
প্রকাশিত বঙ্গদর্শন.কম-এর উৎসব সংখ্যা ১৪৩০
বাঙালির শারদীয়া আমেজ তখনই পরিপূর্ণ হতো, যখন হকারের হাত থেকে পুজোসংখ্যা হাতে আসতো। ‘হতো’, ‘আসতো’ বলার কারণ, অনেক দিন হলো বাঙালির সেই চর্চা অনেকখানি বদলে গেছে। ছাপার পাশাপাশি ইন্টারনেট, ডিজিটাল মাধ্যমে পুজোসংখ্যা পড়তেও এখন সমান ভাবে স্বচ্ছন্দ আমরা। সময়ের তালে তাল মিলিয়ে বঙ্গদর্শন.কম-ও ২০১৮ সালে প্রথমবার প্রকাশ করেছিল অনলাইন পুজোসংখ্যা। ২০১৮ থেকে ২০২২, টানা ৫ বছর পর অনলাইনে পুজোসংখ্যা প্রকাশের পর, দেবীপক্ষের শুভ মহরতে এই প্রথম মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশ হলো বঙ্গদর্শন.কম-এর উৎসব সংখ্যা ১৪৩০। পাঠকদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, বাংলায় এত পুজোসংখ্যার ভিড়ে বঙ্গদর্শন উৎসব সংখ্যা ১৪৩০ কোথায় আলাদা?
যাঁরা শুরু থেকে বঙ্গদর্শন.কম-এর পাঠক, তাঁরা জানবেন ওয়েবপোর্টালটি অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের থেকে কোথায় ব্যতিক্রমী। বঙ্গদর্শন.কম ১২ বছর ধরে ইতিবাচক বাংলার কথা শুধু বলেনি, আন্তর্জাতিক, ব্যতিক্রমী, ঐতিহ্যবাহী বাংলাকে তুলে ধরার চেষ্টা করে গেছে পাঠকদের কাছে। প্রয়োজনে ছক ভেঙেছে। তাই তো এবার পুজোসংখ্যা না বলে, আমরা বলছি ‘উৎসব সংখ্যা’। অনলাইন হোক বা মুদ্রিত, পুজোসংখ্যা বলুন বা উৎসব সংখ্যা, প্রতিবছরের মতো বিষয়বস্তুর দিক থেকে টিম বঙ্গদর্শন চেষ্টা করেছে বঙ্গদর্শন.কম-এর মূল নির্যাসকে ধরে রাখতে। এই উৎসব সংখ্যা সময়োপযোগী অনুসন্ধানের কথা তুলে ধরছে চেয়েছে, মূলধারার কথা বলেছে বিকল্প ভাবনায়। সাক্ষাৎকার, স্মরণ, বিনোদন, গান, বিশেষ গদ্য -এই বিভাগগুলি নিয়ে সাজানো সূচিপত্রে একবার চোখ বুলিয়ে নিলেই, তা টের পাবেন। বরাবরের মতো প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন শিল্পী পার্থ দাশগুপ্ত।

এই উৎসব সংখ্যার একেবারে শুরুতেই যাঁর সাক্ষাৎকার রয়েছে, তিনি ভারতে মূকাভিনয় প্রণেতা, জীবিত কিংবদন্তি যোগেশ দত্ত। তাঁর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার বহু বছর পর কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত হলো। পূর্ব মেদিনীপুরের গালার পুতুলের শেষ জীবিত শিল্পী, বৃন্দাবন চন্দ'র দীর্ঘ সাক্ষাৎকার এই উৎসব সংখ্যার মাধ্যমে প্রথম প্রকাশিত হলো কোথাও। স্বামী বিবেকানন্দ প্রবর্তিত ১২৫ বছর ধরে প্রকাশিত হয়ে চলেছে উদ্বোধন পত্রিকা। উদ্বোধনের বর্তমান সম্পাদক স্বামী কৃষ্ণনাথানন্দ বঙ্গদর্শন.কম উৎসব সংখ্যা ১৪৩০-এর দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলছেন বাঙালির শিকড় ও আদর্শের বিপুল কর্মকাণ্ডের কথা।

আরও পড়ুন: বঙ্গদর্শন পুজোসংখ্যা ১৪২৭
স্মরণ বিভাগে নেতাজি-কন্যা অনিতা বসু পাফ লিখছেন তাঁর বাবা সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে। বহু বছর পর পশ্চিমবঙ্গের কোনো পত্রিকায় থাকছে অনিতা বসুর কলাম। কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় প্রয়াণের অব্যবহিত পর একটি অবিচুয়ারি লিখেছিলেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্র। সেটি এই উৎসব সংখ্যার স্মরণ বিভাগে পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। স্মরণ বিভাগের তৃতীয় লেখাটিকে একটি খোলা চিঠি বলাই সমীচীন হবে। এই চিঠিতে ধরা পড়ে শান্তিনিকেতনের ছত্রছায়ায় লালিত দুই অসমবয়সীর বন্ধুর সংগীতযাপনের কথা। চিঠিটি সংগীতশিল্পী সাহানা বাজপেয়ী লিখেছেন তাঁর ছোটোবেলার সঙ্গী, অকাল প্রয়াত সংগীতশিল্পী বিক্রম সিং খাঙ্গুরার উদ্দেশ্যে।
ভারতীয় টেলিভিশনে কীভাবে সম্প্রচারিত হয়েছিল ফুটবল বিশ্বকাপ? ১৯৯০ সালের আর্জেন্টিনা-জার্মানির ফাইনাল ম্যাচ টেলিভিশনে দেখানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইন্দ্রজিৎ সেন। তিনি একজন উদ্যোগপতি এবং বঙ্গদর্শন.কম-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। সেদিনের সেইসব স্মৃতি, মারাদোনার সঙ্গে সাক্ষাৎকার, অসংখ্য ছবি লিপিবদ্ধ হয়েছে এই উৎসব সংখ্যার বিনোদন বিভাগে। বিনোদন বিভাগে রয়েছে বাংলা টেলিভিশনের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রখ্যাত পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর একটি বিশেষ নিবন্ধ। নান্দীকার থিয়েটার দলের বিপুল কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে থাকেন যাঁরা, তাঁদের কথা লিখছেন অভিনেত্রী সোহিনী সেনগুপ্ত। এছাড়া, বিনোদন বিভাগে রয়েছে তরুণ স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা তংসু কর্মকারের লেখা—বাঙালির রুচিবোধে যৌনতা বা যৌনদৃশ্যের ঠাঁই আজ কতটুকু?

আরও পড়ুন: বঙ্গদর্শন পুজোসংখ্যা ১৪২৯
গান বিভাগে রয়েছে চমৎকার দুটি লেখা। অতীত এবং বর্তমানে বাংলা গানে পাশ্চাত্য সংগীতের প্রভাব, অনুসঙ্গ বিষয়ে লিখছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাউন্ড-ডিজাইনার গৌতম নাগ এবং লোকনারীর পণবিরোধী গান বিষয়ে লিখিছেন শিক্ষিকা-গবেষক চন্দ্রা মুখোপাধ্যায়।

একেবারে শেষ বিভাগ অর্থাৎ বিশেষ গদ্য বিভাগে শিক্ষক গণেশ হালুইকে নিয়ে লিখেছেন প্রখ্যাত শিল্পী হিরণ মিত্র। বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ-চিন্তক নোম চোমস্কির সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখেছেন অধ্যাপক, সমাজকর্মী, প্রবসী বাঙালি ড. পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মীয় আচার ও পৌরহিত্যে নারীর অধিকার নিয়ে লিখছেন প্রথম মহিলা পুরোহিত গৌরী ধর্মপালের মেয়ে রোহিণী ধর্মপাল। বিশিষ্ট সাংবাদিক যাজ্ঞসেনী চক্রবর্তী লিখছেন নব্য বাঙাল বৃত্তান্ত শিরোনামে একটি মনোজ্ঞ ও প্রাসঙ্গিক লেখা। বাংলার হাতেবোনা শাড়িতে কীভাবে সেজে উঠলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রীরা, আর সেগুলি কীভাবে জুড়ে গেল আটপৌরে বাঙালি নারীদের অঙ্গে, এ বিষয়ে লিখছন শিক্ষক-সাংস্কৃতিক কর্মী শৈবাল বসু। বাংলা সাহিত্যে ভালো ভূত, খারাপ ভূত নিয়ে লিখছেন গবেষক-ছাত্র সৌরভ দাস। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ফ্ল্যাটবাড়ি, দূষণজনিত কারণে পাখির সংখ্যা কমলেও এখনও পাখিদের অন্যতম সেরা ডেস্টিনেশন এই তিলোত্তমা, এই বিষয়ে কলম ধরেছেন আলোকচিত্রী প্রদ্যুৎ চৌধুরী। লেখাটির সঙ্গে দেখতে পাবেন বাংলার ও পরিযায়ী পাখিদের মন জুড়ানো কিছু ছবি। বিশেষ গদ্য বিভাগে রয়েছে কবি সংঘমিত্রা হালদারের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি লেখা। তিনি লিখেছেন, AI-এর সঙ্গে কবির মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব নিয়ে। এছাড়াও, সবশেষে রয়েছে সারা বছর ধরে বিশ্বজুড়ে বাঙালি বিজ্ঞানীদের কৃতিত্বকে সম্মান জানিয়ে একটি বিশেষ লেখা।

পাঠকদের জানিয়ে রাখি, এই মুহূর্তে অফলাইন পাওয়া না গেলেও অনলাইনে সংগ্রহ করা যাবে সংখ্যাটি। (সংগ্রহ করার জন্যে এখানে ক্লিক করুন)। মুদ্রিত মূল্য- ২০০টাকা।
পুজোর পর কলেজ স্ট্রিট সহ অন্যান্য জায়গায় পাওয়া যাবে। কোথায়, কোথায় কবে থেকে পাওয়া যাবে, তা যথা সময়ে জানানো হবে। চোখ রাখুন বঙ্গদর্শন.কম-এ।
