
দার্জিলিংয়ের কালিম্পং ১ ব্লকের অধীনে পড়ে এই ছোট্ট গ্রামখানি
দার্জিলিং (Darjeeling)-এর কালিম্পং (Kalimpong)-এ অবস্থিত পোস্টকার্ডের ছবির মতো ছোট্ট একফালি গ্রাম। চারিদিকে ছোটো বড়ো পাহাড়, উঁচু গাছেদের সারি। সময় যেন পুকুরের জলের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এখানে। যেদিকে তাকানো যায়, চোখে পড়ে কেবল সবুজ। এখানে ভোরবেলা ঘন কুয়াশার চাদর সরিয়ে, সূর্যের আলোয় মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় স্বয়ং কাঞ্চনজঙ্ঘা। গ্রামের নাম লোলেগাঁও (Lolegaon)।
লেপচা অধ্যুষিত লাভা থেকে লোলেগাঁওয়ের দূরত্ব মাত্র ২৪ কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার কালিম্পং ১ ব্লকের অধীনে পড়ে ছবির মতো এই ছোট্ট গ্রামখানি। লোলেগাঁও থেকে সবথেকে কাছের শহর কালিম্পং-এর দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। সমুদ্রতল থেকে লোলেগাঁওয়ের উচ্চতা ১,৬৭৫ মিটার।
লোলেগাঁওয়ের ওক, বার্চ, ফার আর সাইপ্রাস গাছে ভর্তি জঙ্গলের মাঝে গিয়ে দাঁড়ালে, দেখতে পাবেন অসংখ্য পায়ে হাঁটা পথ চলে গেছে জঙ্গলের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে।

লোলেগাঁও থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা
লোলেগাঁওয়ের ওক, বার্চ, ফার আর সাইপ্রাস গাছে ভর্তি জঙ্গলের মাঝে গিয়ে দাঁড়ালে, দেখতে পাবেন অসংখ্য পায়ে হাঁটা পথ চলে গেছে জঙ্গলের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। জঙ্গলে পা রেখে মনে হবে, বুক ভরে তার সবটুকু সবুজ ধারণ করে নিই। নাম-না-জানা পাখিদের কিচিরমিচির আর ছোটো পোকাদের আওয়াজ ছাড়া কানে আসবে না কিছুই। যেন সমগ্র বনাঞ্চল জুড়ে বিছিয়ে রয়েছে এক অসীম শান্তি। আপনার ঘা ঘেঁষে উড়ে বেড়াবে লাল নীল প্রজাপতি। গাছের পাতায় বাধা পেয়ে অপরূপ আলো-ছায়ার খেলায় মেতে উঠবে সূর্যকিরণ। প্রতিটি পদক্ষেপে আপনার জন্য নতুন কোন আশ্চর্য নিয়ে অপেক্ষা করবে লোলেগাঁও-এর জঙ্গল।

লোলেগাঁও ইকো পার্ক
লোলেগাঁও পৌঁছে এখানকার ইকো পার্কে পা রাখলেই আপনাকে অভ্যর্থনা জানাবে একটি অতিকায় বুদ্ধ মূর্তি। ইকো পার্কের মুখোমুখি অপেক্ষাকৃত সমতল ভূমিতে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছো্টো দোকান। কোনোটায় গণগণে আঁচে দুধ-চা ফুটছে। কোথাও বা টুকিটাকি হস্তশিল্পের সম্ভার সাজিয়ে বসেছে কেউ। কাছেই রয়েছে একটি বাজার, যেখান জমিয়ে কেনাকাটা করতে পারেন কিংবা পেটপুরে খেতে পারেন মোমো, থুকপা আর কফি।
দি লোলেগাঁও-এ একাধিক দিন কাটানোর পরিকল্পনা নিয়ে আসেন, তাহলে যে কোনোদিন ভোরবেলা উঠে, ট্রেক করে পৌঁছে যেতে পারেন ঝান্ডি দারা-এ।

ঝান্ডি দারা ভিউ পয়েন্ট
লোলেগাঁও-এর গা ঘেঁষে অবস্থান করছে ঝান্ডি দারা। ঝান্ডি দারা থেকে লাভার দূরত্ব ৫২ কিলো মিটার, দার্জিলিং-এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার এবং কালিম্পং-এর দূরত্ব ৩১ মিটার। ঝান্ডি দারা-এ দাঁড়িয়ে আপনি একই সঙ্গে দেখতে পাবেন ডুয়ার্স, দার্জিলিং, কালিম্পং, কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং নাথুলা। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দেখতে পাওয়া যাবে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল, এবং মাউন্ট এভারেস্টের বরফাবৃত শৃঙ্গের অসামান্য প্যানোরামিক ভিউ। যদি লোলেগাঁও-এ একাধিক দিন কাটানোর পরিকল্পনা নিয়ে আসেন, তাহলে যে কোনোদিন ভোরবেলা উঠে, ট্রেক করে পৌঁছে যেতে পারেন ঝান্ডি দারা-এ। এখানে দাঁড়িয়ে দেখা সূর্যোদয়টি যে আজীবন আপনার মনে রয়ে যাবে, তা আর বলবার অপেক্ষা রাখে না।
এখানকার মনমুগ্ধকর আকর্ষণগুলির মধ্যে অন্যতম হল ভিআইপি বাংলো ভিউ পয়েন্ট। বাংলোর সামনের বেশ কিছুটা অঞ্চল জুড়ে বিছিয়ে রয়েছে নরম সবুজ ঘাসজমি। এখানে দাঁড়িয়েও কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখতে পাওয়া যায়।

সামথার প্লেট্যু
প্রত্যেক পাহাড়প্রেমী মানুষের জীবনে একবার অন্তত লোলেগাঁওয়ের সামথার প্লেট্যু থেকে ঘুরে আসা উচিত। হিমালয়ের পাদদেশে, সমুদ্রগর্ভ থেকে ১,৪০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত সামথার প্লেট্যুতে একাধারে রয়েছে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত ঘাসজমি আর পাহাড়ের বুক চিরে বেরিয়ে আসা অগভীর ঝর্না। এরই মাঝে মাঝে চোখে পড়ে খড়ের ছাউনিওয়ালা কুঁড়ে, স্থানীয় অধিবাসীদের বাসস্থান। প্রকৃতিবীদ ও পক্ষীবিশারদদের অন্যতম পছন্দের জায়গা এই সামথার প্লেট্যু। যদি মনে খানিক অ্যাডভেঞ্চারের শখ থাকে, তাহলে জোর দিয়ে বলা যায়, লোলেগাঁও থেকে সামথার পর্যন্ত ট্রেক করবার প্ল্যানটা একেবারে তালিকার শীর্ষে থাকবে আপনার।
কীভাবে যাবেন
শিলিগুড়ির বাগডোগরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হল লোলেগাঁও-এর সবথেকে নিকটবর্তী বিমানবন্দর। এখানকার নিকটবর্তী ট্রেন স্টেশন হল নিউ জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি থেকে খুব সহজেই কালিম্পং ও লাভা হয়ে লোলেগাঁও আসা যায়। সড়ক পথে শিলিগুড়ি ভায়া কালিম্পং এবং লাভা হয়েও আসা যায়।
কোথায় থাকবেন
লোলেগাঁও-এর ঘন সবুজ বনাঞ্চলের মাঝেই অবস্থিত WBFDC অধিকৃত লোলেগাঁও ইকো ট্যুরিজম রিসোর্ট। উন্নতমানের থাকবার ব্যবস্থা এবং সুস্বাদু খাবার ছাড়াও এখানে রয়েছে সন্ধেবেলা রিসোর্টের বাগানে ক্যাম্পফায়ারের ব্যবস্থা।
