ঘুমের দেশ হয়ে দার্জিলিংয়ের পথে
দার্জিলিংয়ে যাবেন অথচ টয় ট্রেন চড়বেন না, তা কী করে হয়? আর টয় ট্রেনের কথা বললেই মনে পড়ে যায় ঘুম স্টেশনের কথা। দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে ঘুমের অবস্থান। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে উচ্চতা ৭৪০৭ ফুট। ঘুম ভারতের উচ্চতম রেলস্টেশন। এখান থেকেই টয় ট্রেন নেমে আসে দার্জিলিং শহরের দিকে। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো।
ঘুম সংগ্রহালয়
স্টেশনের একটি অংশ
টয় ট্রেনে ঘুম থেকে দার্জিলিং যেতে মাঝখানে পড়বে বাতাসিয়া লুপ, ঘুম থেকে যার দূরত্ব ১ কিলোমিটারের মতো। এখানে টয় ট্রেন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যায়। জায়গায়টি ফুলে ফুলে ভরা, মনোরমভাবে সাজানো। এখান থেকে দেখা যায় পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। দার্জিলিং শহরটিকে বাতাসিয়া থেকে দেখতে খুব মোহময় লাগে। বাতাসিয়া লুপের কেন্দ্রে রয়েছে যুদ্ধ স্মৃতিস্মারক। গোর্খা শহিদ বীর সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে এটি নির্মিত হয়েছে। এক গোর্খা সৈনিকের ব্রোঞ্জ মূর্তি শোভা পাচ্ছে এখানে।
ঘুম স্টেশন
ঘুম থেকে সড়কপথে যে কোনো যানবাহনে দার্জিলিং শহরের কেন্দ্রে বাজার এলাকায় পৌঁছতে মোটামুটি ২০-২৫ মিনিট লাগে। নানা দিকের নানা রাস্তা মিশেছে ঘুমে। হিল কার্ট রোড দার্জিলিং থেকে ঘুম ছুঁয়ে চলে গিয়েছে শিলিগুড়ি।
স্টেশনের বাইরের অংশ
ঘুম স্টেশনের অবস্থান
ঘুম স্টেশনের পাশেই দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে মিউজিয়াম। রেলের ইতিহাসে যদি আগ্রহ থাকে, অবশ্যই সেখানে যাবেন। ডিএইচআর-এর প্রাচীনতম ইঞ্জিন ‘বেবি সিভক’ আপনাকে মুগ্ধ করবে। রেলগাড়ির পুরোনো কলকব্জা ছাড়াও বেশ কিছু বিরল ছবি দেখতে পাবেন। দার্জিলিং থেকে হিল কার্ট রোড দিয়ে ঘুমে ঢোকার মুখেই পড়বে সামটেন চোলিং বৌদ্ধ মঠ। এটিকেও অনেকে ঘুম মঠ বলেন ঠিকই, তবে পুরোনো ঘুম মঠেও আপনি যেতে পারেন। সেই ইগা চোলিং মঠে রয়েছে মৈত্রেয় বুদ্ধের অসাধারণ সুন্দর বিগ্রহ। প্রাচীন লুপ্তপ্রায় বেশ কিছু বৌদ্ধ পুঁথি এখানে যত্ন সহকারে রক্ষিত আছে। সংস্কৃত সাহিত্যের তিব্বতি অনুবাদ করা পুঁথিও এই মঠে পাওয়া যায়। ইচ্ছে করলে সিঞ্চল হ্রদেও যেতে পারেন। আর দার্জিলিং শহর দেখতে ভুলবেন না।
আরও পড়ুন: টিফিন দারা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা
ঘুম থেকে ৫ কিলোমিটার উঁচুতে টাইগার হিল। সূর্যোদয়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য বহু পর্যটক এখানে ভিড় করেন। দার্জিলিং ঘুরতে গেলে সবাই টাইগার হিলেও যান। কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়াও পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং মাউন্ট মাকালু দেখা যায় এখান থেকে।
টয় ট্রেন
মেঘবালিকা ট্যুরিজম প্রপার্টি
মেঘবালিকা ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান