচ্ছে। তার মধ্যেই এই গাছ চাষের প্রচার হচ্ছে। যেসব শিশু বা বালিকা পাচারের শিকার হয়েছে, যাদের বাল্যবিবাহ হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের জন্য এই গাছের চাষবাস করানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই গাছের চাষবাস করে যদি গ্রামের পিছিয়ে পড়া মানুষদের দুটো পয়সা রোজগার হয় তবে নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ করা যাবে। তার পাশাপাশি দারিদ্র্যের কারণে বাল্যবিবাহ ঠেকানো যাবে। অমিতবাবুর নেতৃত্বে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এই নিয়ে এখন ব্যাপক কাজকর্ম চলছে। রাজ্যের সামাজিক বনসৃজন দপ্তরও এই কাজে এগিয়ে এসেছে। বৈকুন্ঠপুর ফরেস্ট, মাটিগাড়া, নিশ্চিন্তপুর এবং নকশালবাড়িতেও তৈরি হয়েছে এমন ফ্যান্স ক্লাব।
