
বারাসাত ক্যাম্পাসে আয়োজিত হয় এই কর্মশালা
একুশ শতক এক অদৃশ্য জালে বন্দি, যার নাম আন্তর্জাল বা ইন্টারনেট। এই জালের সঠিক ব্যবহার মুঠোয় এনে দিতে পারে পৃথিবীকে। ব্যবসা থেকে বন্ধুত্ব, অফিস থেকে আত্মীয়তা সবদিক একসঙ্গে বজায় রাখতে এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের ভরসা ইন্টারনেট; বিশেষত কোভিড অতিমারী এবং তার পরবর্তীকালে এই ইন্টারনেট নির্ভরতা বেড়েছে আরও কয়েকগুণ। তবে প্রদীপের নিচের নিকষ অন্ধকারের মতোই ইন্টারনেট দুনিয়ারও অন্ধকার দিকের কথা অস্বীকার করা যায় না।ইন্টারনেটের সুবিধাকে সঙ্গী করে বিশ্ববাসী যখন ডিজিটালি একপাড়ার অধিবাসী, তখন অপরাধমনস্ক কিছু মানুষ ইন্টারনেটের সাহায্যেই ঘটিয়ে ফেলছে একের পর এক অঘটন। আর্থিক তছরূপ, তথ্য চুরি প্রভৃতি দুষ্কর্মের জন্য এখন অপরাধীরা হাতিয়ার করছে ইন্টারনেটকে। এই ধরনের অপরাধের নাম সাইবার অপরাধ (Cyber Crime)। এ অপরাধের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর পালিত হয় ন্যাশনাল কম্পিউটার সিকিউরিটি ডে (National Computer Security Day)।

সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে পড়াশোনা করে কীভাবে পেশাগত দিকে ভবিষ্যৎ গঠন করা যায়, তার দিশা দেখানোই এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য বলে জানান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৌশিক মিত্র।
এই ন্যাশনাল কম্পিউটার সিকিউরিটি ডে উপলক্ষে সম্প্রতি ব্রেনওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বারাসাত ক্যাম্পাস-এ সাইবার সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের উদ্যোগে ২৮ এবং ২৯ নভেম্বর দুই দিন ব্যাপী এক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে পড়াশোনা করে কীভাবে পেশাগত দিকে ভবিষ্যৎ গঠন করা যায়, তার দিশা দেখানোই এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য বলে জানান এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৌশিক মিত্র। কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন NASCOM প্রধান শ্রী সুধাংশু মিত্তল। কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বহুজাতিক সংস্থার বিশেষজ্ঞরা এই দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
ব্রেনওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় বঙ্গদর্শন.কম-কে জানান, “বর্তমান পৃথিবীতে সাইবার অপরাধের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই মানুষকে আরও বেশি করে সচেতন করতে হবে, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের। এই উদ্দেশ্যেই এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়, আর এই বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা এই বিষয় নিয়েই পড়াশোনা করছে। তাই সচেতন হওয়ার পাশাপাশি তারা এই শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কীভাবে উপার্জনের পথ প্রশস্ত করতে পারে তার দিশাও এই কর্মশালায় আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞরা ছাত্রছাত্রীদের দেখিয়ে দিচ্ছেন।
শুধু আলোচনা নয়, পাশাপাশি ক্যুইজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও ছিল এই কর্মশালার অঙ্গ। কিন্তু মূলত যাদের জন্য এই কর্মশালার আয়োজন সেই ছাত্রছাত্রীদের অভিমত কী? বঙ্গদর্শনকে এক ছাত্র জানান, “এই ধরনের কর্মশালা সবসময়ই আমাদের জন্য খুব উপযোগী। এর আগেও এরকম কর্মশালা হয়েছে, তাতে আমরা অনেক কিছু শেখার পাশাপাশি কেরিয়ারের দিশাও পাই।”

ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ট্রানজ়াকশান প্রভৃতি শব্দের পাশাপাশি ম্যালওয়ার, ফিশিং, ইনসাইডার থ্রেট প্রভৃতি শব্দের সঙ্গেও পরিচিত হতে হয়েছে আমাদের। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা এবং গণসচেতনতা খুব জরুরি। তাহলেই ইন্টারনেট আর অভিশাপ নয়, বরং আশীর্বাদ স্বরূপ হয়ে উঠবে।
