‘দক্ষিণবঙ্গের ডুয়ার্স’ বাঁকুড়ার ঝিলিমিলি

গাছবাড়ি

শীতকাল যতটা লেপ-কম্বলের ততটাই ঘুরেবেড়ানোর; তা সে পরিবার-পরিজন নিয়ে হোক অথবা একা। তবে এই দুই ক্ষেত্রেই আপনার আদর্শ পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে বাঁকুড়া জেলার ঝিলিমিলি। অনেকেই একে ‘দক্ষিণবঙ্গের ডুয়ার্স’ বলে থাকেন। দক্ষিণ বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের শেষ সীমানা রানিবাঁধ ব্লকের ঝিলিমিলি। সৌন্দর্য ও নির্জনতার জন্য একটি আদর্শ টুরিস্ট স্পট হলেও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এখনও তেমন পরিচিত নয়।

 বারো মাইল জঙ্গল

কোলাহলহীন, দূষণহীণ, চারিদিকে শুধু গাছ আর গাছ। শাল, পলাশ আর মহুয়ার জঙ্গলে ঢাকা উঁচু টিলা দিয়ে ঘেরা একটি ছোট্ট জলাধার। একপাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে ছোট্ট পাহাড়ি ঝর্ণা। কিছু দূর গিয়ে সেই ঝর্ণা হারিয়ে গিয়েছে ঘন জঙ্গলে। রুক্ষ, শুষ্ক পাথরের বুক চিরে আঁকাবাঁকা পথে বয়ে চলা সেই ঝর্ণার মৃদু কুলকুল শব্দই সুতান-ঝিলিমিলি জুড়ে তৈরি করেছে দারুণ পরিবেশ। চড়াই-উৎরাইয়ে ভরা ঝিলিমিলির রাস্তার উপর বারো মাইল জঙ্গলে পাঁচটি ‘ওয়াচ টাওয়ার’ রয়েছে। আর এই ওয়াচ টাওয়ার থেকে আপনি উপভোগ করতে পারবেন জঙ্গলের দৃশ্য। জঙ্গলের মধ্যে হাতিদের যাতায়াতের একটি রাস্তা দেখা যায়। শীতকালে উপরি পাওনা রংবেরঙের ফুল বিশেষত শিমূল-পলাশ আর নানা পরিযায়ী পাখি

 ইকো ট্যুরিজম রিসর্ট

এখানে এলে সুতান-ঝিলিমিলি ও তালবেড়িয়ার সঙ্গেই ঘুরে দেখা যাবে মুকুটমনিপুর জলাধার। অথবা যাওয়া যেতে পারে বিপ্লবী রাজা রাইচরণ ধবলদেবের অম্বিকানগর রাজবাড়ি ও বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতিধণ্য ছেঁদাপাথরেও।

বাঁকুড়া থেকে ৭৮ কিলোমিটার দুরে ঝিলিমিলির জঙ্গল। আর এখান থেকে ৭ কিলোমিটার তালবেড়িয়া জলাধার। তালবেড়িয়া থেকে সুতান ১৮ কিলোমিটার। সুতান থেকে মাত্র ২৮ কিলোমিটার দুরেই বাঁকুড়ার রানি মুকুটমণিপুর। এখানে এলে সুতান-ঝিলিমিলি ও তালবেড়িয়ার সঙ্গেই ঘুরে দেখা যাবে মুকুটমনিপুর জলাধার। অথবা যাওয়া যেতে পারে বিপ্লবী রাজা রাইচরণ ধবলদেবের অম্বিকানগর রাজবাড়ি ও বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর স্মৃতিধণ্য ছেঁদাপাথরেও। ধীরে ধীরে পর্যটকদের পরিচিত হয়ে উঠছে এইসব জায়গা।

 রিসর্ট কুটির থেকে ঝিলিমিলির বন দর্শন

 

ঝিলিমিলিতে রাত্রিবাস করতে পারেন পর্যটকরা। সেখানে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি লজ ও রিসর্ট রয়েছে। ঝিলিমিলিতে রাত্রিবাসের মূল আকর্ষণ হল রিমিল ইকো ট্যুরিজম রিসর্ট। কেরালার ট্রি- হাউসের আদলে গড়ে তোলা শাল-পিয়ালের জঙ্গলের মাঝে বাংলার গাছবাড়ি। শীতের রাতে একটু আগুন পোহানোর ব্যবস্থা থাকলে আর কী চাই!

 তালবেড়িয়া জলাধার

যেভাবে যাবেন:
রেল ও সড়ক পথে ঝিলিমিলি পৌঁছানো যায়। কলকাতা থেকে বাঁকুড়ার রেলপথের দূরত্ব ২৩৩ কিলোমিটার। ট্রেন বা বাসে  বাঁকুড়া পৌঁছে, সেখান থেকে বাসে বা অন্য কোনও গাড়ি করে ঝিলিমিলিতে যেতে হবে। ব্যাক্তিগত গাড়ি থাকলে লং ড্রাইভে ঘুরে আসুন বাঁকুড়ার এই মায়াবী বনাঞ্চল থেকে।

ছবি: bankura.gov.in

Written by