দিঘা উপকূলে সমুদ্রের রূপকথা

সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মায়াবী দৃশ্য

সমুদ্র ভালোবাসেন অথচ দিঘা বেড়াতে যাননি – এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল সারা পশ্চিমবঙ্গে। কলকাতা থেকে দূরত্ব বেশি নয়, সড়কপথে ১৮৪ কিলোমিটারের কাছাকাছি। ঘণ্টা চারেকের মধ্যে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। ভ্রমণার্থীদের কাছে পূর্ব মেদিনীপুরের এই ডেস্টিনেশন খুবই জনপ্রিয়।

সমুদ্র সুন্দরী দিঘা

সমুদ্রের কাছেই অগভীর ঝাউবন 

সমুদ্র সুন্দরী দিঘা। এই জায়গার পুরোনো নাম ছিল বীরকূল। অষ্টাদশ শতকের শেষে ব্রিটিশরা এলাকাটি খুঁজে পান। গভর্নর-জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস তাঁর স্ত্রীকে লেখা চিঠিতে এই জায়গাকে ‘প্রাচ্যের ব্রাইটন’ বলে উল্লেখ করেছেন। জন ফ্রাংক স্মিথ নামে এক ব্রিটিশ পর্যটক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে উৎসাহ দেন এখানে পর্যটনের সুবিধা বাড়ানোর জন্য।

আকাশে মেঘের খেলা 

দীর্ঘ বেলাভূমি, তাতে আছড়ে পড়ছে বঙ্গোপসাগরের ঢেউ

৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বেলাভূমি, তাতে আছড়ে পড়ছে বঙ্গোপসাগরের ঢেউ। রয়েছে মনোরম বালিয়াড়ি। সমুদ্রের কাছেই অগভীর ঝাউবন। কয়েকদিন ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা দিঘা। ব্যস্ত কর্মজীবন থেকে দূরে পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে সময় কাটিয়ে আসুন। প্রাণ ভরে শ্বাস নিন মুক্ত বাতাসে। অনুভব করুন উদার প্রকৃতির সৌন্দর্য। সকালবেলা যদি সৈকতে হাঁটতে বেরোন, নানা রকম শামুক, ঝিনুক, শঙ্খ পাবেন তটভূমিতে। সমুদ্রের তীরে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়। দিঘায় সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য মায়াবী। দিগন্ত থেকে যেন সমস্ত আকাশে ছড়িয়ে পড়ে সিঁদুরের আভা। এমন স্বর্গীয় দৃশ্য নিজের চোখে দেখতে প্রচুর ভ্রমণার্থী সৈকতে ভিড় করেন।

 কয়েকদিন ছুটি কাটানোর আদর্শ জায়গা দিঘা

দিঘার মৎস্যজীবী 

দু’টি সমুদ্রসৈকত রয়েছে দিঘায় – একটি ওল্ড দিঘা সি বিচ, অপরটি নিউ দিঘা সি বিচ নামে পরিচিত। নিউ দিঘার সৈকত বেশি প্রশস্ত, স্নান করার উপযোগী। ওল্ড দিঘাতে কয়েকটি বিশেষ অংশেই কেবল স্নান করা যায়, বাকি অংশে বোল্ডার ফেলা। দিঘায় গেলে তাজা মাছ খেতে ভুলবেন না। এখানে ভাজা মাছ খাওয়ার মজাই আলাদা। পমফ্রেট, পারশে, ইলিশ, চিংড়ি, কাঁকড়া – কত রকমের আয়োজন। চাইলে কাঁচা মাছ কিনে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় দিলে তারাই রান্না করে দেবে। নানা রকম সুস্বাদু মাছের পদ দিঘায় পাওয়া যায়। যাঁরা মাছ খেতে পছন্দ করেন না, তাঁরাও নিরাশ হবেন না এখানে। দক্ষিণ ভারতীয়, চাইনিজ, কন্টিনেন্টাল, বিশুদ্ধ বাঙালি – অনেক রকম আমিষ-নিরামিষ খাবার মিলবে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলিতে। 

দিঘায় গেলে তাজা মাছ খেতে ভুলবেন না

দিঘালি ট্যুরিজম প্রপার্টি

দিঘার অবস্থান 

কোথায় কোথায় যাবেন
সমুদ্র সৈকত ছাড়াও দেখতে পারেন অমরাবতী লেক, দিঘা বিজ্ঞান কেন্দ্র, মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম প্রভৃতি। এছাড়া যেতে পারেন শঙ্করপুর, মন্দারমণি, তাজপুর, জুনপুট, উদয়পুর, তালসারি সৈকতে। চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরেও ঘুরে আসতে পারেন।
কীভাবে যাবেন
ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া স্টেশন থেকে তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস, পাহাড়িয়া এক্সপ্রেস, সুপার এসি এক্সপ্রেস, কাণ্ডারী এক্সপ্রেস ধরে দিঘা স্টেশনে নামতে হবে। মাঝে মাঝে স্পেশাল ট্রেনেরও ব্যবস্থা থাকে। এসপ্ল্যানেড থেকে বাস ধরেও দিঘাও যেতে পারেন। সড়কপথে কলকাতা থেকে বিদ্যাসাগর সেতু এবং কোনা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে কোলাঘাট পর্যন্ত ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে চলুন। বাম দিকে ঘুরে ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরুন। নন্দকুমারে ডানদিকে ঘুরে কাঁথি এবং রামনগর শহর হয়ে পৌঁছন দিঘা।
কোথায় থাকবেন
দিঘায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের দিঘালি ট্যুরিজম প্রপার্টি। সেখানে কয়েকদিন থেকে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। বিস্তারিত জানতে ৯৭৩২৫১০১৩৪ নম্বরে ফোন করুন। এছাড়াও প্রচুর হোটেল এবং রিসর্ট আছে দিঘায়।

 

দিঘালি ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান

Developed by DXDasia