
বাংলাদেশের বরিশাল জেলার মানুষ রাসেল আহমেদ। দীর্ঘ আট বছরের ভাবনা চিন্তা আর পরিশ্রমে তৈরী পূর্ণ দৈর্ঘ্যের চলচিত্র ‘নৃ’
বাংলাদেশের বরিশাল জেলার মানুষ রাসেল আহমেদ। দীর্ঘ আট বছরের ভাবনা চিন্তা আর পরিশ্রমের মাধ্যমে ২০১২ সালে জীবনের প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্যের চলচিত্র নির্মাণ শুরু করেন রাসেল। নাম ‘নৃ’।
‘নৃ’ মানে হলো মানুষ, যে মানুষের জন্ম মাটিতে।
‘নৃ’ মূলত একটি সামাজিক চলচিত্র। গল্পের চরিত্র দুটি। দিলীপ কুমার পাল ও রাঁধাবল্লভ শীল। দু’জনেই শ্মশান বন্ধু, চণ্ডাল। প্রথম জন প্রায় চার দশক আর অপর জন তিন দশক ধরে বরিশাল মহাশ্মশানে মরা পোড়ানোর কাজ করেছেন। এঁদের জীবন ধারণ পদ্ধতি নিয়ে অর্ধ যুগ আগে শুরু হওয়া গবেষণার প্রেক্ষিতে প্রসূত এ চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য রচনা করেন রাসেল আহমেদ। পরিচালকও তিনি। এ চলচ্চিত্রের কাহিনীতে দক্ষিণ বাংলাদেশের বহু আলোচিত দূর্গা সাগরের মিথ গুলো মাখামাখি হয়ে আছে।
২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘নৃ’ এর শ্যুটিং শুরু হয়। বরিশালের বিভিন্ন লোকেশনে-ই শ্যুটিং এর কাজ হয়েছে। এর মধ্যে মাধবপাশার দূর্গাসাগর, রহমতপুরের কৃষি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, নগরীর কাউনিয়া এলাকার মহাশ্মশান সার্বিক প্রাধান্য পেয়েছে। জীবনানন্দ দাশ সড়কের এপিফানী (অক্সফোর্ড মিশন) গীর্জা, কড়াপুরের মিয়া বাড়ির মসজিদ, বানারী পাড়ার মনোরমা বসু মাসিমার বাড়ি, স্বরূপকাঠীর রাজবাড়ির নদীর ঘাট ছবিকে অন্যমাত্রা দেয়। লোকেশান ও সময়কে আসলে আলতো করে এই সিনেমায় কাজে লাগানো হয়েছে।
মানুষে মানুষে যে দেওয়াল বা বিভেদ তৈরি হয় তাঁর ঘোরতর বিরোধী রাসেল। তাঁর চলচ্চিত্রে নেই কোন পরিচিত মুখ। যে মানুষ যে পেশায় কাজ করেন তাঁকে সেই চরিত্রেই ব্যবহার করেছেন ছবির নির্দেশক।
ডিজিটাল ফরম্যাটে ডি.এস.এল.আর ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নিওরিয়ালিজম ধাঁচের কম্পোজিশন ও মোটিফ, লাইটস, কস্টিউম, সেট দেখে অনেকেই এই চলচ্চিত্রকে আর্টফিলম-এর খাতায় ফেলতে চাইবেন। ‘নৃ’ দেখে তাঁদের এই ধারনা ভেঙে যাবে।
মূল চিত্র গ্রাহক ড্যানিয়েল ড্যানি। সাথে অন্য দুই ক্যামেরা সঞ্চালক ঈয়ন ও দঈত আননাহাল। শিল্প নির্দেশক থিওফিলাস স্কট মিল্টন। পোষাক পরিকল্পনায় শাহরিয়ার শাওন। ফিল্ড সাউন্ড রেকর্ড করেছেন এম.আই. সাইফ। সম্পাদনা সামির আহমেদ। প্রযোজনা চলচ্চিত্র নির্মাণকারি সংস্থা ‘থিম থিয়েটার উইজার্ড ভ্যালি’।
মানুষের পরিচিতি ও মূল্যায়ন যে, জাতি, ধর্ম্ম নির্বিশেষে করা বাঞ্ছনিও রাসেল আহমেদ নিজে সেটা বিশ্বাস করেন এবং তাঁর চলচ্চিত্রেও মেলে এই বিশ্বাসের প্রতিফলন।
গেটবেঙ্গলের আন্তরিক শুভেছা রইল রাসেল আহমেদের প্রথম প্রয়াসে।
