
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক মাসুদ পথিক বলছেন তাঁর পরবর্তী ছবির কথা
মাসুদ পথিক বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিকার এবং কবি। প্রথম ছবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতার আধারে নির্মিত ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’। প্রথম ছবির জন্য পেয়েছেন ছয়টি জাতীয় পুরস্কার। জীবনানন্দ দাশ থেকে বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান, এঁদের নিয়েও ছবি করতে চান। কাজ শুরু হয়ে গেছে। সেইসব নিয়েই কথা বললেন বঙ্গদর্শনের প্রতিনিধি সুমন সাধু’র সঙ্গে।
• আপনি একাধারে কবি, গীতিকার অন্যদিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা। কবি বলেই কি আপনার ছবিতে কবিতার প্রভাব এত বেশি?
আমি ক্লাস সিক্স থেকে লেখালেখি করছি। আমার যাপনের মধ্যেই কবিতা মিশে আছে। তাই আমার সমস্ত নির্মাণের মধ্যেই কবিতা লুকিয়ে থাকে। প্রত্যেকটা ছবির মধ্যেই চিত্রকল্প আনতে চাই। প্রতিটি ফ্রেম জীবন্ত করে তোলার জন্য। আমার প্রথম ছবি ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতাশ্রিত। এই ছবি ছয়টি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে।

• আপনি ভারতের অভিনেত্রী মুমতাজ সরকারকে নিয়ে ‘মায়া দ্য লাস্ট মাদার’ নামের একটি ছবি করছেন। সেটার কাজ কতদূর?
হ্যাঁ, এই ছবির শুটিং পাঁচমাস আগে শেষ হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস। এইদিন ছবিটি রিলিজের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেহেতু এটা একটা মুক্তিযুদ্ধের গল্প। মুক্তিযুদ্ধ, বীরাঙ্গনা এবং যুদ্ধশিশুকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে এই ছবি। কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আর একটি কথা বলতে চাই, মুমতাজ সরকারের সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। অত্যন্ত শক্তিশালী অভিনেত্রী তিনি। পশ্চিমবাংলায় তাঁকে তেমনভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি একজন গুণী অভিনেত্রী এবং ভালো মানুষ। একসঙ্গে কাজ করে খুবই আনন্দ পেয়েছি।

• পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ছবি আপনার কেমন লাগে? সাম্প্রতিক কিছু দেখলেন?
‘মেঘে ঢাকা তারা’ আমার জীবনে দেখা অত্যন্ত প্রিয় একটি সিনেমা। সম্প্রতি ‘সহজ পাঠের গপ্পো’ দেখেছি। অত্যন্ত ভালো ছবি। আমি আসলে জীবনকে কমার্শিয়ালি বিক্রি করি না। জীবন মানে একটা লড়াই। কত স্ট্রাগল আছে মানুষের। তাই যে সমস্ত ছবিতে জীবন দেখতে পাই না, সেগুলো তেমন টানে না। আর দুই বাংলাকে আলাদা ভাবে দেখি না। ওসব ধর্ম-টর্ম বলে কিচ্ছু নেই। আমরা সবাই এক। তবে এটুকু বলতে পারি আমাদের থেকে পশ্চিমবঙ্গ অনেক বেটার ছবি বানাচ্ছে।

• আপনি দুটো গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে হাত দিয়েছেন। জীবনানন্দ দাশের কবিতা অবলম্বনে ‘লাশকাটা ঘর’ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে একটি বিশেষ কাজ। বিস্তারে বলুন একটু।
আসলে বঙ্গবন্ধু এবং জীবনানন্দ এই দুজনকে নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছি, এখনও করছি। ‘লাশকাটা ঘর’ একটি পরাবাস্তব বায়োপিক। আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ছবিটা পুরোপুরি তথ্যচিত্র নয়। এটা ডকু বায়ো-ফিচার। মুজিবুর রহমান আমাদের মুক্তি দিয়েছেন। যা জীবনের সঙ্গে যুক্ত নয়, তা নিয়ে ছবি করব না। পুরোপুরি কল্পনাকে আমি ঘৃণা করি।
• ইতিমধ্যে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার। এর পাশে আপনার গবেষণা বা নির্মাণ কতখানি আলাদা হবে বলে আপনার আশা?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ সরকার বেশ কয়েকটি ছবি বানাবে। আমার ছবি ওঁদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হবে বলেই বিশ্বাস। এই ছবির সময়সীমা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। বঙ্গবন্ধুর জেলজীবন থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকে গল্প নিয়ে আসা হয়েছে। মোট এগারো জনের গবেষণা টিম রয়েছে। মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আঠেরো বছর গবেষণা করেছি। ছবিটির নাম দিয়েছি ‘দ্য গ্রেট প্রিজনারস বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’। এছাড়াও আমি কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও একটা চব্বিশ মিনিটের তথ্যচিত্র করেছিলাম চার বছর আগে। নাম দিয়েছিলাম ‘আলোর পথের সারথি দেশরত্ন শেখ হাসিনা’। এটি দারুণভাবে পৌঁছে গিয়েছিল মানুষের কাছে। শেখ হাসিনা খুশিতে কেঁদে ফেলেছিলেন।

• ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। দর্শকের প্রত্যাশা অনেকটা বেড়ে যায় এত বড় সম্মান পাওয়ার পর। আপনার কাজ নিয়ে আপনি কতটা খুশি?
আমি এটুকু বলতে পারি যে, চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে প্রতিটা শিল্পীরই দেখার চোখ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায়। নেকাব্বরের থেকে ‘মায়া’ অনেক বেশি আন্তর্জাতিক মানের ছবি। সেটিও মানুষ স্বাদরে গ্রহণ করে নেবেন বলে আমার বিশ্বাস।
ছবি সূত্র- মাসুদ পথিকের ফেসবুক প্রোফাইল
