ফরাসি উপনিবেশের শতাব্দীপ্রাচীন এই শহরে প্রথমবারের জন্য জগদ্ধাত্রী পুজো জাঁকজমকপূর্ণ হবে না
বাংলার সাড়াজাগানো চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এবছর আর আগের মতো হচ্ছে না। কারণটা অবশ্যই কোভিড-১৯। ফরাসি উপনিবেশের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহাসিক এই শহরে প্রথমবারের জন্য উৎসব জাঁকজমকপূর্ণ হবে না। বেশ কয়েকজন পুজো আয়োজক ভিড় এড়াতে উৎসবের সমস্ত মেজাজ পরিণত করেছেন শুধুমাত্র ঘটপুজোয়।
পর্যটন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী এবং চন্দননগরের বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন, “সমস্ত জায়গাতেই কমবেশি একইভাবে ছোটো করে পুজো হচ্ছে। তবে আমরা যা যা প্রোটোকল নিয়েছি, সবকিছুই অনুসরণ করতে হবে প্রত্যেককে। চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী বিসর্জন দেখার মতো। অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এবার মঙ্গল ও বুধ দুইদিন ধরে বিসর্জন হবে, যদিও তা অন্যান্য বছরের মতো অত রঙিন হবে না।”
জগদ্ধাত্রী পুজো ২০২০, চন্দননগর
আরও পড়ুন: চুঁচুড়ার কবরখানায় এখনও ঘুমিয়ে ওলন্দাজ শাসন
চন্দননগর শহরে প্রায় তিন প্রজন্ম ধরে রয়েছেন এক পুজো কমিটির সদস্য তীর্থঙ্কর দে। তিনি জানাচ্ছেন, “আমাদের বাজেট কমাতে হয়েছে প্রধানত আলোকসজ্জায়। যা চন্দননগরের সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ। আমাদের আলোর কাজ দেখতে প্রতিবছর সারা বাংলার লোকেরা আসেন। কলকাতা হাইকোর্টের আদেশ মাথায় রেখে দর্শনার্থীরা প্যান্ডেলে প্রবেশ করতে পারবেন না। কোভিড-১৯ -এর জন্য অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা মানুষদেরও তাই এবার বিশেষ উৎসাহ দিচ্ছি না।”
জগদ্ধাত্রী পুজো ২০২০, চন্দননগর
চন্দননগরের বহু পুরোনো কিছু পুজো কমিটি, যেমন- মধ্যাঞ্চল, শুকসনাতনতলা, তালপুকুরধার, ফটকগোরার মতো প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন পুজো উদযাপনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি ভদ্রেশ্বর সংলগ্ন অঞ্চলেও একইরকম ছবি। পুষ্পাঞ্জলির জন্য রয়েছে অন্যরকম ব্যবস্থা। পুরোহিতের মন্ত্র পৌঁছে যাবে বাড়ি বাড়ি। পুজো কভারেজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় আলাদা বুস্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।