
ট্রান্স সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই এস.আই.আর.-এর মতো প্রশাসনিক চাপে বিপর্যস্ত
রূপান্তরকামী মানুষের জীবন সম্পর্কে সিস মানুষের ধারণা বেশ ভাসা ভাসা। তাই তাঁদের অগোচরে থেকে যায় যে, পরিবারে গ্রহণযোগ্যতার অভাব, স্কুলে অপমান, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, চিকিৎসা ব্যবস্থায় অসংবেদনশীলতা—সব মিলিয়ে রূপান্তরকামী যাপন নিরাপত্তাহীনতার আরেক নাম। এই পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক দেশের আইনেরই তাঁদের সবচেয়ে বড়ো ভরসাস্থল হয়ে ওঠার কথা। কিন্তু সাম্প্রতিক ‘ট্রান্সজেন্ডার অধিকার সুরক্ষা (সংশোধনী) আইন, ২০২৬’ প্রশ্ন তুলেছে— আইন কি সত্যিই তাঁদের সুরক্ষা দিচ্ছে, নাকি নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণের পথ তৈরি করছে?
গত ১৩ মার্চ সংসদে উত্থাপিত ‘ট্রান্সজেন্ডার অধিকার সুরক্ষা (সংশোধনী), ২০২৬ বিলটি মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ২৪ মার্চ লোকসভায় ও ২৫ মার্চ রাজ্যসভায় অনুমোদিত হয়ে যায়। প্রথমেই লক্ষ্যণীয়, স্বাধীনতার আটাত্তর বছর পরও এমন একটি আইন, যা রূপান্তরকামী নাগরিকদের অস্তিত্ব ও অধিকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তা সংসদে পাস হল—কোনো ট্রান্স প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই। বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে দাবি ওঠে, স্থায়ী কমিটির কাছে আলোচনার জন্য বিলটি পাঠানো হোক। কিন্তু তা মানা হয়নি। ‘জাতীয় ট্রান্সজেন্ডার কাউন্সিল’-এর সদস্য এবং সম্প্রদায়ের অন্যান্য প্রতিনিধিরাও অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের মতামতও গ্রহণ করা হয়নি। সরকারের বক্তব্য ছিল—‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটির স্পষ্ট সংজ্ঞা প্রয়োজন, সরকারি সুবিধার প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করা দরকার এবং কাউকে জোরপূর্বক ট্রান্স পরিচয়ে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাবনা রোধ করা দরকার। উল্লেখ্য, যারা জন্মগতভাবে নির্ধারিত লিঙ্গ পরিচয়ে স্বচ্ছন্দ, তাঁদের সিস মানুষ বলা হয়; আর যাঁদের মনে হয় তাঁদের মানসিক লিঙ্গ ও জৈবিক লিঙ্গের মধ্যে অমিল আছে, তাঁরা ট্রান্স মানুষ।
স্বাধীনতার আটাত্তর বছর পরও এমন একটি আইন, যা রূপান্তরকামী নাগরিকদের অস্তিত্ব ও অধিকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তা সংসদে পাস হল—কোনো ট্রান্স প্রতিনিধির উপস্থিতি ছাড়াই। বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে দাবি ওঠে, স্থায়ী কমিটির কাছে আলোচনার জন্য বিলটি পাঠানো হোক। কিন্তু তা মানা হয়নি।

২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নালসা (NALSA) রায়ে ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের নিজেদের লিঙ্গ পরিচয় নিজেরাই নির্ধারণ করার অধিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছিল—লিঙ্গ পরিচয় কোনো চিকিৎসা পরীক্ষা, সার্জারি বা জৈবিক যাচাইয়ের উপর নির্ভরশীল নয়; তা ব্যক্তির আত্মঅনুভূতির বিষয়। ব্যক্তিকে যদি আত্মপরিচয়ের পরীক্ষা দিতে হয়, তবে তা সংবিধানের মর্যাদা ও গোপনীয়তার অধিকারের পরিপন্থী হবে৷ রায়ের বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালে ট্রান্সজেন্ডার সুরক্ষা আইন প্রণীত হয়। যদিও সেই আইনের সীমাবদ্ধতা ছিল, তবু তার ভিত্তি ছিল আত্মপরিচয় নির্ধারণের অধিকারের নীতি। রাজ্য সরকারগুলির ভূমিকাও আশাব্যঞ্জক ছিল না। নালসা রায়ে সরকারি শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ১% সংরক্ষণের নির্দেশ থাকলেও কর্ণাটক ছাড়া অন্য কোনো রাজ্যে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ট্রান্স মানুষকে ধর্ষণের শাস্তি ছিল নামমাত্র। নতুন আইন এই খামতিগুলো পূরণ করার বদলে যেন আরও অর্ধশতক পিছিয়ে গেল।
কিন্তু ২০২৬ সালের সংশোধনী আইন সেই নীতির থেকে স্পষ্টভাবে সরে এসেছে। এই সংশোধনী অনুযায়ী লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে চিকিৎসক বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের হাতে। এই দুই জায়গা থেকে শংসাপত্র আনতে হবে ব্যক্তিকে। অর্থাৎ ব্যক্তির নিজস্ব পরিচয় প্রশাসনিক কলমের খোঁচার মুখাপেক্ষী। ফলে প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্রই কি এখন নির্ধারণ করবে কে ট্রান্স, আর কে নয়? যে আমলার কাছ থেকে শংসাপত্র নিতে হবে, তিনি কি ট্রান্স মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে যথেষ্ট সংবেদনশীল বা অবগত? ব্যক্তির মর্যাদা ও গোপনীয়তা কি সেখানে সুরক্ষিত থাকবে? রাষ্ট্র কি রাষ্ট্র-অনুমোদিত ট্রান্স-শরীর-এর মানচিত্র আঁকতে চাইছে? আইনের নামেই যদিও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, কিন্তু আইনটির ভাষা পড়লে বোঝা যায়—এটি আদৌ ট্রান্স মানুষের সুরক্ষার জন্য নয়, বরং অ-ট্রান্স মানুষের ট্রান্স-ভীতির প্রতিক্রিয়া। আইনের বিভিন্ন অংশে ‘ভুয়ো ট্রান্স পরিচয়’ বা ‘জোর করে লিঙ্গ পরিবর্তন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ বাস্তবে কাউকে জোর করে রূপান্তরকামী বানানো সম্ভব নয়, কারণ রূপান্তরকামিতা মূলত এক অনুভব।
সার্জারি ট্রান্স পরিচয়ের পূর্বশর্ত নয়। কৈশোর থেকে অনেক মানুষ উপলব্ধি করেন যে তাঁদের মানসিক লিঙ্গ ও জৈবিক লিঙ্গের মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। তাঁদেরই আমরা ট্রান্স মানুষ না রূপান্তরকামী বলি, কোনো সার্জারি হোক বা না হোক। এখন, তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই যে কোনো সিস মানুষের জোরপূর্বক লিঙ্গচ্ছেদ করা হয়, তবে তাঁকেও ‘ট্রান্স’ বলা হবে না; তাঁকে অত্যাচারের শিকার একজন সিস মানুষ হিসেবেই দেখা হবে। কারণ রূপান্তরের ইচ্ছা তার আত্মার অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়। এমন অপরাধের জন্য বিদ্যমান ফৌজদারি আইনেই যথেষ্ট শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু সমাজে ট্রান্স পরিচয়কে ‘হিজড়ে’ পরিচয়ের সঙ্গে একাকার করে দেখার প্রবণতার মতোই, ‘জোর করে লিঙ্গচ্ছেদ’-এর ভয়ও অনেক সিস পুরুষের মনে গেঁথে আছে।
এই ধরনের জৈবিক নির্ধারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ ইংল্যান্ডের ‘করবেট ভার্সাস করবেট’ মামলায় দেখা গিয়েছিল, যেখানে ট্রান্স নারীর স্ব-পরিচিতি অস্বীকার করা হয়েছিল। কিন্তু আজকের বিশ্বে সেই রায়কে সেকেলে বলেই বিবেচনা করা হয়। এখন চিকিৎসকের জন্মের সময় যেভাবে ‘ছেলে’ বা ‘মেয়ে’ হিসেবে চিহ্নিত করেন নবজাতককে, সেই পরিচয়কে এখন কেবল ‘জন্মলগ্নে নির্ধারিত লিঙ্গ’ হিসেবে ধরা হয়। নারীবাদের সূচনালগ্ন থেকেই ‘সেক্স’ ও ‘জেন্ডার’-এর পার্থক্য নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে, এবং এই পার্থক্য এখন সুপ্রতিষ্ঠিত। উক্ত নতুন আইনে ট্রান্স মানুষের মাত্র চারটি গোষ্ঠীর উল্লেখ রয়েছে—হিজড়া, কিন্নর, যোগতা ও আরাবানি। এগুলি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক পেশাভিত্তিক গোষ্ঠী, যাদের উপস্থিতি ধর্মীয় আচার, নৃত্যগীত ও লোকসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। সম্ভবত এই ঐতিহ্যগত পরিচয়ের কারণেই তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিন্নর আখড়ার সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগও লক্ষ্যণীয়। কিন্তু এই চারটি গোষ্ঠীর বাইরেও অসংখ্য ট্রান্স মানুষ রয়েছেন, যাঁদের বাস্তবতা এই সংকীর্ণ সংজ্ঞার মধ্যে ধরা পড়ে না। অথচ আইনে মূলত শারীরিকভাবে ইন্টারসেক্স ব্যক্তিদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাস্তবে ট্রান্স মানুষ সমাজের সব পেশাতেই আছেন—চিকিৎসক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, কৃষক, শ্রমিক কিংবা প্রান্তিক শ্রমজীবী হিসেবে। কিন্তু শংসাপত্র না থাকলে তাঁদের অনেকেই আইনের সুরক্ষার বাইরে থেকে যাবেন।

এই সংশোধনী অনুযায়ী লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে চিকিৎসক বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের হাতে। এই দুই জায়গা থেকে শংসাপত্র আনতে হবে ব্যক্তিকে। অর্থাৎ ব্যক্তির নিজস্ব পরিচয় প্রশাসনিক কলমের খোঁচার মুখাপেক্ষী। ফলে প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্রই কি এখন নির্ধারণ করবে কে ট্রান্স, আর কে নয়?
আবার ট্রান্স পুরুষদের সমস্যা এখানে একেবারেই আলোচনায় আসেনি। জন্মসূত্রে নারী হিসেবে চিহ্নিত হলেও যারা নিজেদের পুরুষ হিসেবে চেনেন, তাঁদের অনেক সময় পরিবারই “শোধরানোর” নামে যৌন সহিংসতার শিকার করে। নতুন আইনে এই বাস্তব সমস্যার কোনো সমাধান নেই।
যদি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই সার্জারির চাপ বাড়বে। কিন্তু সার্জারি কি নিরাপদ? সবসময় নয়। তাছাড়া সার্জারি নিরাপদ হলেও তা কখনোই বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকেরও অধিকার নেই কাউকে নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতিতে বাধ্য করার। সামাজিক স্বীকৃতি ও ভালোবাসার অভাব না থাকলে অনেক ট্রান্স মানুষ হয়তো ‘ছেলে’ বা ‘মেয়ে’-র নির্দিষ্ট খোপে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সার্জারির প্রয়োজন অনুভব করতেন না। অথচ এই আইনে স্বীকৃতির চাবিকাঠি রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
লিঙ্গ পরিচয়কে দুই বা তিনটি নির্দিষ্ট ভাগে সীমাবদ্ধ করা যায় না। অনেকেই নিজেদের ‘নন-বাইনারি’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। যৌন অভিমুখিতার বৈচিত্র্যের সঙ্গে মিলিয়ে লিঙ্গ পরিচয়ের আরও নানা সম্ভাবনা তৈরি হয়। এই বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকেই বলা হয় লিঙ্গ-তারল্য। এটি কোনো অস্বাভাবিকতা নয়। মানবসমাজ কেবল জৈবিক অভিযোজনের নিয়মে পরিচালিত হয় না; সেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মর্যাদার গুরুত্বও সমানভাবে রয়েছে। তাই ট্রান্স, সিস, হোমো বা হেটেরো—সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
তাত্ত্বিক ভাবে সরকারি যুক্তিকে বহু দিক থেকেই খণ্ডন করা যায়। সরকারের একটি প্রধান যুক্তি হল—‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটির একটি ‘স্পষ্ট সংজ্ঞা’ প্রয়োজন এবং “ভুয়ো ট্রান্স মানুষ” চিহ্নিত করার জন্য মেডিক্যাল ও প্রশাসনিক সার্টিফিকেশন দরকার। এই যুক্তি ধরে নেয় যে লিঙ্গ পরিচয় একটি স্থির, জৈবিকভাবে নির্ধারণযোগ্য বিষয়। কিন্তু সমকালীন জেন্ডার তত্ত্ব এই ধারণাকে বহুদিন আগেই অস্বীকার করেছে। জুডিথ বাটলার তাঁর ‘জেন্ডার ট্রাবল’ গ্রন্থে দেখিয়েছিলেন যে ‘জেন্ডার’ কোনো স্থির সত্তা নয়; বরং এটি সামাজিকভাবে নির্মিত এবং বারবার পুনরাবৃত্ত আচরণের মাধ্যমে গঠিত এক পারফরমেটিভ পরিচয়। অর্থাৎ ‘পুরুষ’ বা ‘নারী’ হওয়া জন্মগত কোনো অপরিবর্তনীয় সত্য নয়, বরং সামাজিক পারফর্ম্যান্সের দ্বারা ক্রমাগত নির্মিত একটি পরিচয়। সরকারের আরেকটি যুক্তি, ‘জোর করে কাউকে ট্রান্স বানানো’ আটকানো প্রয়োজন। এই যুক্তিটিও তাত্ত্বিকভাবে দুর্বল। বাটলারের ভাষায়, লিঙ্গ পরিচয় কেবল শরীরের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং সামাজিক সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সৃষ্ট। এই প্রসঙ্গে ফুকোর ‘বায়ো-পাওয়ার’-এর ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।
ফুকো দেখিয়েছিলেন, আধুনিক রাষ্ট্র মানুষের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রশাসনিক কাঠামো ব্যবহার করে। এছাড়া গে রুবিন দেখিয়েছিলেন, সমাজ সব সময়ই কিছু যৌন ও লিঙ্গ পরিচয়কে ‘স্বাভাবিক’ এবং অন্যগুলিকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করে। ‘ভুয়ো ট্রান্স’ চিহ্নিত করার রাষ্ট্রীয় উদ্বেগ সেই নিয়ন্ত্রণমূলক মনোভাবেরই প্রতিফলন।

বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক প্রবণতার উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ট্রান্স মানুষের অধিকার সংকুচিত হচ্ছে ভারত-সহ নানা দেশেই। যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তও সেই প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। ভারত-সহ অন্যান্য দেশেও তার প্রভাব স্পষ্ট।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চর্চাতেও এখন স্বীকৃত যে লিঙ্গ পরিচয় একটি স্বনির্বাচিত অধিকার। সুপ্রিম কোর্টের নালসা রায়ও এই অবস্থানকেই সমর্থন করেছিল। ফলে চিকিৎসক বোর্ড বা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণের ব্যবস্থা শুধু বৈজ্ঞানিকভাবেই নয়, সাংবিধানিকভাবেও সমস্যাজনক। বিশ্বজুড়ে দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক প্রবণতার উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ট্রান্স মানুষের অধিকার সংকুচিত হচ্ছে ভারত-সহ নানা দেশেই। যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তও সেই প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়। ভারত-সহ অন্যান্য দেশেও তার প্রভাব স্পষ্ট।
পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে কারণ ট্রান্স সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই এস.আই.আর.-এর মতো প্রশাসনিক চাপে বিপর্যস্ত। এই সংকটময় সময়ে আমরা সিস নাগরিকেরা যথেষ্ট সমমর্মী সামাজিক ভূমিকা গ্রহণ করতে পারছি কি?
_________
মতামত লেখকের নিজস্ব
