চুল দানের ব্যাপারে তিনি জানতে পেরেছিলেন ফেসবুক থেকে
আমরা গড়পরতা সাধারণ মানুষেরা অল্প চুল উঠলেই মনোকষ্টে ভুগি, ভাবতে থাকি, এই বুঝি টাক পড়ে গেল। অথচ, যাঁরা ক্যানসার আক্রান্ত, কেমোথেরাপি প্রয়োগ করলে তাঁদের সব চুলই উঠে যায়। অনেক সময়ে তাঁদের ঘরে আয়নাও রাখা হয় না। এঁদের যন্ত্রণা সম্পর্কে আমরা অনেকেই সচেতন নই। তবে সবাই তো এক রকম হয় না। এমন সংবেদনশীল মানুষও আছেন, যাঁরা ক্যানসার আক্রান্তদের এই বেদনা অন্তর থেকে উপলব্ধি করেছেন, পাশে দাঁড়িয়েছেন। টালিগঞ্জের বাসিন্দা সৌমিতা ভট্টাচার্য সেই বিরল মানুষদেরই একজন। নিজের সুন্দর দীর্ঘ চুল কেটে অনায়াসে তিনি ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য সেগুলি তুলে দিয়েছেন এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হাতে।
নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা অনার্সের এই ছাত্রী কয়েকমাস আগেও জানতেন না, ক্যানসার রোগে আক্রান্তদের রিয়েল হেয়ার উইগ তৈরি করতে চুল দান করা যায়। এই ব্যাপারে তিনি অবগত হয়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিছু মাস আগে, বছর একুশের এই তরুণী ফেসবুকে স্বর্ণাভ দে’র একটি পোস্ট দেখেন। স্বর্ণাভ লিখেছিলেন, তিনি ক্যানসার আক্রান্তদের চুল দান করবেন বলে বেশ কয়েক মাস ধরে নিজের চুল বিশেষ যত্ন নিয়ে বড়ো করেছেন। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এই পোস্ট দেখে সৌমিতাও কাজটি করতে অনুপ্রাণিত হন।
তবে, চুল দান করা কিন্তু মোটেও সহজ ব্যাপার নয়। দাতাকে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। চুলে রং করা যায় না, অন্তত ১২ ইঞ্চি দীর্ঘ চুল দরকার হয়। সৌমিতা চুল লম্বা হওয়া জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এই ব্যাপারে ঘুণাক্ষরেও কাউকে কিছু বলেননি সৌমিতা। চুল বড়ো হওয়ার পর সেলুনে সেই চুল কাটিয়ে তা মুম্বাইয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মাদার ট্রাস্টকে পাঠিয়ে দেন। এই সংস্থার নাম তিনি জেনেছিলেন ইন্টারনেট থেকে।
কোনো খ্যাতির মোহে এই উদ্যোগ নেননি সৌমিতা। বরং তাঁকে দেখে যাতে আরও বেশি মানুষ ক্যানসার আক্রান্তদের জন্য চুল দান করতে এগিয়ে আসে, সেটাই একান্তভাবে কামনা করেন তিনি।
ঋণ স্বীকার – সুমন সাধু