
স্বনির্ভরতার জন্য বাঁশের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির ওপর জোর দিচ্ছেন গর্জেনবাবু
করোনার জেরে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়েছেন উত্তরবঙ্গের প্রাচীন জনজাতি ধীমাল সম্প্রদায়। শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ির মাল্লাবাড়ি কেটুগাবুরজোত এলাকায় কিছু ধীমাল জনজাতি বসবাস করেন। এই ধীমালদের প্রাণপুরুষ অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গর্জেন কুমার মল্লিক। অবসর সময়ে এখন গর্জেনবাবু বাঁশের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির কাজ শিখছেন।
ইউটিউব থেকে তিনি শিখছেন ফুলদানি, মগ, কাপ তৈরি করা। গর্জেনবাবু বলেন, করোনা লকডাউনের সময় বহু ধীমাল যুবক ভিন রাজ্য থেকে কাজ ছেড়ে নিজেদের গ্রামে চলে এসেছেন। তাঁরা এখনও আর কাজে ফিরে যাননি। আবার এখানেও নতুন করে কাজ পাচ্ছেন না। ফলে সেই সব পরিবার আর্থিকভাবে আরও চাপে পড়েছে। তাই প্রত্যেকের কথা চিন্তা করে স্বনির্ভরতার জন্য বাঁশের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির ওপর জোর দিচ্ছেন গর্জেনবাবু।
তিনি এই হস্তশিল্পের কাজ প্রথমে শেখাচ্ছেন তাঁর স্ত্রীকে। স্ত্রী আবার গ্রামের অন্য মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেবেন। একইসঙ্গে ধীমাল সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখার জন্য মহিলাদের টিমকে আরও জোরদার করে তোলা হচ্ছে। গর্জেনবাবু তাঁর স্ত্রীকে ধীমাল ভাষার বিভিন্ন সংগীতও শিখিয়ে চলেছেন যাতে ধীমাল সংস্কৃতি সংরক্ষণের কাজ আরও জোরদার হয়। অন্যদিকে ধীমাল জনজাতির ওপর বই লেখার কাজেও হাত দিয়েছেন তিনি। অনগ্রসর ধীমাল সম্প্রদায় করোনার জেরে পিছিয়ে পড়াতে নেপাল সীমান্ত ঘেঁষা পাহাড় নদীর ধারে ধীমাল গ্রামে হোম স্টে এবং পিকনিক ট্যুরিজমের কথাও বলছেন গর্জেনবাবু। তিনি বলছেন, সুন্দর পাহাড় নদী ঘেরা ধীমাল গ্রামে হোম স্টে এবং পিকনিক স্পট তৈরি হলে বহু পর্যটক আসবেন। সেই সব পর্যটকদের সামনেও ধীমাল ছেলেমেয়েরা তাদের সংস্কৃতি মেলে ধরতে পারবে আর তাতে তাদের কিছুটা আর্থিক মুনাফাও হবে।
নকশালবাড়ির ধীমাল সম্প্রদায়ের প্রাণপুরুষ গর্জেন কুমার মল্লিক বাঁশ দিয়ে হাতের কাজ তৈরিতে ব্যস্ত। গ্রামে রয়েছে অনেক বাঁশ বন, সেখান থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে তার সাহায্যে অনেক হস্তশিল্প তৈরি করা সম্ভব আর সেই হস্তশিল্প তৈরিতেই তিনি মগ্ন। তাঁর মতে এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকট কিছুটা মেটানো সম্ভব। করোনার পর অনেক ধীমাল পরিবারে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। যদিও করোনাতে সেখানে মৃত্যুর কোনও খবর নেই।

