বায়ুদূষণ আটকাতে পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানা জুড়ে ত্রিস্তরীয় সবুজ প্রাচীর

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবুজ উদ্যোগ

সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফিয়ার সায়েন্স ও আইআইটি (দিল্লি)-র গবেষণা থেকে জানা গেছে, গাঙ্গেয় সমতলভূমির শেষ প্রান্তে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান হওয়ায়, প্রতিবেশী রাজ্য থেকে বয়ে আসা দূষিতকণা এ রাজ্যের বায়ুকে দূষিত করছে। সেই দূষিত বায়ু আটকাতেই পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে ত্রিস্তরীয় সবুজ প্রাচীর। প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (ডব্লিউবিপিসিবি) এবং সহযোগিতায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগম। সারা দেশের মধ্যে একমাত্র পশ্চিমবঙ্গই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মনে করা হচ্ছে এই সবুজ প্রাচীর সম্পূর্ণ হলে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে বায়ুদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমবে।

পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম— এই চারটি জেলায় প্রায় ৭৯৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সবুজ প্রাচীর গড়ে উঠছে। প্রাচীরটি ত্রিস্তরীয় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে, যাতে দূষণ প্রতিরোধের পাশাপাশি জীববৈচিত্র রক্ষা করা যায় ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।

পরিবেশবিদদের দাবি, ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে একাধিক ক্ষতিকর দূষক পদার্থ পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়াচ্ছে। শিল্পাঞ্চল ও খনি অধ্যুষিত ঝাড়খণ্ড থেকে আসা ধূলিকণা ও দূষিত বায়ুর প্রবাহ কমাতেই এই সবুজ উদ্যোগ  নিয়েছে রাজ্য। বায়ুদূষণ প্রতিরোধে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ নিয়ে রোপণ-কর্মী দেবদ্যুতি সাউ জানিয়েছেন “পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড বর্ডারের কাছে আমরা চারটে গ্রাম নিয়ে (৭ কিমি জায়গা জুড়ে) মোট ৭০০০ গাছ লাগিয়েছিলাম। সেইসব গাছ এখন চারা থেকে বেশ খানিকটা বড়ো হয়ে গেছে। আশা করা যাচ্ছে এর মাধ্যমে অনেকটাই দূষণ-প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।”

 

পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম— এই চারটি জেলায় প্রায় ৭৯৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সবুজ প্রাচীর গড়ে উঠছে। প্রাচীরটি ত্রিস্তরীয় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে, যাতে দূষণ প্রতিরোধের পাশাপাশি জীববৈচিত্র রক্ষা করা যায় ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে। প্রথম স্তরে ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ, দ্বিতীয় স্তরে মাঝারি উচ্চতার গাছ এবং তৃতীয় স্তরে দীর্ঘায়ু ও বৃহদাকার বৃক্ষ রোপণ করা হচ্ছে। এই সবুজ প্রাচীর প্রকল্পে যে সব গাছ লাগানো হচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নিম, অর্জুন, করঞ্জ, জাম, পেয়ারা, কল্কে ও শিশু। এই গাছগুলি বায়ু থেকে ধূলিকণা ও ক্ষতিকর গ্যাস শোষণে বিশেষ ভাবে কার্যকর। পাশাপাশি এই প্রজাতির গাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে, জলধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

স্থানীয় মানুষদের এই কাজে যুক্ত করে এক দিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা করা হচ্ছে, তেমনই অন্য দিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
 

Developed by DXDasia