বাংলার মঞ্চে ফিরে আসছেন “মীরজাফর”

‘বোমা’র পর আবার ইতিহাসকে আশ্রয় করে মঞ্চে আসছে ব্রাত্য বসুর নতুন নাটক ‘মীরজাফর’

‘সিনেমার মতো’ কিংবা ‘অদ্য শেষ রজনী’- বড় ক্যানভাসে বাংলা থিয়েটারকে ভাবতে শিখিয়েছেন নাটককার-অভিনেতা ব্রাত্য বসু। ঠিক তেমনই নতুনভাবে ক্যানভাসের সম্ভার নিয়ে আসছেন ব্রাত্য। ‘বোমা’র পর আবার ইতিহাসকে আশ্রয় করে ব্রাত্য বসুর নতুন নাটক ‘মীরজাফর’ মঞ্চে আসতে চলেছে। নাটকের সময়কাল ১৭৫৭ থেকে ১৭৬৪ সাল। পলাশির যুদ্ধের পরবর্তী সাত বছরের এক অনালোচিত ইতিহাস। এই ইতিহাসই আমাদের জানিয়েছে অনেক রোমহর্ষক ঘটনা পরম্পরা। পলাশির যুদ্ধে মীরজাফরের বিশ্বাসগাহন, সিরাজদৌলার পরাজয় এবং তাঁর মৃত্যুর ইতিহাস সর্বজনবিদিত। এ নাটকের কাহিনি শুরু হয় তার পর থেকেই। মীরজাফর এবং তাঁর পুত্র মীরন এই হত্যালীলার অন্যতম মুখ। ব্রাত্য বসু এই নাটকে ইতিহাস থেকে তুলে আনছেন এই দুটি চরিত্র। সঙ্গে রয়েছেন সিরাজের বিধবা বেগম লুৎফুন্নিসা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাতাবরণে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির আক্রমণে কীভাবে পর্যুদস্ত হয়েছিলেন সে সময়ের নবাব-শাসকেরা, অথবা ঔপনিবেশিক শক্তির অঙ্গুলিনির্দেশে কীভাবে চালিত হত তৎকালীন বঙ্গরাজনীতি, সেসব নিয়েই এগিয়ে যেতে থাকবে এই নাটকের কাহিনি। 

ব্রাত্য বসু খুঁজে নিচ্ছেন বাঙালির নিজস্ব আইডেন্টিটি। ১৭৬৪ সময়পর্ব বাঙালির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরেকদিকে এই সময়কাল অচেনা ইতিহাসের সন্ধিক্ষণ। এই মুহূর্তে আমরা অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। নিজেদের বেঁচে থাকা, অস্তিত্বকে হারিয়ে ফেলছি ক্রমশ কিংবা নতুন করে জেনে নিতে চাইছি আস্ত বাঙালি জীবন। এই নাটক বাঙালি-সত্ত্বা সন্ধানের নাটক। ইতিহাস আসলে একটা খোঁজ। যে খোঁজের শেষের রাস্তা আমাদের জানা নেই। শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক দিক হয়, এই নাটক হয়ত বাঙালির ধর্মীয় দিকটাও উস্কে দেবে। ইংরেজরা ভারতে ঢুকছে, ইতিহাসে সংযোজিত হচ্ছে অবিভক্ত বাংলার পটচিত্র। পাল্টে যাচ্ছে বাঙালির ইতিহাস। পাল্টাতে থাকছে বাঙালি জীবন। এই নাটক হয়ত বর্তমানে দাঁড়িয়ে ফিরে দেখতে চাইবে অতীতকে। এই খননকার্যে নির্দেশক ব্রাত্য বসুর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন গৌতম হালদার (অভিনয় করছেন মীরজাফর চরিত্রে), কাঞ্চন মল্লিক (অভিনয় করছেন মীরজাফর-পুত্র মীরনের চরিত্রে), পৌলমী বসু (অভিনয় করছেন সিরাজ বেগম লুৎফুন্নিসার চরিত্রে)। ব্রাত্য বসুকে দেখা যাবে রবার্ট ক্লাইভের চরিত্রে। রাঘব চট্টোপাধ্যায় এবং জয়তী চক্রবর্তী গান গাইবেন। আবহ নির্মাণ করেছেন দিশারী চক্রবর্তী এবং শুভদীপ গুহ। 

এর আগে গৌতম হালদার বা কাঞ্চন মল্লিক অভিনয় করেছেন ব্রাত্য বসুর নির্দেশনায়। ‘মুম্বই নাইটস’ প্রযোজনায় অন্যতম প্রধান চরিত্রে ছিলেন গৌতম হালদার এবং ‘একদিন আলাদিন’ প্রযোজনায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছিল কাঞ্চন মল্লিককে। তাই ব্রাত্য-গৌতম-কাঞ্চন ত্রয়ীর একত্র অভিনয় দর্শকের নজর কাড়বে আরও একবার, তা আশা করাই যায়। বাঙালির ইতিহাসকে এত বড় ফ্রেমে দেখানোর সাহস খুব কম জনই করতে পারেন। বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসকে আরেকবার উস্কে দিয়ে আপামর দর্শক পৌঁছে যাবেন অতীতে। যেখান থেকে সরাসরি নিজের অস্তিত্ব চিনতে না পারলেও, চিনে নেওয়া যাবে পাশের দেশ কিংবা সঙ্গিনীটিকে। যুদ্ধ, লড়াই, রক্ত, প্রতিহিংসা, প্রেম সবকিছু জানান দেবে ফেলে আসা সাতটা বছরের। দেশ বদলেছে, দেশের মানুষ বদলেছে, কিন্তু অস্থি মজ্জায় ঢুকে পড়া প্রতিহিংসার জিগির বদলায়নি একটুও। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর যবনিকা পতন হবে ইতিহাসের। কালিন্দী ব্রাত্যজন-এর প্রযোজনায় “মীরজাফর” নাটকের প্রথম অভিনয় সন্ধে সাড়ে ছটায়, জি ডি বিড়লা সভাঘরে।   

ব্যবহৃত ছবিগুলি ব্রাত্য বসুর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রাপ্ত  

Developed by DXDasia