
রয়েছে ছানার মুড়কি, রাবড়ি, জলভরা সন্দেশের বিপুল সম্ভার
যে কোনো অনুষ্ঠানে বাঙালি মিষ্টি ছাড়া ভাবতেই পারে না। শ্মশান ঘাট থেকে ফেরার পরেও মিষ্টিমুখ, আবার নবজাতকের সংবাদেও মিষ্টিমুখ। এই সংস্কৃতি একান্তই বাঙালির নিজস্ব। পশ্চিমবাংলার মানুষদের সারা ভারতে মিষ্টির সুবাদে একটা সুনাম আছে। রসগোল্লা আর বাঙালি একে অন্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িত। বাংলার কারিগর অসীম ধৈর্য ও দক্ষতায় বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তৈরি করেন। নলেন গুড়ের সন্দেশ, জলভরা এইসবের ইতিহাস তৈরি করেছে কিংবদন্তী। কলকাতার বিভিন্ন বিখ্যাত মিষ্টির দোকান গুলো আপনারা জানেন। আজ কলকাতা থেকে পঁচিশ কিলোমিটার দূরে রিষড়াতে বিখ্যাত এক মিষ্টির দোকান তার সম্পর্কে আপনাদের বলি। ফেলু মোদকের দোকান। আপনারা নিশ্চয়ই নাম শুনে থাকবেন। ১৭০ বছরের পুরোনো এই দোকানের মিষ্টি খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংস। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় – সবাই ফেলু মোদকের ফ্যান।

খড়দহ শ্যামসুন্দর ঘাট থেকে গঙ্গা পেরিয়ে বাঁ দিকে গেলেই দোকানটি পাবেন। জিটি রোডের উপর। প্রত্যেকটা মিষ্টির মধ্যে ভালো মানের স্বাদ পাবেন। উন্নতমানের ছানা ব্যবহার করে দক্ষ কারিগর দিয়ে তৈরি মিষ্টি খেলেই মন ভালো হয়ে যাবে সবার। কলকাতা থেকে বহু লোক গাড়িতে করে মিষ্টি নিয়ে যান ওই দোকান থেকে। ফলে মিষ্টির জোগান দিতে হিমসিম থেকে হয় বিক্রেতাদের। প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি ক্রমাগত তাই সারাদিন ধরেই তৈরি হয়েই যাচ্ছে। আমি বহুবার ওই দোকানে গিয়েছি । সিঙ্গারা যেন অমৃত। সব থেকে ভালো যেটা অন্য দোকানে পাওয়া যায় না সেটা হলো ছানার মুড়কি। এই ছানার মুড়কি ফেলু মোদকের এক অনবদ্য সৃষ্টি। রয়েছে নারকেলের ফুল থেকে তৈরি হচ্ছে সাত-আট রকমের মিষ্টি, যেগুলো অনায়াসে খেতে পারেন ডায়বেটিক রোগীরা। এখানকার ভিআইপি শাঁখ সন্দেশ, জিভে জল আনা রাবড়িও জগৎবিখ্যাত। দোকানের বর্তমান কর্ণধার অমিতাভ দে মিষ্টি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতে ভালোবাসেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই মিষ্টি খাওয়ার জন্য মানুষ এই দোকানে ভিড় করে আসছে। এছাড়া রসগোল্লা, বিভিন্ন ধরনের সন্দেশ, গাওয়া ঘি-এ ভাজা নানা ধরনের মিষ্টিও মন জুড়িয়ে দেবে খাদ্যরসিক মানুষদের।

আগে দোকানটি খুব সাদামাটা ছিল, কিন্তু তার জনপ্রিয়তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ায় দোকান পরবর্তীকালে সেজে উঠেছে নতুনভাবে। চলছে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিদেশে মিষ্টি পাঠানোর তোড়জোর। এখন দোকানের বাতানুকূল পরিসরে আপনি উপভোগ করতে পারেন মিষ্টির স্বাদ। দোকান ছোটো কিন্তু এত পরিমান মিষ্টি সামনে দেখতে পাবেন যে আপনি ও মিষ্টি খেতে চাইবেন আপনার সুগারের কথা ভুলে গিয়ে। দেখতে পাবেন সামনে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে সারে সারে এবং কলকাতার লোকেরাই বেশি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। ওজন এবং পিস দুভাবেই মিষ্টি বিক্রি হয় এখানে। দাম হয়তো একটু বেশি, কিন্তু ভালো মানের জিনিস খেতে গেলে এটুকু দাম দেওয়া যায়। যারা মিষ্টি খেতে ভালোবাসেন ফেলু মোদক এর দোকানে গিয়ে মিষ্টি খেলে কথা দিচ্ছি ঠকবেন তো না-ই, বরং আবার যেতে ইচ্ছে করবে।
