চন্দননগরে অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ভলিবল চ্যাম্পিয়ানশিপে বিজয়ী বাংলার মেয়েরা

চন্দননগরের ইতিহাসে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হল এই প্রতিযোগিতা

হুগলি জেলার চন্দননগরের ইতিহাসে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ভলিবল চ্যাম্পিয়ানশিপ (U-16 National Volleyball Championship)। এটি ছিল প্রতিযোগিতার ৪৫তম সংস্করণ, অনুষ্ঠিত হয়েছিল হুগলি-র চন্দননগরের শহিদ কানাইলাল ক্রীড়াঙ্গনে (কুটির মাঠে), গত ২৭ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত। গোটা প্রতিযোগিতার উদ্যোক্তা ছিল ওয়েস্ট বেঙ্গল ভলিবল অ্যাসোসিয়েশন (West Bengal Volleyball Association)। পরিচালনায় চন্দননগর স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন (Chandannagar Sporting Association) এবং পৃষ্ঠপোষকতায় ভলিবল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (Volleyball Federation of India)। চন্দননগর পুরনিগমের (Municipality of Chandannagar) তত্ত্বাবধানে ও সুপ্রিম নলেজ ফাউন্ডেশনের (Supreme Knowledge Foundation) মুখ্য সহায়তায় গোটা প্রতিযোগিতাটি সুষ্ঠভাবে আয়োজিত হয়।

প্রতিযোগিতার দুটি বিভাগ ছিল- বালক বিভাগ ও বালিকা বিভাগ। বালক বিভাগে মোট ২৪টি এবং বালিকা বিভাগে মোট ২১টি রাজ্যস্তরীয় দল অংশ নিয়েছিল। বালক ও বালিকা বিভাগের দলগুলিকে চারটি করে গ্রুপে ভাগ করে লিগ ও নকআউট পর্যায়ে খেলা হয়। প্রতি গ্রুপ থেকে প্রথম দুটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। তারপর ছিল সেমিফাইনাল ও ফাইনাল।

এই প্রতিযোগিতার বালিকা বিভাগের বিজয়ী রাজ্য ছিল বাংলা। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে মহারাষ্ট্রকে ২৫/১৩, ২৮/২৬, ২৫/১৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ৩-০ সেটে পরাজিত করে, বাংলা সেরার শিরোপা অর্জন করে। এই বিভাগে তৃতীয় স্থান পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ।

বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ানশিপ জেতে উত্তরপ্রদেশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে যথাক্রমে দিল্লি এবং হরিয়ানা।

অনূর্ধ্ব-১৬ ন্যাশনাল ভলিবল চ্যাম্পিয়ানশিপ ২০২৩-এর বালিকা বিভাগে ফাইনালে বাংলার দলের প্রতিযোগীরা হলেন- অঙ্কিতা দাস, ঈশা বোস, স্মৃতি মাইতি, পর্ণা ঘোষ, দেবাঞ্জনা দাস, লেহা ঘোষ, তানিশা রায়, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, শ্রীরাহি মিত্র, সুস্মিতা পাল, সুমনা দে, এবং অধিনায়ক মাহক সিং। দলের প্রধান কোচ ছিলেন বিশ্বজিৎ ঘোষ। সহকারী কোচ রূপা সিং ও শুক্লা বোস। চ্যাম্পিয়ানশিপ জিতে গোটা দল উচ্ছ্বসিত।

গোটা চ্যাম্পিয়ানশিপে ছিল বহু পুরস্কার। বালক ও বালিকা বিভাগের জন্য ছিল চ্যাম্পিয়ানশিপ, রানার্স ও তৃতীয় স্থানের ট্রফি। এছাড়াও প্রত্যেক ম্যাচে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ (Man of the Match)/ওম্যান অফ দ্য ম্যাচ (Woman of the Match), বেস্ট অ্যাটাকার, বেস্ট সেটার ইত্যাদি পুরস্কার দেওয়া হয় প্রতিযোগীদের।

বালিকা বিভাগে প্রতিযোগিতার বিজয়ী পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে সুধীর কুমার দত্ত এবং সরজু দত্ত মেমোরিয়াল ট্রফি। রানার্স-আপ মহারাষ্ট্র পেয়েছে ত্রিদিব রঞ্জন মেমোরিয়াল ট্রফি। 

বালক বিভাগের বিজয়ী দল পেয়েছে দিলীপ মণ্ডল মেমোরিয়াল ট্রফি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীরা যথাক্রমে শ্যামলী ব্যানার্জি মেমোরিয়াল ট্রফি ও চন্দননগর স্পোর্টিং  অ্যাসোসিয়েশন ট্রফি।

এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে বিভিন্নভাবে যুক্ত বা উপস্থিত ছিলেন বাংলার বহু বিশিষ্টজন। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রক ও কারিগরী শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন মন্ত্রকের মন্ত্রী, চন্দননগরের বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন। ছিলেন ভলিবল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি জেনারেল অনিল চৌধুরী, ভলিবল ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং ওয়েস্টবেঙ্গল ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি রথীন রায়চৌধুরী, চন্দননগর পুরনিগমের মেয়র রাম চক্রবর্তী, ডেপুটি-মেয়র মুন্না আগরওয়াল, চন্দননগর স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বামাপদ চ্যাটার্জী-সহ অন্যান্যরা।

প্রতিযোগিতার মুখ্য সহায়ক সু্প্রিম নলেজ ফাউন্ডেশনের ভাইস-চেয়ারম্যান সৌম্য গুহ মল্লিক জানিয়েছেন এই প্রতিযোগিতায় তাঁদের জুড়ে যাওয়ার কারণ। বঙ্গদর্শন.কম-কে তিনি বলেন, “আমাদের সংস্থা পেশা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আমরা বিশ্বাস করি, খেলাধুলা ছাড়া শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় না। খেলাধুলার মাধ্যমে শরীর ও মনের সার্বিক বিকাশ সম্ভব। খেলাধুলার মাধ্যমেই একজন শেখে দলগত ভাবে কাজ করতে, শেখে হারজিতের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। তারা শেখে একটা ম্যাচ হেরে গিয়েও পরের ম্যাচ জেতার জন্য ঘুরে দাঁড়াতে। এই উদ্যোগে সামিল হতে পেরে আমরা গর্বিত।”

______________________________
তথ্যঋণ: বামাপদ চ্যাটার্জি (চন্দননগর স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি)

 

Post Tags
Developed by DXDasia