চিত্র পরিচালক – অভিনেতা গৌতম ঘোষের আজ ৬৯তম জন্মদিন
মাঝে মাঝেই একটা প্রশ্ন রুদ্ধশ্বাসের মতো জেগে ওঠে, চলচ্চিত্র নির্মাতারা যদি পরিচালক/নির্দেশক না হতেন তাহলে কোন পেশা বেছে নিতেন! প্রশ্ন উত্থাপনের কোনো যুক্তিই কাজ করে না। করে না তার কারণ, একজন সফল চলচ্চিত্র পরিচালক তাঁর শিল্পকর্মে দেখিয়ে দিতে পারেন পৃথিবীর সবকিছু। গান থেকে ডাক্তারি, ভাস্কর্য থেকে ম্যাজিক, মঞ্চ নাটক থেকে পুনর্বাসন কেন্দ্র- সবকিছুই তখন তাঁর হাতের মুঠোয়। বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভারতীয় চিত্র-পরিচালক গৌতম ঘোষ বলেছিলেন, “১৯৫৪ সালে মারা গিয়েছেন দাদামশাই। তিনি বিশ্বাসই করতেন না যে দেশ ভাগ হতে পারে। তিনি বলতেন, ‘এটা ওই নেহরু-জিন্নাহ পাগলামো করতেছে। এটা হয় নাকি কখনো! বাঙালিদের দুই ভাগ করা যায় নাকি!’”
ষাটের দশক। গৌতম তখন কলেজের ছাত্র। কলকাতায় ক্রমশ দানা বাঁধছে নকশালবাড়ি আন্দোলন। ভিয়েতনামে যুদ্ধ চলছে। ফ্রান্সে চলছে ছাত্র আন্দোলন। কিছু বছর পরেই বাংলাদেশে শুরু হবে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্বাবস্থা। তথাকথিত অ্যাকাডেমিক শিক্ষা পছন্দ ছিল না গৌতমের। তখন তিনি থিয়েটার করছেন, গান গাইছেন, ম্যাজিক শো করছেন, স্টিল ফটোগ্রাফি করছেন। কিন্তু এসবের বাইরে কিংবা সবকিছুকে নিয়েই নতুন একটা পথের সন্ধান করছিলেন গৌতম। খুঁজেও পেলেন। যে প্রশ্ন নিয়ে এই লেখা শুরু হয়েছিল, এখন তা হবহু মিলে যাবে। গৌতম ঘোষ বলছেন, নাটক-গান-ম্যাজিক-ছবি তোলা – সবকিছুর সমন্বয় হচ্ছে সিনেমা।
১৯৭৩ সাল থেকে ভারতীয় চলচ্চিত্রে কাজ করা শুরু করেন একটি তথ্যচিত্রের মাধ্যমে। তবে তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘মা ভূমি’ (১৯৭৯) নির্মিত হয় তেলেগু ভাষায়। সেই থেকেই ভারতীয় চলচ্চিত্রে একটি পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রে তাঁর দশককে প্রতিনিধিত্বও করেছেন। ‘দখল’ (১৯৮১), ‘পার’ (১৯৮৪), ‘অন্তর্জলী যাত্রা’ (১৯৮৭), ‘পদ্মানদীর মাঝি’ (১৯৯২), ‘আবার অরণ্যে’ (২০০৩), ‘কালবেলা’ (২০০৯), ‘মনের মানুষ’ (২০১০), ‘শঙ্খচিল’ (২০১৫) ইত্যাদি ছবির মাধ্যমে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন গৌতম ঘোষ। পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন একাধিক ছবিতে। সম্প্রতি ইরানীয়ান চিত্র-পরিচালক মাজিদ মাজিদির প্রথম ভারতীয় ছবি ‘বিয়ন্ড দ্য ক্লাউডস’-এ অভিনয় করেছেন। পরিচালনা, চিত্রগ্রহণ, চিত্রনাট্য সবকিছু মিলিয়ে ১২টি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। আজ গৌতম ঘোষের ৬৯তম জন্মদিন। তাঁকে এবং তাঁর সৃষ্টিকে বঙ্গদর্শনের শ্রদ্ধা।