
২০১০ সালে স্টিফেন চার্লসের উদ্যোগে যাত্রা শুরু হয় স্কুলটির
অর্জুন পাসওয়ান (আসল নাম নয়) রিকশা চালান। সকাল থেকে রাত, শিলিগুড়ি (Siliguri) শহরে চলে তাঁর হাড়ভাঙা খাটুনি। কিন্তু রোজ সকালে তিনি রিকশা নিয়ে বেরনোর পথে ছেলেকে কোট-প্যান্ট-টাই পরিয়ে ‘ইংরেজি মাধ্যম’ একটি স্কুলে পৌঁছে দেন। অর্জুন স্বপ্ন দেখেন, যদি তাঁর ছেলে ছোটো থেকেই ইংরেজিতে তুখোড় হয়, তাহলে কেউই তাঁকে কাবু করতে পারবে না ভবিষ্যতে। যদিও এ নিয়ে বহু তর্ক রয়েছে সমাজে। ইংরেজি ভাষা শেখা কোনো অপরাধের নয়, যদি না মাতৃভাষা ভুলে যায়।
এই মত অর্জুন পাসওয়ানের মতো আরও অনেকেরই। মূলস্রোত থেকে পিছিয়ে পড়া এই লোকেরা থাকেন শিলিগুড়ির দার্জিলিং মোড় লাগোয়া এক বস্তিতে। তাঁদের সন্তান যেন সঠিক শিক্ষা পায়। নিচু জাত বলে কেউ যেন অবজ্ঞা করতে না পারে। অর্জুন বঙ্গদর্শনকে জানান, “শহরে রিকশা চালাতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশের লাঠি হজম করতে হয়েছে। তার জবাবে ছেলেটা যদি পুলিশ অফিসার হয়! আমি এ স্বপ্নই দেখি।”

শিলিগুড়ির বস্তিতে এসেছে হাসি। বাংলা, হিন্দি, নেপালির পাশাপাশি ইংরেজিতেও বিশেষ ভাবে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। এই মহান উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে ‘স্প্রিং ডেল একাদেমি’।
দার্জিলিং মোড়ের (Darjeeling More) একটি স্কুলে কোনো এক ছাত্রের বাবা রিকশা চালান, কেউ আবার ফেরিওয়ালা। কিন্তু তাঁদের স্বপ্ন গতে বাঁধা নয়, অনেক বড়ো। ছেলেমেয়েরা হয়ে উঠবে ডাক্তার, পুলিশ, নার্স, শিক্ষক – ভবিষ্যতে সমাজের ভিত। বস্তিতে হাসি আসবে। কিংবা কোনো বস্তিই হয়তো আর থাকবে না! তাই বাংলা, হিন্দি, নেপালির পাশাপাশি ইংরেজিতেও বিশেষ ভাবে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এই মহান উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে ‘স্প্রিং ডেল একাদেমি’ (Spring Dale Academy)।

অনগ্রসর হতদরিদ্র পরিবারগুলোর ছেলেমেয়েদের ছোটো থেকেই নামমাত্র খরচে ইংরেজি শেখানোর তালিম দিতে শুরু করেছে এই স্কুল। বেসরকারি এই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের প্রধান স্টিফেন চার্লস বঙ্গদর্শনকে জানালেন, তাঁরা স্কুলে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচিও গ্রহণ করছেন। যাতে ছাত্রদের পুঁথিগত পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজ সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানটাও তৈরি হয়।

২০১০ সালে স্টিফেন চার্লসের উদ্যোগে যাত্রা শুরু হয় স্কুলটির। তখন ছাত্রছাত্রী ছিল মাত্র ১৫ জন। করোনা শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত সে স্কুলে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ১৩০-এ পৌঁছে যায়। করোনার পর আবার ছাত্রছাত্রী সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯০-তে। ছাত্রছাত্রীদের মাসিক খরচ কমপক্ষে ৫০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা। নার্সারি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হয়। স্টিফেন চার্লস বলেন, “বস্তির ছেলেমেয়েদের মধ্যে অনেক প্রতিভা রয়েছে। তারা ঠিকমতো ইংরেজি শিখলে এবং ঠিকমতো তালিম পেলে আমরা অনেক সুনাগরিক পাব। তাতে দেশেরই মঙ্গল।”
