খেলার মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে ফিরছেন কারাবন্দিরা

করোনা পরিস্থিতির জেরে বাইরে থেকে জেল বা সংশোধনাগারের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রবেশ আপাতত নিষেধ। এই স্বেচ্ছাসেবীদের অনেকেই বন্দিদের হাতের কাজ শেখাতেন। অন্যরকম পরিবেশ গড়ে তুলতে খেলাধুলোর ওপর জোর দেওয়া শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গের বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। সেখানকার সুপার নবীন কুজুর জানাচ্ছেন, বন্দিরা যাতে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে না করেন, তার জন্য খেলার বেশ কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

বন্দি ও সংশোধনগার কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ভলিবল টুর্নামেন্ট 

এই সময় মহিলা পুরুষ মিলিয়ে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ৭২৫ জন বন্দি রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই সাজাপ্রাপ্ত। কিছু বিচারাধীন বন্দি রয়েছেন। আবার বাংলাদেশ থেকে বেআইনি  অনুপ্রবেশ করা বন্দিও আছেন। বন্দিদের অনেকে খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, কেউ কারাদণ্ড পেয়েছেন ধর্ষণ বা অন্য ঘটনায়। এঁরা যাতে মূল স্রোতে ফিরতে পারেন কিংবা বন্দিদশা কাটিয়ে বাইরে বের হলে যাতে বিচ্ছিন্ন মনে না করেন, সেজন্য সংশোধনাগারের মধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। তাঁদের মানসিক অবস্থারও উন্নতি ঘটানো হয় সংশোধনাগারের মধ্যে। কিন্তু এখন করোনা পরিস্থিতির জন্য কিছু কর্মসূচি স্থগিত থাকায় খেলাধুলোকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। তারই অঙ্গ হিসাবে বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি ও সংশোধনগার কর্মীদের মধ্যে ভলিবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুপার নবীন কুজুর।

স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে বন্দিদের নিয়ে পিকনিক অনুষ্ঠিত হল 

ভলিবল টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে গত ১২ জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে বন্দিদের নিয়ে সেখানে পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়। নিজেরাই রান্না করেন বন্দিরা, তাঁদের মধ্যে পরস্পর মিলেমিশে থাকার বার্তা দেওয়া হয় পিকনিকের মাধ্যমে। শুধু এসবই নয়, সংশোধনাগারের মধ্যে চলছে জৈব পদ্ধতি বা গোবর সার দিয়ে চাষবাস। বন্দিরা নিজেরাই সেখানে বাঁধাকপি, ফুলকপি, গাজর, বেগুন, পালংশাক, ধনেপাতার চাষ করছেন।

বন্দিরাই রান্না করেছেন  

সুপার জানিয়েছেন, বিভিন্ন ভাবে বন্দিদের মনকে ফ্রেশ রাখার কাজ তাঁরা করেন। এর জন্য খেলাধুলো একটি মাধ্যম, পরিবেশ বদলে দিতেই সব আয়োজন। ভলিবল টুর্নামেন্ট এক মাস ধরে চলবে। তারপর হবে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। তারপর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এসবের মাধ্যমে বহু বন্দির বন্দিদশার যন্ত্রণা যেমন কাটছে তেমনই তাঁদের লুকোনো প্রতিভা বেরিয়ে আসছে। আর পরস্পর সম্প্রীতি বাড়ছে। যে সব বন্দি ভলিবল, ক্রিকেট খেলতে পারছেন না, তাঁদের জন্য ইন্ডোর গেমসের ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন ক্যারাম, দাবা, লুডো প্রভৃতি। করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি বিদায় নিলে বাইরে থেকে স্বেচ্ছাসেবী, প্রশিক্ষকরা আসবেন। শুরু হবে হাতের কাজ শেখানো। তার সঙ্গে সংস্কৃতির বিকাশে সঙ্গীত, অঙ্কনচর্চা  প্রভৃতি। তবে এখন খেলাধুলোই বড়ো হাতিয়ার।

পরস্পর মিলেমিশে থাকার বার্তা দেওয়া হয় 

Written by