কালো মানিক খ্যাত ব্রাজিলের পেলে ছিলেন ফুটবলের সম্রাট
পেলে (Pelé) — ব্রাজিলের জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও তিনবার বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র ফুটবলার। তাঁর জাদুকরী পা — কোটি কোটি মানুষ সে পা ছুঁতে পারলে যেন শান্তি পায়। আক্ষরিক অর্থে ফুটবলের ঈশ্বর। তাঁর প্রয়াণ যেন অবিশ্বাস্য। এই তো কদিন আগেই ইন্সটাগ্রামে একটি পোস্ট করে ভক্তদের উদ্দেশে লিখলেন, মাসিক চেকআপের জন্য হাসপাতালে এসেছেন। এটি লিখে কি ভক্তদের উদ্বেগ কমাতে চেয়েছিলেন পেলে?
শোনা গিয়েছিল, কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেলের উপরে কেমোথেরাপিও কোনো প্রভাব ফেলছিল না। স্থানান্তরিত করা হয় প্যালিয়েটিভ কেয়ারে। অর্থাৎ জীবন পরিচর্যার শেষলগ্ন। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই ফুটবলার যাতে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তার জন্য কাতারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাপ চলাকালীন তাঁর অসংখ্য ভক্তরা একসঙ্গে একটি বিশাল পতাকা নেড়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল — পেলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন। নাহ, পেলে সুস্থ হতে পারলেন না আর।
কাতারে অনুষ্ঠিত ফিফা কাপ চলাকালীন তাঁর অসংখ্য ভক্তরা একসঙ্গে একটি বিশাল পতাকা নেড়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল — পেলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন। নাহ, পেলে সুস্থ হতে পারলেন না আর।

পুরোনাম এদসোঁ আরাঁচ দু নাসিমেঁতু, যদিও সবাই তাঁকে পেলে নামেই চেনেন। ব্রাজিলের হয়ে ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন পেলে। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ১৯৫৭ সালের ৭ জুলাই মারাকানায়, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। ২-১ ব্যবধানে হারা সেই ম্যাচে ১৬ বছর ৯ মাস বয়সে ব্রাজিলের পক্ষে প্রথম গোল করে পেলে আন্তর্জাতিক ফুটবল জগতে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার স্থান দখল করেন।
ব্রাজিলের হয়ে ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন পেলে। প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ১৯৫৭ সালের ৭ জুলাই মারাকানায়, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে পেলে তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেন। ১৯৫৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের সেই ম্যাচ ছিল প্রতিযোগিতার তৃতীয় খেলা। সেই বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ (এবং তখন পর্যন্ত যেকোনো বিশ্বকাপ খেলায় সর্বকনিষ্ঠ) খেলোয়াড় পেলের সতীর্থ ছিলেন গ্যারিঞ্চা, যিতো এবং ভাভা। ওয়েলসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে করা গোল ছিল প্রতিযোগিতায় পেলের প্রথম এবং সেই ম্যাচের একমাত্র গোল, যার সাহায্যে ব্রাজিল সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়। পেলের বয়স তখন ১৭ বছর, বিশ্বকাপের গোলদাতাদের মধ্যে সবচেয়ে কম।

১৯৬৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায়ের প্রথম খেলায় বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী হলেও হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় খেলায় ব্রাজিল হেরে যায়। ১৯৭০ সালে আগের বিশ্বকাপের ব্যর্থতা মুছে ফেলে আবারও শিরোপা জিতে নেয় ব্রাজিল। টানা চারটি টুর্নামেন্টের তিনটিরই ট্রফি ওঠে তাঁদের হাতে। দল তিনবার শিরোপা জেতায় জুলে রিমে ট্রফিটা একেবারেই দিয়ে দেওয়া হয় ব্রাজিলকে। সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন পেলে। ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের পর নিজেকে সর্বকালের সেরা ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে প্রমাণ করেন এই কিংবদন্তি।
ফুটবল খেলায় পেলে যে সূক্ষ দক্ষতা দেখিয়েছিলেন তা মানুষের কল্পনার সীমাকেও ছাড়িয়ে যায়। তাঁর গল্প ছড়িয়ে পড়ে খেলাধুলার বাইরের জগতেও। পেলে হয়ে ওঠেন এ বিশ্ববাসীর আইডল। ক্লাব ও দেশের অধিনায়কত্ব গ্রহণ করার জন্য তাঁকে যখনই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তিনি সবসময় প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু ব্যতিক্রম হয় পেলের ৫০ বছর বয়সে। ১৯৯০ সাল, জাতীয় ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার ১৯ বছর পরে। পেলে তাঁর ফুটবল কেরিয়ারে হাতে মাত্র একবারই অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেছিলেন।

এ মহাবিশ্ব থেকে চিরবিদায় নিলেন পেলে। বিশ্ব ফুটবলকে দিয়ে গেলেন এক বর্ণময় রোমাঞ্চকর ইতিহাস। তাঁকে নিয়ে পড়াশোনা করলে জানা যায়, দরিদ্র কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের প্রথম সন্তান ছিলেন তিনি। পরিবারের অভাব অনটন মেটানোর জন্য ছোটোবেলাতেই এক দোকানে কাজ করতে হয়েছিল। রেলস্টেশনেও কাজ করেছেন কিছুদিন। সেই ছেলেটার ছিল দু-চোখ ভর্তি স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন একদিন সত্যি হল। কালো মানিক খ্যাত ব্রাজিলের পেলেকে বলা হল ফুটবলের সম্রাট। শুভ বিদায় সম্রাট! রেস্ট ইন ফুটবল।