
না, জটায়ু নন। এই লালমোহন আসলে এক মিষ্টির নাম
শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়িতে বছরের পর বছর ধরে বাজিমাত করে চলেছে লালমোহন। অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন লালমোহন আবার কে? চমকাবেন না। লালমোহন আসলে একটি মিষ্টির নাম। আজ থেকে সত্তর বছর আগে যখন ফুলবাড়িতে লোকজন বলতে প্রায় কেউই ছিল না, তখন দেশভাগের পর ময়মনসিংহ থেকে আসা প্রয়াত মণীন্দ্রমোহন ঘোষ এই ‘লালমোহন’ নামক মিষ্টির জন্ম দেন। ওপার বাংলায় এ-ধরনের মিষ্টি থাকলেও, এপার বাংলায় নেই। তাই কার্যত ফুলবাড়ি দিয়েই এর ইতিহাস তৈরি হয়। এখন মণীন্দ্রবাবু না থাকলেও তাঁর ছেলে এই মিষ্টির ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

ছানা, ক্ষীর, ময়দা মিশিয়ে তা গরম করার মাধ্যমে বিভিন্ন পদ্ধতিতে তৈরি হয় লালমোহন। অতি সামান্য লালচে ভাব আছে তাতে। দুই ধরনের লালমোহন রয়েছে। বড়টির দাম ১২ টাকা, ছোটোটির দাম ৭ টাকা। প্রয়াত মণীন্দ্রমোহন ঘোষের ছেলে রতন ঘোষ এবং নাতি রূপম ঘোষ জানালেন, কলকাতা, দিল্লি, মুম্বাই গিয়েছে তাঁদের হাতে তৈরি লালমোহন। এমনকি আমেরিকা, লন্ডন থেকে উত্তরবঙ্গ বেড়াতে আসা অনেক বিদেশী পর্যটকও এই লালমোহন কিনে নিয়ে গিয়েছেন।
আরও পড়ুন
কমলাভোগের কাহিনী

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের বহু শিল্পী এই লালমোহন খেয়ে প্রশংসা করে গিয়েছেন। তাদের দেওয়া অটোগ্রাফই হল সম্পদ রতন ঘোষের কাছে। তিনি জানালেন, প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী মান্না দে দু’বার শিলিগুড়ি এসেছিলেন অনুষ্ঠান করতে। সেই সময় লালমোহন খেয়ে তারিফ করেছেন। পরে বিশেষ অর্ডার দিয়ে মুম্বাইতে এই লালমোহন নিয়ে গিয়েছেন। কিশোর কুমার, অভিনেত্রী লিনা চন্দ্রভারকর, অমিত কুমার, রঞ্জিত মল্লিক সহ আরও অনেকে এই লালমোহন খেয়ে প্রশংসা করেছেন। সেসব ফুলবাড়ির সেই দোকানে শোভা পাচ্ছে আজও। কিছুদিন আগে রসগোল্লা সরকারি স্বীকৃতি পেলে জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন ফুলবাড়ির এই লালমোহনের কিছু নমুনা নিয়ে যায় জলপাইগুড়িতে। ভবিষ্যতে এই মিষ্টি কীভাবে বাঁচিয়ে রাখা যাবে, তা নিয়ে চিন্তিত বর্তমান নির্মাতা রতন ঘোষ।

