
৪০ জন ফুটবলার নিয়ে তৈরি হয়েছে প্লেয়ার্স ফর হিউমানিটি
মানুষ মানুষের জন্যে,/ জীবন জীবনের জন্যে,/ একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না?
শ্রদ্ধেয় শিল্পী ভূপেন হাজারিকার গানের অংশটি সেদিন খুব মনে হয়েছিল কয়েকজন খেলোয়াড়ের। সালটা ২০১৭ সালের মে-জুন নাগাদ। দিনটার স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে প্রাক্তন ফুটবলার অভ্র মণ্ডল বলেন, “তখন সবে ফুটবল সিজন শেষ হয়েছে। মানে যারা কলকাতার বাইরের ক্লাবগুলিতে ফুটবল খেলেন, তারা সদ্য ফিরে এসেছেন ।” তেমনই কয়েকজন ফুটবল খেলোয়াড় নিজেদের মধ্যে দেখাসাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যে জমায়েত করেছিলেন। কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলেন যে তাঁদেরই এক প্রাক্তন সতীর্থ ব্লাড ক্যানসারে ভুগছেন। সতীর্থকে এত ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের কথা তাঁরা ভাবেন। এইভাবেই ভাবনা এসেছিল যে অসহায় মানুষদের সাহায্য করার জন্য একটা সংগঠন তৈরি করলে কেমন হয়? অতঃপর ৪০ জন প্রাক্তন ও বর্তমান ফুটবল খেলোয়াড় নিয়ে তৈরি হল প্লেয়ার্স ফর হিউমানিটি (Players for Humanity)।
রহিম নবি, শিল্টন পাল, ডেনসন দেবদাস, মেহতাব হোসেন, অভ্র মণ্ডল, সন্দীপ নন্দী, অর্ণব মণ্ডল, অসীম বিশ্বাস প্রমুখ জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার মানুষের স্বার্থে এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের হাত ধরেছেন প্রীতম কোটাল, শুভাশিস বসুর মতো জাতীয় দলের আজকের খেলোয়াড়রা। রয়েছেন প্রণয় হালদার, প্রবীর দাস যাঁরা খেলছেন আইএসএল। খেলার জগতে থাকা মানুষগুলি প্লেয়ার্স ফর হিউম্যানিটির উদ্দেশ্যগুলি তথা বৃহত্তর সামাজিক দায়িত্বগুলি কাঁধে তুলে নিয়েছেন হাসিমুখে। খাদ্য, আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলোর মতো বিষয়গুলিতে মানুষকে সাহায্য করার ব্রত নিয়েছেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন ফুটবলার মেহতাব হোসেন বলেন, “সমাজের প্রয়োজনে দাঁড়ানোর তাগিদ অনুভব করেছি। তাই প্লেয়ারস ফর হিউম্যানিটির উদ্ভব। যেখানে পুরোটাই দায়বদ্ধতা।”

রহিম নবি, শিল্টন পাল, ডেনসন দেবদাস, মেহতাব হোসেন, অভ্র মণ্ডল, সন্দীপ নন্দী, অর্ণব মণ্ডল, অসীম বিশ্বাস প্রমুখ জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার মানুষের স্বার্থে এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের হাত ধরেছেন প্রীতম কোটাল, শুভাশিস বসুর মতো জাতীয় দলের আজকের খেলোয়াড়রা। রয়েছেন প্রণয় হালদার, প্রবীর দাস যাঁরা খেলছেন আইএসএল। খেলার জগতে থাকা মানুষগুলি প্লেয়ার্স ফর হিউম্যানিটির উদ্দেশ্যগুলি তথা বৃহত্তর সামাজিক দায়িত্বগুলি কাঁধে তুলে নিয়েছেন হাসিমুখে। খাদ্য, আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলোর মতো বিষয়গুলিতে মানুষকে সাহায্য করার ব্রত নিয়েছেন তাঁরা।
লকডাউনে দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে রেশনের ব্যবস্থা করে দেওয়া থেকে শুরু করে বস্তি অঞ্চলে পিছিয়ে থাকা মানুষদের জন্য দিনের খাবার মজুত করার অনেক দায়িত্বই তাঁরা পালন করেছেন। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই অনাথ আশ্রম থেকে বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে গিয়েছে তাঁদের পাঠানো খাবার। আবার আমফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া দুই চব্বিশ পরগনায় ওঁরা সবাই মিলে টাকা তুলে প্রায় ১০০টির বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয় তৈরি করে দিয়েছেন।
বিশেষভাবে সক্ষমদের পাশে দাঁড়িয়েছে এই সংগঠন। তাঁদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগঠনের তরফে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। খেলার জগতে থাকা মানুষগুলির বিপদাপদে তো বটেই, তাঁদের নিদারুণ প্রয়োজনেও পাশে থাকে প্লেয়ার্স ফর হিউম্যানিটি। নিজেরাই চাঁদা তুলে সতীর্থ ফুটবলার অ্যালেন ডরির ছোট্ট মেয়েকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন। চার-পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়েটি ভুল করে মশা মারার জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক খেয়ে প্রাণান্তকর পরিণতির দিকে পৌঁছেছিল। লক্ষাধিক টাকা তার পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন তাঁরা।
সদ্য ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার অভ্র মণ্ডল। তিনি বঙ্গদর্শন. কমকে বলেন, “কেউ সাহায্যের আবেদন জানালে আমরা এগিয়ে আসি। একটা স্কুলের দেওয়াল পড়ে গিয়েছিল। আমরা সেটাও ঠিক করেছি। আমাদের কোনো খেলোয়াড় মারফত কোনো সাহায্যের খবর এলে আমরা পাশে দাঁড়ানোর সবরকম চেষ্টা করেছি।” তিনি জানান, তাঁরা একটি ফান্ড তৈরি করেছেন। ভিন্ন ভিন্ন প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে তাঁরা টাকা মজুত করেছেন। পাশাপাশি অন্যের দানও তাঁরা গ্রহণ করেন। এভাবেই গড়ে উঠেছে তাঁদের কোষাগার। তবে বৃহৎ পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। সংগঠন আকারে বাড়ুক, কর্মের পরিধিও বিস্তৃত হোক। এমন ইচ্ছা তাঁদের সকলেরই। ফুটবলকে উৎসাহ দিতে কলকাতা লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনের সেরা কোচ, সেরা ফুটবলার, সেরা গোলকিপারদের এই সংগঠনের তরফ থেকে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে ‘কোনি’ উপন্যাসের মতো বাস্তবেও চরিত্র দেখা যায়। প্রতিভা থাকলেই সব হয় না এদেশে। এদেশে অর্থের অভাবে ভালো কোচিং ডিগ্রি নিতে পারেন না অনেকেই। ইচ্ছে থাকলেও একটা ভালো প্রশিক্ষণ পান না উঠতি মেধাবী ফুটবলার। এঁদের সাহায্য দরকার হয়। তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়েছেন রহিম নবিরা।
খেলাধুলোর উন্নতির জন্য কী করবেন এই সংঠনের সদস্যরা? অভ্র বলেন, “জাতীয় দলের ফুটবলাররা যখন এই সংগঠন গড়ে তুলেছেন, তারা যদি খেলাধুলোর জন্য কিছু না করেন, সেটা খারাপই লাগবে। ইচ্ছে আছে একটা ফুটবল স্কুল খোলার। দুঃস্থ খেলোয়াড়দের যেখানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।” শুধু তাই নয় যে সমস্ত খেলোয়াড়রা অর্থের অভাবে ব্যয়সাপেক্ষ অপারেশন করতে পারছেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন।এভাবেই ক্যান্সার আক্রান্ত ফুটবলার সঞ্জয় পার্তে, সুরজিৎ বসুর চিকিৎসার খরচ সামলেছেন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভবিষ্যতেও দাঁড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী প্রজন্ম যাতে খেলাধুলোর পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকটা অস্বীকার করতে না পারে, সেদিকটাও তাঁরা ভাবতে চান।
