একটি সিদ্ধান্তেই ভেলকি দেখাল এই ট্যাংক
আমফানের তাণ্ডবে কী কী ক্ষতি হতে পারে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল সবারই। এরই মধ্যে সবাইকে অবাক করে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়েও অক্ষত রইল টালা ট্যাংক। একটি সিদ্ধান্তেই এই ট্যাংক ভেলকি দেখাল।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই ট্যাংক টানা এক শতাব্দী পেরিয়ে কলকাতাবাসীকে পরিশুদ্ধ জল সরবরাহ করে চলেছে। এখনও ট্যাংক মেরামতির কাজ শেষ হয়নি। তাই অনেকের মনেই ভয় ছিল, আমফান আসলে হয়তো খুব বড়ো ক্ষতি হয়ে যেতে পারে ট্যাংকের। বিগত একশো বছরে এমন বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আসেনি কলকাতায়। ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে কোনো ধারণা ছিল না কারো। ঝড়ের দিন দুপুরের পর আবহাওয়া ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। তখন মেয়রকে জানিয়ে দ্রুত একটি সিদ্ধান্ত নেন ট্যাংকের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক।
টালা ট্যাংকে হাইড্রোলিক সিস্টেমে জল সর্বদা ওঠানাম করে। জল কখনো ট্যাংকে স্থির থাকে না। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিকেল পাঁচটা থেকে রাত পর্যন্ত জল নামতে দেওয়া হবে না। চাবি দিয়ে জলের নামা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাড়তে থাকে ট্যাংকের ওজন। ট্যাংকের জলধারণ ক্ষমতা ৯ মিলিয়ন গ্যালন। ৮ মিলিয়ন গ্যালন জল দিয়ে পূর্ণ করা হয় ট্যাংকের চারটি প্রকোষ্ঠ। এর ফলে ট্যাংকের ওজন হয়ে যায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। আমফানের প্রবল বেগ কোনোভাবেই টলাতে পারল না ট্যাংককে। পুর আধিকারিকরা পরে পরীক্ষা করে দেখেছেন, সুপার সাইক্লোন টালার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।
ট্যাংক মেরামতির জন্য ২ কোটি টাকা খরচ করে ক্রেন আনা হয়েছিল বিদেশ থেকে। ঘূর্ণিঝড়ের দিন ক্রেনটিকে ফিক্সড না রেখে মুভবেল করে দেওয়া হয়েছিল। ঝড়ের গতি যেদিকে, সেদিকেই ছিল ক্রেনের মুখ। তাই ক্রেনেরও ক্ষতি হয়নি কোনো।