
প্রয়াত অভিনেতা তাপস পাল
আশির দশক। সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল পেরিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র ততদিনে বাঙালির আরও ঘরে পৌঁছে গেছে গেছে। চলে এসেছেন তরুণ মজুমদার, অঞ্জন চৌধুরীরা। সেই সময় প্রসেনজিৎ, চিরঞ্জিতের পাশাপাশি মুখে মুখে যাঁর নাম উচ্চারিত হত, তিনি তাপস পাল। তরুণ মজুমদারের হাত ধরে ১৯৮০ সালে ‘দাদার কীর্তি’ চলচ্চিত্রের মধ্যে দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটছে তাপস পালের। তাপস পালের সঙ্গে চুটিয়ে অভিনয় করছেন দেবশ্রী রায়। সেই শুরু। বাংলা চলচ্চিত্র আপন করে নিয়েছিল তাপস-দেবশ্রী জুটিকে।
খুব ছোটোবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল তাপসের। ‘দাদার কীর্তি’র সময় তাঁর বয়স ছিল ২২ বছর। এই বয়সে ‘নায়ক’ হওয়ার স্বপ্ন তখন ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু তাপস পেরেছিলেন। অঞ্জন চৌধুরীর পরিচালনায় ১৯৮৭ সালে মুক্তি পায় ‘গুরুদক্ষিণা’। যে ছবি আপামর বাংলার দর্শক আজও মনে রেখেছে। কিংবদন্তি অভিনেতা কালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাপস পালের যুগলবন্দি কাঁদিয়েছিল সেই সময়কার বাংলার দর্শককে।
‘ফ্যামিলি ড্রামা’ বলতে যা বোঝায়, ঠিক তার জন্যই তাপস পাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। কারণ ‘ভালো মানুষ’, ‘ভালো প্রেমিক’, সংসারের ‘ভালো ছেলে’ তকমার তাপসের উপমা একমাত্র তাপসই। তরুণ মজুমদার, অঞ্জন চৌধুরী, দীনেন গুপ্ত, প্রভাত রায়, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত প্রমুখ পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন চুটিয়ে। কিন্তু ‘ভালো’ অভিনেতার তকমা তাঁর কোনোদিনই জোটেনি। আশি-নব্বইয়ের বাঙালি দর্শককে তিনি শুধুমাত্র কাঁদিয়েছেন, গভীরতা দিতে পারেননি। একথাও ঠিক, তাপস পালের নাম বলতেই তখন ছিল বক্স অফিসের সাফল্য। তাপস-দেবশ্রী, তাপস-শতাব্দী, তাপস-মহুয়া – সাফল্যের চাবিকাঠি ছিল তাঁদেরই হাতে।
অবশেষে ইহ জগতের মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন অভিনেতা তাপস পাল। তাঁর সিনেমার কেরিয়ার যত উজ্জ্বল ছিল, রাজনীতির ময়দান ছিল ততটাই ম্লান। তিনি অভিনেতা হতে পেরেছেন, কিন্তু জননেতা নয়। তাঁর প্রয়াণে বঙ্গদর্শনের শ্রদ্ধা।
