কৃষিকাজে ঐতিহাসিক মাইলফলক : ধান উৎপাদনে রেকর্ড গড়লো পশ্চিমবঙ্গ

ধানচাষে বাংলার গরিমা ফিরিয়ে আনছেন কৃষকরা

৫৬.৫৩ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন মোটেই সহজ ব্যাপার না! কৃষিকাজে ঐতিহাসিক মাইলফলক তো বটেই! কোটি কোটি মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে এই কঠিন কাজটাই করে দেখিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষকবন্ধুরা। ধানচাষে বাংলার অবস্থানকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন তাঁরা। দেশের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ধান উৎপাদক রাজ্য হিসেবে উঠে এসছে এই রাজ্যের নাম। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪-২৫ সালে বাংলার কৃষকরা যে পরিমাণ ধান ফলিয়েছেন, তা আর কোনও বছরেই হয়নি।

ধান উৎপাদনে তার গরিমা ফিরে পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে বাংলার কৃষকদের অভিবাদন জানিয়ে উল্লেখ করেছেন, “কৃষকরা জাতির মেরুদণ্ড, তাঁদের অবদান অতুলনীয়।”

প্রকৃতির সঙ্গে বোঝাপড়া করে, বহু যত্নে-পরিশ্রমে ধরিত্রীকে শস্য-শ্যামলা করে তোলেন কৃষকরা। বিগত বছরগুলিতে ঘূর্ণিঝড় দানা এবং বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার মতো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও, কৃষকবন্ধু, বাংলা শস্য বীমা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, খাজনা মওকুফ, সুফল বাংলা এবং নিশ্চিত ক্রয়ের মতো সরকারি জনহিতকর নীতি কৃষকদের মনোবল ভাঙতে দেয়নি। উপরন্তু, ধান উৎপাদনে তার গরিমা ফিরে পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে বাংলার কৃষকদের অভিবাদন জানিয়ে উল্লেখ করেছেন, “কৃষকরা জাতির মেরুদণ্ড, তাঁদের অবদান অতুলনীয়।”

প্রসঙ্গত, বাংলায় একসময় প্রায় ৫০০ প্রজাতির দেশি ধানের চাষ ছিল। জলকামিনী, জামাইশাল, কবিরাজশাল, ঝিঙাশাল, আলতাপাটি, রূপশাল, সীতাশাল, দাঁড়শাল, রাবণশাল, বোরমাসা, রক্তশালী, খেজুরছড়ি, তিন সতীন, ফুলমতি। বিপুলা বঙ্গের বুকে একসময় নিয়মিত চাষ হত এই সব ধানের। যার অনেকগুলো আজ বিলুপ্ত হলেও বেশ কিছু পুনর্জন্ম পেয়েছে সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগ-তৎপরতায়। তবে মনে করা হচ্ছে, ২০১১ সাল থেকে কৃষি উৎপাদনশীলতায় বাংলা এক বিরাট পরিবর্তন দেখেছে। ভুট্টা, ডাল, তৈলবীজ, দেশি ও সুগন্ধি ধান চাষ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
 

Developed by DXDasia