
শিলিগুড়ির সুকান্তনগর এলাকার লাফিং ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ৬০-এর বেশি
শিলিগুড়ির সুকান্তনগর এলাকার লাফিং ক্লাব। এই লাফিং ক্লাবের সদস্য এই মুহূর্তে ৬০-এর কিছু বেশি। ভোর ছ’টা বাজলেই সসদ্যরা মাঠের মধ্যে সবাই জড়ো হয়ে যান। চারিদিকে উদ্দাম হাঃ হাঃ হিঃ হিঃ আওয়াজ। তাঁরা হাসছেন, প্রাণ খুলে হাসছেন। দুই হাত শূন্যে তুলে প্রত্যেকে ভোরের শুদ্ধ হাওয়ায় হাসতে হাসতে মাতিয়ে তুলছেন চারপাশ। একদিন দুইদিন নয়, টানা ২২ বছর ধরে শিলিগুড়ির সুকান্তনগর কুণ্ডু পুকুর মাঠে এভাবেই চলছে হাসির আড্ডা। উদ্দেশ্য একটাই, শরীর সুস্থ রাখা, মন সতেজ আর চাঙ্গা রাখা। স্পন্ডালাইটিস-সহ অন্য ব্যথা শরীর থেকে দূরে রেখে শরীরকে চাঙ্গা রাখাই এই হাসির ব্যায়াম করার মূল লক্ষ্য।
১৯৯৭ সালে যখন এই ক্লাব শুরু হয়, তখন এর সদস্য ছিল প্রায় ৮০ জন। পরে বয়সজনিত কারণে সদস্য সংখ্যা কিছু কমে যায়। শিশু থেকে ৯০ বছরের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এই ক্লাবের সদস্য হতে পারেন। শিলিগুড়ির রবীন্দ্রনগর, সুভাষপল্লী, হাকিমপাড়া, চয়নপাড়া থেকে বহু মানুষ, বিশেষ করে পঞ্চাশোর্দ্ধ মানুষেরা এখানে ভোর হলেই ভিড় করেন। ভোর ছ’টা থেকে সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত হাসির নানান ব্যায়ামের সঙ্গে হাত-পায়ের নানারকম ব্যায়াম হয়। সঙ্গে চলে প্রাণায়াম। সপ্তাহে দুই দিন হয় যোগাসন। ক্লাবের সভাপতি প্রদ্যোৎ কুমার দেব জীবনবিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক। তিনি বঙ্গদর্শনকে জানান, “এই লাফিং থেরাপি এবং অন্য ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। মূলত বাম ও ডান দিকে হস্ত সঞ্চালনের বিভিন্ন ব্যায়ামই এখানে হয়। প্রতিদিন ৪০-এর বেশি সদস্য হাজির হন এই আসরে। খরচ বলতে মাসে মাত্র কুড়ি টাকা সদস্য চাঁদা।”

ভোরে সবাই ক্লাবে উপস্থিত হয়ে নিজেদের মধ্যে হাসি মুখে কুশল বিনিময় করেন। ক্লাবের সসদ্যরা বলেন এখানে এসে নাকি তাঁরা পারিবারিক সমস্যা ভুলে যান। মনটা ভালো থাকে, এনার্জি আসে। প্রদ্যোৎবাবুর বয়স ৭৯ বছর। তিনি স্পন্ডালাইটিসের জন্য ঘাড় ও হাতের ব্যথায় ভুগছিলেন। এখন আর সেই ব্যথা নেই। ক্লাবের সহ-সভাপতি মায়া দেব বলেন, তিনি বাতের ব্যথায় ভুগছিলেন। লাফিং ক্লাবে এসে তিনি এখন ভালো আছেন। শ্যামল কুমার দেব ও গণেশচন্দ্র দাস বলেন, স্পন্ডালাইটিস-সহ অন্য ব্যথা তাঁদের কমেছে লাফিং ক্লাবের মাধ্যমে। মনও ভালো থাকছে। হাত দু’টোকে বামদিক, ডানদিক, উপর-নিচে নানাভাবে নাড়াতে হয়। সঙ্গে হাসির তিন রকম থেরাপি। মানুষ এখন হাসতে ভুলে যাচ্ছেন। সারাদিনের ব্যস্ততায় বেড়ে চলেছে মানসিক অসুখ, বাড়ছে ডিপ্রেশন। ওষুধ খেতে খেতে অনেকের প্রাণ ওষ্ঠাগত। লাফিং থেরাপি কিন্তু সেখানে বিরাট ওষুধ। সমাজের সববয়সী মানুষদের এই সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত। লেখার শেষে বারবার মনে পড়ছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রহাসিনী’ নামক সেই বিখ্যাত ছড়াটি-
ldquo;এত বুড়ো কোনোকালে হব নাকো আমি/ হাসি-তামাশারে যবে কব ছ্যাব্লামি।/ এ নিয়ে প্রবীণ যদি করে রাগারাগি/ বিধাতার সাথে তারে করি ভাগাভাগি/ হাসিতে হাসিতে লব মানি।”
