চারবছর ধরে শিলিগুড়িতে বিনা পয়সায় গাছ বিলি করছেন এই ‘সবুজপ্রেমী গাছকাকু’

নিজস্ব সংগ্রহ থেকে আস্ত নার্সারি তৈরি করেছেন তিনি

নিজেই তিনি ঘুরে ঘুরে নিম গাছের বীজ সংগ্রহ করেন। সংগ্রহ করেন বট, অশ্বত্থ, আম, কাঁঠালের বীজ ও চারা। সেইসব সংগ্রহ থেকেই একেবারে গাছের নার্সারি। যখন যেমন মনে হয় বিলি করতে থাকেন গাছের চারা। যেখানেই কোনও সংস্থা বৃক্ষরোপনের আয়োজন করছে, সেখানেই ডাক পড়ছে তাঁর। তিনি সেসব বৃক্ষরোপনের অনুষ্ঠানে নিজে উপস্থিত থেকে গাছের চারা রোপন তদারকি করেন। এভাবে শিলিগুড়ি ও তার আশপাশে ‘সবুজপ্রেমী গাছকাকু’ হয়ে উঠেছেন মাখন ঘোষ।

শিলিগুড়ির মিলনপল্লীতে বাড়ি মাখন ঘোষের। বয়স ৬০ ছুঁইছুঁই। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয় তাঁর এই গাছের নেশা। নিজের বাড়ির ছাদে তৈরি করেছেন বিশাল বড়ো নার্সারি। সেখানেই শোভা পাচ্ছে ছোটো ছোটো গাছের চারা। তবে নিম গাছের চারাই সেখানে বেশি। প্রথম এক-দুইবছর বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বীজ সংগ্রহ করতে হয়েছে। এখন পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে অনেকটা কমেছে ঠিকই, তবে সকাল, বিকেল, রাত যখনই সময় পান এসব গাছের পিছনে লেগে থাকেন। গাছে জল দেওয়া থেকে শুরু করে গোবর সার দেওয়া, খোল দেওয়া বা পাতা পচানো সার প্রয়োগ করা- সব নিজে হাতে করেন। আবার চারা প্যাকেটিংও করেন নিজে হাতে। এক পয়সা লাভ নেই তাঁর এই কাজে। মাখনবাবুকে যদি প্রশ্ন করা হয় ‘এই নেশা কেন’, উত্তর আসবে ‘ভালোবাসা’। তবে নিম গাছই তিনি বেশি করে বিলি করেন, তার কারণ, নিমগাছ সবসময় অক্সিজেন দেয়। আর বাতাসের দূষিত অংশ বেশি করে শুষে নেয় নিম। নিম পাতা, নিমের ডাল সবই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। সেই কারণে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বেশ কিছু নিমগাছ মাখনবাবু রোপন করেছেন নিজের উদ্যোগে। প্রায় শতাধিক গাছ রোপণ করেছেন এইসব জায়গায়। মাখনবাবুর বাড়িতে কেউ গাছের একটি পাতা ছিঁড়লে তিনি রীতিমতো ঝগড়া শুরু করে দেন। বলেন, “তোমার শরীরে চিমটি কাটলে ব্যথা লাগে না? তবে গাছের পাতা ছিঁড়লে গাছের কষ্ট হয় না বুঝি?”

তাঁর দুঃখ, বহু স্থানে বৃক্ষরোপনের অনুষ্ঠানে তিনি গাছের চারা দেন বিনা পয়সায়। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এটা করেন। কিন্তু লক্ষ্য করছেন, বৃক্ষরোপনের পর খাঁচা দিয়ে সে গাছ ঘিরে দিলেও সে গাছ গরু-ছাগল নাহলে কিছু লোক সকলের গোপনে গাছ নষ্ট করছেন। শিলিগুড়ির পরিবেশপ্রেমী ব্যক্তি দীপজ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, “মাখনবাবুর মতো এরকম গাছপ্রেমী লোক সত্যি অতুলনীয়। আমরাও বৃক্ষরোপনের অনুষ্ঠান করলে মাখনবাবু এসে বিনা পয়সায় গাছের চারা দিয়ে যান।” মাখনবাবুর ছেলে মহুল ঘোষ ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। মহুল জানালেন, “পৃথিবীর যা অবস্থা তাতে গাছ বাঁচানো ছাড়া উপায় নেই। পড়াশোনা শেষ করে আমিও বাবার গাছপ্রেমকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু একটা করতে চাই।”

নিজস্ব চিত্র 

Developed by DXDasia