আপাতত বন্ধ বাংলা ক্যালেন্ডার ছাপা, নববর্ষের প্রাক্কালে বাঙালির মন ভালো নেই

করোনার থাবা যেন এক নিমেষের মধ্যে সবকিছু স্তব্ধ করে দিয়েছে

করোনার থাবা যেন এক নিমেষের মধ্যে সবকিছু স্তব্ধ করে দিয়েছে। কোলাহলহীন এই বিশ্বটাকে ঠিকমতো চেনা যাচ্ছে না। আজ চৈত্র সংক্রান্তি। আগামীকাল বাঙালির পয়লা বৈশাখ। শুভ নববর্ষ। হালখাতা। সমস্ত জীর্ণতাকে পিছনে ফেলে নতুন করে বছর শুরু করার দিন। নতুন ক্যালেন্ডার, মিষ্টির প্যাকেট। নাহ্ এই বছর আপাতত কিছুই সম্ভব হচ্ছে না। সমস্ত ছাপাখানা বন্ধ। তাই বাংলা ক্যালেন্ডার ছাপানোও যায়নি। হতাশায় ভুগছেন ক্যালেন্ডার ব্যবসায়ীরা। 

এই যেমন কলকাতা কলেজস্ট্রিটের বাসন্তী প্রেসে কোনও ব্যস্ততা নেই। পুরোনো দোতলা বাড়ি, নিচে ছাপাখানা। সারাবছর লোকে লোকারণ্য থাকত। বিয়ের কার্ড, অন্নপ্রাশনের কার্ড, ডায়েরি, ক্যালেন্ডার সবই তৈরি হত এখানে। প্রায় ২০ দিন ছাপাখানা বন্ধ। অতএব বাংলা ক্যালেন্ডার তৈরি করা যায়নি।

অন্যদিকে শিলিগুড়ির ছাপাখানা ব্যবসায়ী সন্দীপ সিং জানাছেন, লকডাউনের আগে বেশকিছু ক্যালেন্ডার তৈরির বরাত এসেছিল। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। লকডাউন উঠলেও এ বছর আর তেমন ক্যালেন্ডার বিক্রি হবে না। 

করোনা যেন এক ঝটকায় সবকিছু থমকে দিয়েছে। বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে আপাতত দেখা যাবে না বাংলা ক্যালেন্ডার। চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাবে না, কোন মাসে কী কী উৎসব আছে! এতকিছুর পরেও বাঙালি আশা ছাড়ে না। কারণ তাঁরা জানেন, নতুন পৃথিবী দেখার জন্য আরেকটু অপেক্ষা করতেই হবে। তখন বাড়িতে বাড়িতে শোভা পাবে বাংলার ব্রতকথা এবং পুজো-আর্চা।

Developed by DXDasia