The Shameless : বেহায়া সমাজের দিকে ছুড়ে দেওয়া নাদিরা আর দেবিকার বেপরোয়া চ্যালেঞ্জ

যৌনকর্মীর কি আত্মসম্মান থাকতে নেই? এ ছবি যেন সেই প্রশ্নই তোলে

যাত্রা শুরু সেই ২০০৯ সালে। বুলগেরিয়ার পরিচালক কনস্টান্টিন বোজানোভ (Konstantin Bojanov) ডক্যুমেন্টারি এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনিচিত্র নির্মাণে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করছেন। ইনভিজিবল (ডক্যুমেন্টারি, ২০০৫), আভে (২০১১, কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ডেবিউ ছবি, কাহিনি চিত্র), লাইট দেয়ারাফটার (২০১৭, রটারডম ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল) তাঁর চলচ্চিত্র ভাবনা ও নির্মাণকলা ভিন্নতর ছাপ রাখছে। উইলিয়াম ডালরিমপ্ল-র ‘নাইন লাইভস: ইন সার্চ অফ দ্য সেকরেড ইন মডার্ন ইন্ডিয়া’-র স্বত্ব কিনে চারটি উপাখ্যান নিয়ে ডক্যুমেন্টারি করবেন মনস্থ করলেন। কর্ণাটকের এক যৌনকর্মীকে নিয়ে একটি গল্পও ছিল তার মধ্যে। গল্পের সঙ্গে বাস্তবতার মিশেল দিতে একটা চরিত্র খুঁজতে খুঁজতে পূর্ণদৈর্ঘ্য ডক্যুমেন্টারি নির্মাণে কর্ণাটকে শ্যুটিং শুরু ২০১৪ সালে। মাথায় ছিল যদি ডক্যুমেন্টারির ফুটেজ দেখিয়ে আর্থিক সুরাহা পাওয়া যায়। এই শ্যুটিংয়ের সময় প্রায় যুবতী এক মেয়ের সন্ধান পেলেন। যৌনকর্মী পরিবারে সে তার বিপণনের ভবিতব্য নিয়ে বেঁচে আছে। আরেকজন জীবনযুদ্ধে রুক্ষ আবার কোমল মনের অধিকারী যৌনকর্মীর সাক্ষাৎ পেয়ে গেলেন। এই দুই নারী চরিত্রের প্রেম যদি হয়, এ সম্ভাবনা তাঁর মাথায় আসে। ভারতীয় ভাষা না জেনে ডক্যুমেন্টারি ঠিক মতো গড়ে উঠছিল না। তাই বোজানোভ কাহিনি চিত্রের কথা ভাবতে শুরু করলেন। আর্থিক উপায়ের সুযোগ প্রায় নেই। এমন সময় অনসূয়া সেনগুপ্ত (Anasuya Sengupta)-এর সঙ্গে আলাপ হয় এবং দ্য শেমলেস ছবির চিত্রায়ণ কর্মকাণ্ড শুরু বলা যেতে পারে।

বোজানোভ প্রায় জাদুবাস্তবতার ছায়ায় অসামান্য গ্রাফিকসে চুঁয়ে চুঁয়ে পড়া রক্তে ভেসে যাওয়া সফেদ সাদা বিছানার দৃশ্য ভরে দিয়েছেন। রেণুকা বাংলার কোনও গ্রামের নাদিরা। প্রেমিক তাকে বেচে দিয়েছে সোনাগাছিতে। নাদিরা পালাতে পালাতে রেণুকা হয়েছে।

মুম্বাইয়ের প্রোডাকশন ডিজাইনার ও অভিনয় ওয়ার্কশপ করিয়ে অনসূয়াকে আমরা ২০০৯ সালে রিলিজ করা বাংলা ছবি অঞ্জন দত্তের ম্যাডলি বাঙালিতে পেয়েছি। সে ছবির অনসূয়াও খানিক একরোখা রাগী তরুণী। ব্যান্ডে গান করেন। পরে তিনি মুম্বাই চলে গেছেন অভিনয় বাসনায়! মনের মতো কাজ না পেয়ে ক্যামেরার পেছনের কাজে ব্যস্ত হয়েছেন। বোজানোভ-অনসূয়া জুটির অজস্র চেষ্টায় একে একে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, ইন্ডিয়া যৌথ কোম্পানি পাঁচ দেশের বা বলা যায় ছয়টা দেশের বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক সহায়তায় ছবি শেষ করা গেছে। কোভিডের সময় এবং ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাণের নিয়মকানুন এড়াতে নেপালের কাঠমাণ্ডুতে ছবির শুটিং হল। দ্য শেমলেস (The Shameless)!

এ ছবির শুরুতেই দেখা যায় রক্তাক্ত ছুরি। তারপর বেসিনে রক্ত ধোয়া হাত। তারপর বেসিনের ওপরের আয়নায় একটা প্রায় নির্লিপ্ত নারী মুখ, জীবনযুদ্ধে দীর্ণ, কলুষিত সময়ের ছাপে রুক্ষ। আর পেছনে সফট ফোকাসে বিপুলায়তন এক পুরুষ খুন হয়ে পড়ে আছে বিছানায়। পরে জানা যায় দিল্লি পুলিশ কমিশনার। তাকে খুন করতে হয়েছে একটা হিসাব চোকাতে। ঠিক যেমন রাম সেনা নেতা দীনেশের সঙ্গে হিসাব মেটাতে ছবির প্রায় শেষে খুন করতে হয়! দিল্লি থেকে ছুট। ছোটো শহর ছত্তরপুরের যৌনপল্লিতে সেখানকার অন্যতম আরাধ্যা রেণুকা মাতার নাম নেয় এই পলাতকা। আসলে সে নাদিরা। পুরুষ দোকানি ধমকে দেয় এখানে মেয়েরা হাফ প্যান্ট পরে না। সিগারেট খায় না। রেণুকা বেহদ্দ বেপরোয়া। এই শহরের রেণুকা মাতা পূজিতা হন যৌনকর্মীদের হাতে। প্রাচীন দেবদাসী প্রথা প্রচলিত। রেণুকা মাতার ভক্ত এক ধর্মমাতা ঈশিকা দেবীর নাতনি দেবিকা। কৈশোর উত্তীর্ণ দেবিকা রাতে স্বপ্ন দেখে একটি মেয়েকে পোড়ানো হচ্ছে। কোমল তুলতুলে দেবিকা একদিন বিপণন হবেই। সে এই জীবন চায় না। রেণুকার সঙ্গে তার প্রেম শুরু হয়। রেণুকা ছুটছে পুলিশের গ্রেফতার এড়িয়ে অন্য কোথাও পালিয়ে বাঁচতে। দেবিকা পালাতে চায় আগামী দেহোপজীবিনী ভবিষ্যৎ থেকে। তাদের মিলিত হওয়ার জায়গা একটা পরিত্যক্ত কলেজ। দেবিকা তার মা বোনের জীবিকার আঁচে পোড়ে। আত্মপীড়ন করে দেশলাই কাঠি জ্বালিয়ে হাতের তালুতে ছ্যাঁকা দেয়। স্বপ্নে দেখে কলেজের ক্লাস রুমে স্তুপিকৃত চেয়ার দাউদাউ করে জ্বলে ধিকিধিকি কাঠকয়লার আগুন। নারীত্বের পূর্ণতা তার কৌমার্য বিদীর্ণ হওয়ার রক্তাক্ত বিছানা চাদর। বোজানোভ প্রায় জাদুবাস্তবতার ছায়ায় অসামান্য গ্রাফিকসে চুঁয়ে চুঁয়ে পড়া রক্তে ভেসে যাওয়া সফেদ সাদা বিছানার দৃশ্য ভরে দিয়েছেন। রেণুকা বাংলার কোনও গ্রামের নাদিরা। প্রেমিক তাকে বেচে দিয়েছে সোনাগাছিতে। নাদিরা পালাতে পালাতে রেণুকা হয়েছে। নিরন্তর দৌড়, জৈবিক ভাবে সমকামী রেণুকা জীবিকার জন্য পুরুষদের বিকৃত কাম মর্ষকাম চরিতার্থ করে। টাকা জমায় পালানোর জন্য। প্রেমিকা দেবিকাকে নিয়েই সে পালাবে। আয়োজন বারবার ভেস্তে যায়। শেষ চেষ্টার আগে রেণুকা রামসেনা নেতা দীনেশকে খুন করে। কারণ দীনেশ অনিচ্ছুক দেবিকার কৌমার্য লুঠ করেছে, বীভৎস অত্যাচারে দেবিকাকে রক্তাক্ত করে ছেড়েছে। তার বদলা খুন।

অনসূয়া কতগুলো চরিত্র! নাদিরা মুসলিম – যে দেশে প্রথম ঋতুমতী হওয়ার পরেই বিবাহ অনিবার্য এবং অপরিণত শরীরে গর্ভবতী হওয়ায় মৃত্যু ভবিতব্য, গ্রামের মেয়ে নাদিরাকে মতলবি ‘প্রেমিক’ সোনাগাছির শরীর বেচা পেশায় বেচে দেয়। নাদিরা তখন নামহীন যৌনকর্মী।

পুরাণে মহাভারতে রেণুকা পরশুরামের মা। পরশুরাম পিতৃ আজ্ঞা পালন করতে মাকে হত্যা করেছিল। আর আমাদের রেণুকা পুরুষকে জীবনের প্রয়োজনে যৌনতা বিক্রি করে। পুরুষকে তোয়াক্কা করে না। জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছে পুরুষের কাছে নারী স্তন নিতম্ব যোনি মাত্র। সমকামে রেণুকা তৃপ্ত। সুখ সান্নিধ্য সে খুঁজে পেয়েছে প্রেমিকা দেবিকার মধ্যে। রেণুকা চরিত্রে অনসূয়া রাফ এন্ড টাফ। আবার প্রেমে আকুল শৃঙ্গার মুহূর্তে অনসূয়া নরম স্নেহশীলা কামারক্ত। নাট্যশাস্ত্র থেকে প্রাত্যহিক আবেগ প্রকাশের যাবতীয় কলা তার করায়ত্ত। তার অনারীসুলভ চলন তার রাগী মুহূর্তের অভিব্যক্তি আপনাকে হতবাক করবে। শৈশবের প্রেমিক মুরাদকে সে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতো। বহুদিন পরে সেই মুরাদই তার বিপদের পরিত্রাতা। তাকে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কাঁদে রেণুকা। চমকে দেয় তার অপার বেদনা প্রকাশে। উল্টোদিকে ওমারা শেট্টি (Omara Shetty)-র দেবিকা যেন অনসূয়ার কাউন্টারপয়েন্ট। দেবিকা লাজুক। দেবিকা প্রায় কিশোরী। দেবিকা সংশয়ী। দেবিকা র‍্যাপ লেখে। তার লেখা র‍্যাপের প্রথম পংক্তি, “সময় চলে যায় বালুকণার মতো / বালুকণার ওপর আমার নিয়ন্ত্রণ নেই…”

গ্র‍্যাবিয়েল লোবোসের (Gabriel Lobos) ক্যামেরা অনবরত আঁধার ছায়ায় ছুটে বেড়ানো রেণুকার সঙ্গে ছোটে। আবার ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে কালচে লাল কমলা হলুদ আবছায়া আলোয় নিবিড় হয়। এডিটর টম লিন (Tom Lin) অতি সংক্ষিপ্ত চকিত শট যে মুন্সিয়ানায় দেবিকার আত্মপীড়নের দৃশ্যের খাঁজে খাঁজে ভরে দিয়েছেন শিক্ষা নিতে হয়!

দ্য শেমলেস বোজানোভের লেখা এবং পরিচালনা। তবে অনসূয়া সেনগুপ্ত যেন ২০০৯-এর বাংলা ম্যাডলি বাঙালি পেরিয়ে ২০২৪-এ তাঁর প্রথম হিন্দি ছবিতে অব্যবহৃত অভিনয় ক্ষমতা নিংড়ে দিয়ে বলেছেন, “দ্যাখ কেমন লাগে!” ১১৫ মিনিটের ছবি জুড়ে তাঁর দেদার উপস্থিতি। তবে ভরতনাট্যম নৃত্যের শিল্পী নাট্যকর্মী ওমারা শেট্টির অতুলনীয় সঙ্গত ছাড়া অনসূয়া এতোটা জোরালো হয়ে উঠতে পারতেন কিনা তা ভাবা দরকার।

এ বছরের সেরা ছবি পায়েল কাপাডিয়ার অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট ভারতীয় ছবি। আবার অনসূয়া সেনগুপ্ত কানের মঞ্চে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেলেন যৌথভাবে আবু সাংগারের সঙ্গে। ভারতীয় ছবি যেন বিশ্ব চলচ্চিত্রে নতুন করে সাড়া জাগিয়েছে। এই ঘরের কাছের যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ‘বাঙালি ঘরের মেয়ে’ অনসূয়াকে নিয়ে আমাদের অহংকার হয় বইকি!

অনসূয়া কতগুলো চরিত্র! নাদিরা মুসলিম – যে দেশে প্রথম ঋতুমতী হওয়ার পরেই বিবাহ অনিবার্য এবং অপরিণত শরীরে গর্ভবতী হওয়ায় মৃত্যু ভবিতব্য, গ্রামের মেয়ে নাদিরাকে মতলবি ‘প্রেমিক’ সোনাগাছির শরীর বেচা পেশায় বেচে দেয়। নাদিরা তখন নামহীন যৌনকর্মী। যৌনকর্মীর কি আত্মসম্মান থাকতে নেই? নাদিরা যৌনকর্মী, খুনি… অনসূয়ার চরিত্র যেন তিনটি মানুষ। সমাজের সব থেকে শোষিত নারী দেহপোজীবিনী। অনসূয়া এক সাক্ষাৎকারে বলছেন তাঁর চরিত্র নির্মাণের প্রয়োজনে যে ফিল্ড স্টাডি করেছেন, তাতে দেখছেন যৌনকর্মীদের থেকে সব্বাই ফায়দা তোলে। কিন্তু তাঁদের অবস্থা তলানিতে। পুলিশের তাড়া খেতে খেতে নাদিরা ছাত্তরপুরের রেণুকা দেবী! কৈশোর থেকে যৌবনে পৌঁছানোর পথে হতে চাওয়া র‍্যাপার দেবিকাকে আবিষ্কার করে রেণুকা। অপার প্রেমের জোয়ার আসে বেণুকার জীবনে। অভিসার থেকে মিলনের পথে পথে রেণুকার উদ্বাস্তু জীবনচর্যায় যৌনকর্মীদের কাছেও ব্রাত্য! রাস্তাওয়ালি গন্ধা রেন্ডি!  এখানেও নাদিরা একা! তার বিপত্তারণ মুরাদ, হ্যাঁ, মুসলিম মুরাদ কন্ট্রাক্ট কিলার আজকের বহু প্রচলিত সুপারি কিলার। কন্ট্রাক্ট কাজের আগে আধা, কাজ সারলে আধা। রেণুকা প্রায় একই শর্তে পল্লির আবাস পায়। অবশ্য যৌনপীড়াভোগী মর্ষকামীর সঙ্গে বা ট্রানজিট ট্র‍্যান্সপোর্ট ড্রাইভারকে সুখ দিতে ‘ফেলো কড়ি মাখো তেল’ চুক্তি করে নেয়। নাদিরা-খুনি রেণুকা- সমকামী… সমাজের তলানি বলে চিহ্নিত অনসূয়া চরিত্র।

সব অস্তিত্ব তোলপাড় করে তিনি নিজের যাপিত জীবন পেরিয়ে অন্যতর ভিন্ন এক বাস্তবে পৌঁছানোর লড়াইয়ে আগুয়ান। থোড়াই কেয়ার এ পৌরুষ অধ্যুষিত তল্লাট!  জিত লেংগে মেরা কবরস্তান এমন তার দৃঢ় প্রত্যয়!  চ্যালেঞ্জ সমগ্র পুরুষ শাসিত সমাজের বিরুদ্ধে। দেবিকা চরিত্র একটা যাত্রায় বাঁচে… নানান স্তর তার আত্মাবিষ্কারে। নতুন নতুন অভিজ্ঞতায়, পারিবারিক দেহোপজীবিনী জীবিকায় তাড়িত দেবিকা নাদিরা-রেণুকার সান্নিধ্যে অনাস্বাদিত জৈবিক সুখের সন্ধান পাচ্ছে। নারীত্বের ভিন্ন আশ্লেষ উচ্ছ্বাস উল্লাস তার নতুন আমি।

অনসূয়া সেনগুপ্ত ছবির ভারতীয় মুক্তি নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। ক্রমাগত দুর্গম হয়ে ওঠা উগ্রবাদীদের দেশে সেন্সর কতটা রাখবে কতটা ছাঁটবে তা নিয়ে অবশ্যই উদ্বিগ্ন তিনি। কান চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানোর সময়টাই তো অত্যন্ত জটিল কুটিল পিচ্ছল… সাধারণ নির্বাচন এ দেশে। তিনি জানেন ছয় দেশের যৌথ প্রযোজনার ছবিতে কপালে টানটান লাল তিলক, গেরুয়া বসনধারী রাজনৈতিক ভক্তরা গেরুয়া বেলুন উড়িয়ে রাম সেনা নির্বাচন প্রার্থী দীনেশের অপ্রতিরোধ্য জয় নিশ্চিত করে। দীনেশের পার্টির উপদেষ্টারা বলে দেয় নির্বাচনের আগে নিজের পত্নীকে নিয়ে সব জায়গায় যাও। সামলে চলো। যৌনপল্লী এড়িয়ে চলো। অর্থাৎ নির্বাচন জয়ী হয়ে আবার ফিরে যেতেই পারো, এখন সার্থক সুখী  বৈবাহিক দাম্পত্যের ছবি ফেরি করো। এই দীনেশই তো রেণুকাকে মর্ষকামী যৌনযাপনের জন্য বাড়তি পারিশ্রমিকে আঁচড়ে কামড়ে পৌরুষ ফলায়। আবার দেবিকার অনাঘ্রাতা নারীত্ব কিনতে অপ্রত্যাশিত বিনিময়মূল্য নিয়ে হাজির হয়। রাম নাম সত্য হ্যায়!

৩০তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নন্দন ১-এ স্পেশাল স্ক্রিনিংয়ে অনসূয়া বলেন আমার একটাই আনন্দ নন্দন ১-এ আমার ছবি দেখানো হচ্ছে। তিনি এর আগে সংশয় ব্যক্ত করেছেন এ দেশে বোজানোভের দ্য শেমলেস কতটা মানুষ দেখতে পারে!

রেণুকার সিল্কের শার্ট আর হুডি পরে উদ্ধত চিবুকের দেবিকা যখন গ্রামীণ মেঠো পথে এগোতে থাকে নির্জন রেলওয়ে স্টেশন ছাড়িয়ে তার যাত্রার দিকে দর্শক অসীম সম্ভাবনায় উদ্বেল। দ্য শেমলেস মানে কি বেহায়া? নির্লজ্জ সমাজ! সমাজ বিচ্যুত করে চলার বিরুদ্ধে বেহায়া সমাজের সামনে ছুঁড়ে দিচ্ছে বেপরোয়া চ্যালেঞ্জ।

______ 
দ্য শেমলেস রিভিউ | The Shameless Review (মতামত লেখকের নিজস্ব)

Developed by DXDasia