ভারতের প্রথম বায়ুদূষণ বিরোধী আইন চালু হয়েছিল কলকাতায়!

১৮৭৮-৭৯ নাগাদ শীতকালে আবার ঘনিয়ে আসে বিপদ, ধোঁয়ায় ঢেকে যায় কলকাতার বাতাস

লকডাউনের সময় দূষণ কমে যাওয়াতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন অনেকেই। কালীপুজো-দীপাবলিতে বাতাস যথেষ্ট নির্মল ছিল কলকাতায়। কিন্তু তারপর ছবি বদলাতে থাকে। শীতকালে ধোঁয়াধুলো বাড়ছে। অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন শহরবাসী। শুনলে বহু লোক অবাক হবেন, ভারতের প্রথম বায়ুদূষণ বিরোধী আইন চালু হয়েছিল এই মহানগরে। সারা পৃথিবীর নিরিখে দ্বিতীয়।

তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বিদায় নিয়েছে। রানি ভিক্টোরিয়ার সরকার নিজের হাতে তুলে নিয়েছে ভারতের শাসনভার। ভারতের রাজধানী কলকাতাকে মনের মতো করে বানাতে চেয়েছিলেন ইংরেজরা। শিল্পবিপ্লবের রেশ ধরে এখানেও কারখানা চালু হয়। তারপর আসে রেল ব্যবস্থা। ১৮৫৫ সালে কলকাতা থেকে রানিগঞ্জের কয়লাখনি পর্যন্ত রেলপথ বসে গেল। কয়লার জ্বালানি কাজে লাগত পাটশিল্পে। হুগলি নদীর দুই ধারে একের পর এক পাটকল গড়ে উঠতে থাকে। 

প্রথম দিকে জ্বালানি হিসেবে কলকাতায় ভরসা ছিল কাঠ, ঘুঁটে আর উদ্ভিজ্জ তেল। কয়লা এসে যেন যুগান্তর ঘটাল। তবে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকল দূষণ। ধোঁয়ার দাপটে নাজেহাল সবাই। মহানগরের এলিট ইংরেজ এবং ধনী বাঙালিরা শেষ পর্যন্ত সরকারের দ্বারস্থ হলেন। ১৮৬৩ সালে পাশ হল নতুন আইন – The Calcutta and Howrah Smoke-Nuisances Act। বছর দশেক আগে লন্ডনে ইতিমধ্যেই লাগু হয়েছে এমন আইন। বাতাস থেকে বিষ কমিয়ে ফেলার সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ মনে করা হয়েছিল তাকে।

১৮৭৮-৭৯ নাগাদ শীতকালে আবার ঘনিয়ে আসে বিপদ। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় কলকাতার বাতাস। অনেকটা এই সময়ের দিল্লির মতো। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক বিশেষ ইনস্পেকটর নিয়োগ করে ব্রিটিশ সরকার। তিনি কারখানার বয়লারে নজরদারি চালাতেন। চিমনির ধোঁয়া পরীক্ষা করতেন। আইন ভাঙলে মিল ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন। 

লর্ড কার্জন ১৮৯৯ নাগাদ কলকাতার পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। ১৯০৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের বক্তৃতায় ধোঁয়া কবলিত শহর নিয়ে তিনি বলেন, “মাঝেমাঝে আমরা ভুলে যাই, এই শহর সারা এশিয়ায় আমাদের রাজধানী। এখানে দুপুরের আকাশ ঢেকে যায় আলকাতরায়। সূর্যাস্তের সময় বিষাদ ঘনিয়ে আসে। কলকাতা দেখলে এখন বিরক্ত হই। যেন আগুনের শিখাকে আড়াল করেছে ঝুল আর ধোঁয়া। আপনাদের জানিয়ে রাখি, মুশকিল আসান করতে ইংল্যান্ড থেকে একজন বিশেষজ্ঞ আসছেন। তিনি এখন সমুদ্রপথে। আমাদের পরামর্শ দেবেন, কীভাবে এই ভয়াবহ বিপদ কাটিয়ে ওঠা যায়।” এভাবেই ১৯০৫ সালে চালু হয় The Bengal Smoke Nuisances Act।  

Post Tags
Developed by DXDasia