
পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সফরের আয়োজন করেছেন পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন
বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের গৌরব বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ নিলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্য নিয়ে পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে প্রত্যেকটি ট্যুরিজম প্রপার্টি এবং ডেস্টিনেশনে একটি সফরের আয়োজন করেছেন। তাঁর কথায়, "মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলা খুব দ্রুত ভারতের পর্যটন গন্তব্যের তালিকায় একেবারে প্রথম স্থানে চলে যাবে"।
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বিশেষ ফোকাস করা হয়েছে বাউল গান তথা সংস্কৃতিকে। ইতিমধ্যেই পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন বীরভূমের দুটি জায়গার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। ইলামবাজার ব্লকে অজয় নদীর তীরে কেঁদুলিতে গড়ে উঠবে বাউল অ্যাকাডেমি। বোলপুরের কাছে সিয়ান গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হবে বাউল বিতান।
কেঁদুলি গ্রামকে বলা হয় বাউল দর্শনের আঁতুড়ঘর। প্রাচীন বাংলার কিংবদন্তি কবি জয়দেবের জন্মস্থান হিসেবে বিশ্বাস করেন অনেকে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই গ্রাম হয়ে উঠেছে ধর্মীয় সাধনার এক কেন্দ্র। গেলেই চোখে পড়বে অসংখ্য মন্দির এবং আশ্রম। পৌষ মাসের শেষে মকরসংক্রান্তি উপলক্ষ্যে বিশ্বের নানা প্রান্তের ভ্রমণার্থীরা কেঁদুলি মেলা দেখতে যান। হাজার হাজার বাউল তখন জমায়েত হন সেখানে।
জয়দেব-কেঁদুলি বিখ্যাত রাধাবিনোদ মন্দিরের জন্য। বর্ধমানের মহারানি ব্রজকিশোরী তাঁর সভাকবি যুগলকিশোর মুখোপাধ্যায়ের অনুরোধে এটি স্থাপন করেন ১৬৮৩ সালে। যুগলকিশোর ছিলেন কেঁদুলির বাসিন্দা। গ্রামের যেখানে কবি জয়দেব থাকতেন বলে মনে করা হয়, সেখানেই মন্দিরটি অবস্থিত।
আরও পড়ুন: দুয়ারসিনি – অরণ্যের মাঝখানে লুকোনো খাজানা
বাউল সংগীত নিয়ে গবেষণা করা যাবে কেঁদুলির বাউল অ্যাকাডেমিতে। গড়ে উঠছে রেকর্ডিং ইউনিট এবং নিজস্ব মহাফেজখানা। বাউলদের বাদ্যযন্ত্র সংরক্ষণ করা যাবে। বাউলরাও গিয়ে থাকতে পারবেন। গবেষক, সংগীতপ্রেমী এবং অন্যান্য পর্যটকদের জন্য তৈরি হবে থ্রি স্টার সুযোগ-সুবিধা-সহ থাকার বন্দোবস্ত৷ পর্যটনমন্ত্রী লক্ষ্যমাত্রা রেখেছেন, অক্টোবরের শেষে অ্যাকাডেমির উদ্বোধন হবে।
বোলপুর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে সিয়ান গ্রাম। সেখানে বাউল বিতানের গ্রিনফিল্ড প্রকল্পে চালু হবে ৩৪টি ডাবল বেডের ট্যুরিজম প্রপার্টি৷ তাতে স্যুইমিং পুল, ক্যাফেটেরিয়া, হস্তশিল্পের হাট এবং বাউলদের আখড়া থাকবে। এই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হবে চলতি বছরের শেষে।

বাউল ছাড়াও বীরভূমে আরেকটি প্রকল্প তারা বিতান। রামপুরহাটে গড়ে উঠছে থ্রি স্টার সরকারি প্রপার্টি। প্রায় ৬ একর জমিতে ২৪টি ডাবল বেড ইউনিট। তারাপীঠে ঘুরতে গেলে পর্যটকরা কয়েকদিন আরামে ছুটি কাটাতে পারবেন। প্রত্যেক বছর কমবেশি ১৫ লাখ ভক্তের সমাগম হয় চণ্ডীপুর গ্রামের তারাপীঠে। দেবী তারাকে পুজো দেন এঁরা। ১৯ শতকের 'পাগলা সাধক' বামাক্ষ্যাপার প্রতি শ্রদ্ধা জানান৷ তারাপীঠ মন্দিরের কাছেই তিনি থাকতেন।
রামপুরহাট স্টেশন থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে তারাপীঠ মন্দির। কলকাতা থেকে সড়কপথেও যাওয়া যায়। সাড়ে ৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। মন্দির ছাড়াও আশেপাশে বেশ কয়েকটি ডেস্টিনেশন রয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে তারাপীঠের কাছে প্রথম তৈরি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব ট্যুরিজম প্রপার্টি। খুব শিগগিরই পর্যটকরা গিয়ে সেখানে থাকার সুযোগ পাবেন।
