৭৫ বছর বয়সের জীর্ণতাকে হার মানিয়ে প্রতিবছর মণ্ডপ তৈরিতে ব্যস্ত অসিত খাসনবিশ

নতুন প্রজন্মকে পুরুলিয়ার ছৌ শিল্প সম্পর্কে বিশদে জানাতে চান

পুরুলিয়া থেকে তিনি কিনে এনেছেন ছৌ নৃত্যের বিভিন্ন মুখোশ। সেসব এখন ব্যবহৃত হচ্ছে শিলিগুড়ি মহানন্দা পাড়ার স্বস্তিকা যুবক সংঘের পুজো মণ্ডপে। নতুন প্রজন্মকে তিনি এই থিমের মাধ্যমে পুরুলিয়ার ছৌ সম্পর্কে বিশদে জানাতে চান। তাঁর নাম অসিত খাসনবিশ। ৭৫ বছর বয়স হলেও পুজোর আগে থিমের মণ্ডপসজ্জা তৈরি করতে তার কোনও ক্লান্তি নেই। তাঁর ভাইপো কল্লোল ঘটকও এই কাজে তাঁকে পুরোদমে সহযোগিতা করছেন।

স্বস্তিকা যুবক সংঘের মণ্ডপে পুরুলিয়ার ছৌ সাজাতে তাঁদের ব্যস্ততা যেমন আছে তেমনই বাগডোগরার একটি ক্লাবে পুজোর থিম হিসাবে মেলে ধরছেন একরকম কাঠের পুতুল। বর্ধমানে অগ্রদীপ নামে একটি গ্রাম রয়েছে। সেখানে সবাই কাঠের কাজ করেন। সবাই সেখানে কাঠ দিয়ে বিভিন্ন রকম শিল্পকর্ম তৈরি করেন। বর্ধমানের সেই গ্রাম থেকে প্রচুর কাঠের পুতুল কিনে এনে অসিতবাবু এখন বাগডোগরার একটি পুজো মণ্ডপের থিম সাজাতে ব্যস্ত। অসিতবাবু বলেন, নতুন প্রজন্ম কিছু জানুক এসব ঐতিহ্যবাহী কাজ সম্পর্কে। তাই তাঁর এই প্রয়াস। পুজো কমিটিগুলোর কাছ থেকে মণ্ডপসজ্জার থিম ফুটিয়ে তুলতে তিনি কিছু টাকা পান বটে। তবে টাকাটাই তাঁর কাছে মুখ্য নয়। তাঁর কথায়, ১৯৮৮-১৯৯০ সাল থেকে পুজোর মণ্ডপসজ্জার কাজ করে আসছি। এই কাজে একটি নেশা তৈরি হয়ে গিয়েছে। কোনোবার পুজো থিমের কাজ না করলে অসিতবাবুর মনখারাপ হয়। মণ্ডপসজ্জা হয়ে যাওয়ার পর দর্শনার্থীরা যখন তা দেখে তারিফ করেন, সবাই জানতে চান, কে করেছে এই মণ্ডপ, তখন আনন্দটা চোখে লেগে থাকে।

কিন্তু মণ্ডপ সজ্জার নেপথ্যে আরও কি রয়েছে, তা জানতে হলে ফিরে যেতে হবে আরও ৩৫ বছর আগে। তখন বাগডোগরার বেংডুবিতে প্রতিরক্ষা বিভাগের অর্ডিন্যান্স অফিসার হিসাবে কর্মরত তিনি। একদিন শিলিগুড়ি বাবুপাড়া দিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পায়ে আটকে গেল একটি গাছের শিকড়। লক্ষ্য করলেন, একজন ক্রিকেট বোলার যেন বল করছে। বাবাকে তা দেখালেন। তারপর তাঁর শিল্পভাবনায় হঠাৎই বাঁক বদল হল।

বর্তমানে চাকরি থেকে অবসর নিয়ে শিলিগুড়ি লেকটাউনে বাস করছেন অসিতবাবু। অনেকে তাঁর কাজকে অবন ঠাকুরের কাটুমকুটুমের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে ছেলেবেলাটা অসিতবাবুর কেটেছে কলকাতার শ্যামবাজারে। তারপর বাবার কর্মসূত্রে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি চলে আসতে হয়।

Developed by DXDasia