দেখনদারি নয় সে নিছক, স্বাদবাহারিও বটে
শীতের শেষপাত। এখনো অবশ্য বাজার থেকে বাড়িতে কড়াইশুঁটির ঝাঁক ঢোকা বন্ধ হয়নি। সক্কাল সক্কাল জলখাবারে গরম কড়াইশুঁটির কচুরি। উফ, শুনেই জিভে জল। কিন্তু, কচুরি তো আমাদের ঘরে ঘরে হয়। কড়াইশুঁটিকে আর কীভাবে ব্যবহার করা যায় বলুন তো রান্নায়? অন্তত আট-দশটা পদ মনে পড়ছে তো? কিন্তু ভেবে দেখুন, এর প্রায় প্রতিটাতেই কড়াইশুঁটি নেপথ্যশিল্পীর ভূমিকায়। প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ সে বিশেষ পায় না।
আরও পড়ুন
সাতক্ষীরার গোপন স্বাদের রং রেশরাঙায়
শীত পুরোপুরি গুটিয়ে যাওয়ার আগেই আজ তাই একটা মজার পদ। এবং মিষ্টির পদ। কড়াইশুঁটির সন্দেশ। দরকারে, কড়াইশুঁটির কচুরি, আলুর তরকারির ঝাল যুগলবন্দির শেষেও রাখা যায় মুখমিষ্টির এই পদ। কিংবা ধরুন বাড়িতে অতিথি এসেছে। চমকে দিতে নিজের হাতেই বানিয়ে ফেললেন সন্দেশ। তাও আবার সবুজ কড়াইশুঁটি দিয়ে। দেখেই যে পরিমাণ মুগ্ধ হবেন অতিথিরা, তাতেই অর্ধেক পরিশ্রম সার্থক। আর, বাকিটুকু সার্থক হবে এই সন্দেশ মুখে দেওয়ার পর। কড়াইশুঁটি, খোয়া ক্ষীর, বাদামের অসামান্য সমাহার যাকে বলে। সঙ্গে সামান্য এলাচগুঁড়ো। তাতে, গন্ধটা খোলতাই হয়। মিষ্টিভক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই, জিভে এমনিতেই অনেকদিন লেগে থাকবে এই স্বাদ।
তবে হ্যাঁ, এই সন্দেশ বানানোর আগে রেসিপিটা মন দিয়ে পড়া জরুরি।

উপকরণ:
কড়াইশুঁটি- ১৫০ গ্রাম
ক্ষোয়া ক্ষীর- ১০০ গ্রাম
চিনি- ৭৫ গ্রাম
কনডেন্সড মিল্ক- ৫ চামচ ( না থাকলে দুধ ১০০ মিলি দিতে হবে, আর চিনির মাপটা বেশি হবে সেক্ষেত্রে)
আমন্ড বাদাম- ৮-১০টা
গুঁড়োদুধ- ২ চামচ
ঘি- ৪ চামচ
এলাচগুঁড়ো- সামান্য
প্রণালী-
কড়াইশুঁটিগুলো ছাড়িয়ে প্রথমে গরম জলে সিদ্ধ করে নিন। তারপর, মিক্সারে বা শিলনোড়াতে প্রয়োজনমতো জল যোগ করে পিষে নিন। একটি কড়াইয়ে তিনচামচ ঘি গরম করে কড়াইশুঁটির বাটাটা দিয়ে এবারে অন্তত মিনিট পনেরো ভালো করে নাড়তে থাকুন। তারপর, খোয়া ক্ষীর দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরই সঙ্গে গুঁড়ো দুধ ও কনডেন্সড মিল্কও দিয়ে দিন এবং ভালো করে মেশান। সব শেষে, চিনি ও এলাচগুঁড়ো যোগ করুন ও নাড়তে থাকুন।
ভালো করে সব জিনিস মেশানোর পর গ্যাস বন্ধ করে নামিয়ে নিন ও সামান্য ঠান্ডা হতে দিন। একটি থালায় ঘি মাখিয়ে মিশ্রণটি হাত দিয়ে সমান করে দিন। উপর দিয়ে আমন্ড কুচি করে কেটে ফ্রিজে দুই ঘন্টা রেখে দিন। তারপর, ঠান্ডা হলে যেমন খুশি আকার দিন ও পরিবেশন করুন কড়াইশুঁটির সন্দেশ।