১০০ বছরের ধাঁধার সমাধানে বিশ্বজয় প্রবাসী বাঙালির

গবেষণার জন্য সমিত বেছে নিয়েছিলেন হিলবার্টের ১২তম সমস্যাটি

যাঁরা অঙ্ক এড়িয়ে চলেন, তাঁদের মধ্যে পড়েন না আমেরিকার ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্কের শিক্ষক সমিত দাশগুপ্ত। বরাবরই কৃতী ছাত্র হিসেবে নামোজ্জ্বল করেছেন তিনি। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠ পেরিয়ে এখন তিনি অধ্যাপক। ১৯৯৫ সালে, ষোলো বছর বয়সেই ‘ওয়েস্টিংহাউস সায়েন্স ট্যালেন্ট সার্চ’-এর চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেন সমিত। আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দু’হাজার ছাত্রছাত্রী ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল সে বছর। চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পায় মাত্র ৪১ জন। তার মধ্যে ছিলেন এই বাঙালি।আমেরিকার বিভিন্ন সংবাদপত্রে সমিতের নাম উঠে এসেছিল ‘নাম্বার থিয়োরি’ নিয়ে গবেষণাপত্র লিখে। অঙ্কশাস্ত্রের নানা শাখা-প্রশাখার মধ্যে নাম্বার থিয়োরি বা সংখ্যাতত্ত্ব হল সবচেয়ে উচ্চমানের, এমনইটাই মত অঙ্ক-বিশারদদের। শুধু সংখ্যা নয়, কল্পির সংখ্যা নিয়ে পণ্ডিতেরা নিজেরাই বিভিন্ন সমস্যা ফাঁদেন আর সেসব সমস্যার সমাধান করেন। সএসময় সমিতের কৃতিত্বের কথা বোঝাতে গিয়ে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ লেখা হয়েছিল, ‘নাম্বার থিয়োরি হল এমন একটা বিষয়, যা অধিকাংশের ধরাছোঁয়ার বাইরে’। সেই কারনেই নাম্বার থিয়োরিকে মানুষের জ্ঞানচর্চার শীর্ষে রাখা হয়। সেই সংখ্যাতত্ত্বই ছোট থেকে মন টেনেছিল সমিতের।

১০০ বছর আগে জার্মানির এক তুখোড় গণিতজ্ঞ ২৩টি সমস্যার সমাধান দিয়ে বলেছিলেন, অঙ্ক বুঝতে হলে এ সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। ১০০ বছর ধরে সে সব সমস্যা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ‘ব্রেন’-দের রাতের ঘুম কেড়েছে। দু’-একটির যদিও বা সমাধান করা গেছে, কয়েকটি তো সমাধানযোগ্য নয় বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে। ১৯০০ সালে প্যারিসে ‘ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অফ ম্যাথামেটিশিয়ানস’ কনফারেন্সে ওই ২৩টি সংখ্যার কথা প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন অধ্যাপক ডেভিড হিলবার্ট। যার সমাধান করতে পারলে হওয়া যাবে বিশ্ববরেণ্য অঙ্কবিদ। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে চলছে ‘হিলবার্টস প্রবলেমস’ নিয়ে গবেষণা।  আর গবেষণার জন্য সমিতও বেছে নিয়েছিলেন হিলবার্টের ১২তম সমস্যাটি। এই কাজে তিনি পাশে পেয়েছেন তাঁর শিক্ষকদের এবং এক সহযোগী বন্ধুকে। তাঁর সেই সহযোগী বন্ধুটি ‘বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স’-এর গণিতের অধ্যাপক- মারাঠি যুবক মহেশ কাকড়। সমিত-মহেশ দুজনে মিলে বার করেছেন হিলবার্টের ১২তম সমস্যার সমাধান। ১২১তম বছরের মাথায়।    

 

Developed by DXDasia