দেশভাগের আগে থেকেই জনপ্রিয় কমলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার

ঢাকা বিক্রমপুর থেকে দুই ভাই এসে দোকান শুরু করেন

একটা সময় ছিল যখন বাঙালি সমাজে এখনকার মতো এত বেশি মিষ্টি খাওয়ার চল ছিল না। তখন মূলত পুজোর প্রসাদে কিংবা উৎসবের আনন্দ সেলিব্রেট করতে মিষ্টি কিনতেন আমবাঙালি। মিষ্টির দোকানগুলোর ঠাকুর দেবতার ছবি ছিল মাস্ট এবং কোনো দেবদেবীর নাম থেকেই দোকানগুলোর নামকরণ হত। শেয়ালদা অঞ্চলটি একসময় ছিল খুব সাধারণ খেটে খাওয়া লোকদের আবাস। স্টেশনের কাছাকাছি জায়গাগুলোতে নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গরিব মানুষরা দিন গুজরান করতেন। বৈঠকখানা বাজারে ছিল ঘনবসতি। বিভিন্ন প্রদেশের লোক বিশেষ করে গরিব লোকেরা স্টেশন চত্বরে ভিড় করে থাকতেন। খিদে মেটানোর জন্য মিষ্টি কিনে খাওয়ার ক্ষমতা খুব কম লোকেরই ছিল, তবুও সেই সব গরিব-গুর্বো মানুষদের মিষ্টি চেখে দেখার অন্যতম জায়গা ছিল কমলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার।

কথাগুলো বলা দরকার, তার কারণ, শেয়ালদা অঞ্চলে অন্যতম পুরনো মিষ্টির দোকান, যা আজও স্বমহিমায় রয়েছে তার নাম কমলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। ১৯৩৯ সালে ঢাকা বিক্রমপুর থেকে দুই ভাই পরেশনাথ ভদ্র এবং অবিনাশচন্দ্র ভদ্র এই দোকান শুরু করেন। শেয়ালদা অঞ্চলে নোনতা এবং মিষ্টি খাবার বসে খাওয়ার জন্য সুস্থ পরিবেশ হিসেবে এই দোকানটি বিশেষ পরিচিত। দোকানের মধ্যে পুরনো দিনের মতো রয়েছে অনেক দেবদেবীর ছবি, যা এখনকার মিষ্টির দোকানে খুব একটা দেখা যায় না। একটা পুরনো নস্টালজিক ফিল হবে আপনাদের। সামনে থরেথরে প্রচুর লোভনীয় মিষ্টি সাজানো। ‘বঙ্গদর্শন’-এর প্রতিনিধিকে এখনকার মালিক অমৃতলাল ভদ্র জানালেন, তাঁদের দোকানের কমলাভোগ আর মালাই চমচম মিষ্টির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। নোনতা খাবারের মধ্যে রাধাবল্লভী আর সিঙ্গারা খেতে ভিড় করেন প্রচুর মানুষ।

সন্ধেবেলায় দেখা গেল নানা ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক লোক শালপাতায় রাধাবল্লভী, শিঙাড়া অথবা মিষ্টি নিয়ে চেয়ার টেবিলে বসে তৃপ্তি করে খাচ্ছেন। এঁদের মধ্যে অফিস ফেরত মানুষ যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে বেরনো লোকেরাও। অমৃতলাল বাবুর পুত্র অপূর্বকুমার ভদ্রও ব্যবসা দেখাশোনা করেন। অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন এবং শেয়ালদা অঞ্চলের সব মানুষের কাছেই অত্যন্ত জনপ্রিয় দোকান এই কমলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। ঠিকানা হল, .৪ নম্বর, মহাত্মা গান্ধী রোড। শেয়ালদা ফ্লাইওভার এর গায়ে। যদি কখনও শেয়ালদা আসেন এবং দেখেন ট্রেন ধরার আগে কিছুটা সময় আছে, অবশ্যই তাহলে একবার কমলা মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে বসে মিষ্টি খাবেন এবং নিয়ে যাবেন বাড়িতে। প্রতিবেদক নিজে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলেছেন। 

Developed by DXDasia