অভ্র চক্রবর্তীর ‘জীবিত ও মৃত’ দেখানো হল কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটোগল্প ‘জীবিত ও মৃত’ অবলম্বনে তরুণ পরিচালক অভ্র চক্রবর্তী নির্মাণ করেছেন ছোটোছবি। যার প্রথম স্ক্রিনিং হল ২৬তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ইন্ডিয়ান শর্ট ফিল্মের কম্পিটিশন বিভাগে। রবীন্দ্রনাথের এই গল্পটিকে নিজের মতো ভেঙেচুরে গড়েছেন অভ্র৷ বর্তমান প্রাসঙ্গিক পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে এসেছেন তিনি।
‘জীবিত ও মৃত’ আসলে শহরতলি থেকে উঠে আসা একজন মডেলের গল্প। যে কাদম্বিনী চরিত্রে অভিনয় করতে চায়। সেই ইচ্ছা নিয়েই একদিন চলে যায় বিখ্যাত পরিচালকের বাড়ি। তারপর সমস্ত প্রতিকূলতা এবং জীবনে চলার পথে লড়াই। নানান ঘটনা পরম্পরায় এগিয়েছে এই ছবি।
দৃশ্য বোঝাচ্ছেন পরিচালক
পরিচালক অভ্র চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘জীবিত ও মৃত’ একটা জার্নির গল্প। রবীন্দ্রনাথের ছোটোগল্পে কাদম্বিনীকে মরে প্রমাণ করতে হয়েছিল যে সে মরেনি। সেই গল্পটা পড়ে চুঁচুড়ার মেয়ে গায়েত্রী মনে মনে নিজেকে কাদম্বিনীর জন্য তৈরি করছিল। তার সুপ্ত ইচ্ছে ছিল কখনও ‘জীবিত ও মৃত’ সিনেমা হলে ও কাদম্বিনীর চরিত্রে অভিনয় করবে। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানতে পারে এক প্রতিষ্ঠিত পরিচালক ছবিটি পরিচালনা করছেন। এরপরেই ছবি এগোয় ক্লাইম্যাক্সের দিকে।
পরিচালক অভ্র চক্রবর্তী
ছবিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিদ্ধার্থ চট্টোপাধ্যায়, মৌলি হালদার, মৌসুমি চক্রবর্তী। একটু একটু করে নিজেই অর্থ জোগাড় করে এই ছবিটি বানিয়েছেন অভ্র। কথাপ্রসঙ্গে তিনি জানান, “স্বাধীনভাবে কাজ করার সাংঘাতিক কিছু রিস্ক আছে, পাশাপাশি আবার মজাও আছে। আমি মজাটাই বেশি উপলব্ধি করি৷ যে কজন দর্শক ছবিটা দেখেছেন, তাঁদের ভালো লেগেছে। আমাদের মতো অসংখ্য মানুষের গল্প বলে এই ছবি।” যারা গ্রাম বা মফস্সল থেকে অনেক স্বপ্ন নিয়ে শহরে আসে এবং অনেকেই শহরের ভিড়ে হারিয়ে যায় কেউবা স্বপ্ন পূরণ করেন— এই ছোটোছবি তাদের জন্যই।
ভালো লেগেছে ছবির চিত্রগ্রাহক শুভদীপ নস্কর এবং সংগীত পরিচালক দিশারী চক্রবর্তীর কাজ।
