রজনীকান্তের ছবিতেও কদিন আগে তিনি অভিনয় করেছেন
আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা গ্রামে তাঁর বড়ো হয়ে ওঠা। তাঁর বাবা ছিলেন সংগীত শিল্পী। শৈশবে বাড়ির পরিমণ্ডলে পেয়েছিলেন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল,গানবাজনা সঙ্গে যাত্রাপালার অভিনয় চর্চা। সেই পরিবেশ তাঁকে যাত্রার অভিনয়ে উদ্বুদ্ধ করে। যাত্রা-নাটকে অভিনয় করা তাঁর নেশা হয়ে ওঠে। আর সেই পুরোনো নেশা ধরে রাখার জেরে দক্ষিণী ফিল্মের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক রজনীকান্তের সিনেমায় কদিন আগে তিনি অভিনয় করেন। দার্জিলিং পাহাড়ে রজনীকান্তের একটি সিনেমার শুটিং হলে সেই সিনেমাতে তিনি কারামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবের ভূমিকায় অভিনয় করেন। আবার ‘ব্যোমকেশ পর্ব’-এও তিনি বেশ কিছু স্থানে অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্র পরিচালক অরিন্দম গাঙ্গুলিও তাঁর অভিনয় প্রতিভা সম্পর্কে জানেন। কয়েকবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে অরিন্দম গাঙ্গুলির।
এখন কর্মসূত্রে শিলিগুড়ি বাবুপাড়ায় থাকেন শিল্পী সন্তোষ কুমার দাস। শৈশবের স্মৃতি এখনও তিনি স্মরণ করেন। শৈশব, কৈশোর, যুবা— ফালাকাটা থেকে শিলিগুড়ি কখনোই অভিনয় চর্চা তিনি ছাড়েননি। এখন তাঁর বয়স ৫৬। ১৯৮১ সালে ডুয়ার্সের মাদারিহাটে একটি যাত্রামঞ্চের অভিনয় তিনি কখনও ভুলতে পারেন না। সেই যাত্রাপালায় তিনি এক ভিলেনের চরিত্রে অভিনয় করেন। আর এতটাই নিখুঁতভাবে সেই ভিলেনের চরিত্র ফুটিয়ে তোলেন যে যাত্রা মঞ্চের মধ্যে উঠে একদল মহিলা তাঁকে মানে সেই ভিলেন চরিত্রকে জুতোপেটা করেন!
ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করে জুতোপেটা খাওয়ার পর তাঁর শরীরে কিছু দিন ব্যথাও ছিলো। ব্যথা থাকলেও মনে একটা আনন্দ ছিল যে ভিলেন চরিত্রের অভিনয়টা ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলেন, দর্শকদের মধ্যে দাগ কাটতে পেরেছিলেন, নাহলে দর্শকরা কেন চড়াও হবে? তবে সেই সফলতা তাঁকে ভবিষ্যতে আরও অভিনয় চর্চার প্রতি আকৃষ্ট করে।
সম্প্রতি দিল্লিতে অল ইন্ডিয়া মোবাইল শর্ট ফিল্ম অনুষ্ঠিত হয়। তাতে শিলিগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি এনসেম্বল নামে একটি সংস্থা ছমিনিটের শর্ট ফিল্ম তৈরি করে পাঠায়। এক শিশুর সততা ফুটে ওঠে সেই ফিল্মে। ছবির নাম ‘দ্য কাপ’। সেখানেও সুন্দরভাবে নিজের অভিনয় প্রতিভা মেলে ধরেন সন্তোষবাবু।
শিলিগুড়ি বলাকা নাট্যগোষ্ঠীতে নিয়মিত নাটকের অনুশীলন করেন সন্তোষবাবু। নিয়মিত নাটক অভিনয় চর্চা না করলে তাঁর মন ভালো থাকে না। তবে তাঁর আক্ষেপ উত্তরবঙ্গে সেভাবে নতুন প্রজন্ম নাট্যচর্চায় এগিয়ে আসছে না। সবাই নাটক না দেখলে বা অভিনয় চর্চার প্রতি উৎসাহিত না হলে একদিন হয়তো যাত্রার মতো হারিয়ে যাবে নাটকও। যদিও থিয়েটারচর্চা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী সন্তোষবাবু।