রবীন্দ্রনাথ বুঝেছিলেন কৃষিকাজই মূল ভিত্তি, হলকর্ষণ উৎসব পূর্ণ করল ৯৬ বছর

শ্রীনিকেতনে মানুষদের কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে কবিগুরু শুরু করলেন হলকর্ষণ উৎসব

৯২২ সালে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, “ফিরে চল মাটির টানে/ যে মাটি আঁচল পেতে চেয়ে আছে মুখের পানে”। এই গানের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বারবার বোঝাতে চেয়েছেন বুক ফেটে প্রাণের কথা কিংবা ফুল ফোটার কথা। এই ১৯২২ সালেই গ্রামীণ মানুষের জীবনচর্চা ও কৃষির উন্নতিতে শান্তিনিকেতনের অদূরে তিনি স্থাপন করেন শ্রীনিকেতন। 

১৯২২ সালে গ্রামীণ মানুষের জীবনচর্চা ও কৃষির উন্নতিতে স্থাপিত হল শ্রীনিকেতন

সুরুলের কুঠিবাড়িকে ঘিরে শুরু হল গ্রামোন্নয়নের কাজ। এমনকি পুত্র রথীন্দ্রনাথকে বিলেতে পাঠালেন বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে উন্নত প্রযুক্তির কৃষিকাজের পাঠ নিতে। সেই সঙ্গে শুরু হল কৃষিকাজে উৎসাহ দেওয়ার কাজ। 

শ্রীনিকেতনে মানুষদের কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে শুরু হল হলকর্ষণ উৎসব

সাল ১৯২৮৷ শ্রীনিকেতনে মানুষদের কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে শুরু করলেন হলকর্ষণ উৎসব। কবিগুরু নিজের হাতে হাল চালনা করেছিলেন। মন্ত্রোচ্চারণ করেছিলেন ক্ষিতিমোহন সেন। 

২৩ শ্রাবণ শ্রীনিকেতনে হলকর্ষণ উৎসব পালন করা হয়

সেই দিনটিকে স্মরণ করে আজও চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী হলকর্ষণ উৎসব পালন করে আসছে শ্রীনিকেতনবাসী। আগে বর্ষার সময় যে কোনওদিন হলেও রবীন্দ্র তিরোধানের পর প্রতি বছর ২৩শে শ্রাবণ শ্রীনিকেতনে এই হলকর্ষণ উৎসব পালন করা হয়। অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পরের দিন। 

স্মরণ করা হয় বাংলার প্রতিটি কৃষক ভাই-বোনদের

এই বছর সংকটজনক পরিস্থিতির জন্য জমায়েত করে এই উৎসব পালন করা যাচ্ছে না৷ তবে, যে যার মতো আজকের দিনটি স্মরণ করছেন তাঁরা। স্মরণ করছেন বাংলার প্রতিটি কৃষক ভাই-বোনদের।

__________________

ছবি: তন্ময় চ্যাটার্জি

Developed by DXDasia