
ইয়া লম্বা ব্যানার। দৈর্ঘ্যে তা ফুট দশেক তো হবেই কমপক্ষে। মাঝে সাদা রংয়ে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা দুটো শব্দ, ‘বাঙাল বাহিনী’। ব্যানারের রং আন্দাজ করার জন্য কোনও পুরস্কার নেই। লাল-হলুদ।
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে ইস্ট-মোহনের হাইভোল্টেজ দ্বৈরথ। লাইভ টেলিকাস্টে ক্যামেরা টইটম্বুর গ্যালারির ‘মুড’ ধরছে বিভিন্ন আনাচেকানাচে। পতাকায়-ব্যানারে ছয়লাপ স্টেডিয়াম। সবুজ-মেরুনের ‘উই লাভ মেরিনার্স’ থেকে বারাসাতের ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ক্লাবের ‘স্পর্ধার রং লাল-হলুদ’। এমন আরও যে কত! ওই ‘কত’-র মধ্যেই চোখ অবধারিত আটকে যায় লাল-হলুদ গ্যালারির আপার টিয়ারের কার্নিশে ঝুলতে-থাকা ওই ব্যানারে। গাঢ় সাদা রংয়ে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা দুটো শব্দে। বাঙাল বাহিনী।
বাঙাল বাহিনী? ক্যামেরা যখন আলতো কয়েক সেকেন্ড ছুঁয়ে যাচ্ছে ওই ব্যানারের সন্নিহিত লাল-হলুদ জনতাকে, মুখগুলো দেখতে থাকি যথাসাধ্য মনোযোগে। সংখ্যাগরিষ্ঠের গড় বয়স কত হবে? খুব বেশি হলে বাইশ থেকে পঁয়ত্রিশ। মানে, গত শতাব্দীর নয়ের দশক থেকে এ শতকের শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে জন্ম। জন্ম এবং বেড়ে ওঠা এমন এক সময়কালে, যার অন্তত চার দশক আগে দেশভাগ। লক্ষ লক্ষ বাঙালির ছিন্নমূল হওয়া। পিতৃপুরুষের ভিটেমাটি ছাড়া হওয়া। ঘটি-অধ্যুষিত পশ্চিমবঙ্গে পূর্ববঙ্গের শরিক হওয়া। কলোনি-জীবনে দাঁতে-দাঁত অস্তিত্বের লড়াইয়ে সৈনিক হওয়া।

ইস্টবেঙ্গলের উচ্ছ্বাস
সে সব যখন ঘটছে দেশভাগ-উত্তর টালমাটাল সময়ে, নতুন করে যখন লেখা হচ্ছে বঙ্গজীবনের চালচিত্র, এই মাথায় লাল-হলুদ ফেট্টি বাঁধা কিশোর-তরুণ-যুবকদের তো জন্মই হয়নি। এরা সংশয়াতীতভাবে ‘মাসিমা, মালপো খামু’ বা ‘কাইট্যা ফেলুম’ প্রজন্ম নয়। আর্থসামাজিক প্রয়োজনে, ব্যবহারিক জীবনের যুগোপযোগী তাগিদে ওদের নব্বই শতাংশেরই ভাষা প্রমিত বাংলা, ‘মেরে ফেলব, কেটে ফেলব’ বা ‘মাসিমা, মালপোয়া খাব’। খাঁটি বাঙ্গালত্বের ওরা কী বোঝে? কী বোঝে ওরা পূর্ববঙ্গের ভাষা-খাদ্য-সংস্কৃতির বাঙালচরিতের? এই ২০২৩-এও ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচে তবু তরুণ তুর্কিদের ‘বাঙাল বাহিনী?’ খটকা লাগে দেখে। রাতের সব তারাই তাহলে আছে দিনের আলোর গভীরে? দেশভাগের পঁচাত্তর বছর পরেও? বাঙালের তাহলে কোনও জেনারেশন গ্যাপ নেই? ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচের মতো স্রেফ একটা স্ফুলিঙ্গ প্রয়োজন বাঙাল অস্মিতার চোরাস্রোতে অগ্নিসংযোগ করতে? যে স্রোতের নাম ‘বাঙাল বাহিনী?’ নাকি এ স্রেফ মুহূর্তের হুজুগ, সাময়িক উদ্দীপনা?
সবুজ-মেরুনের ‘উই লাভ মেরিনার্স’ থেকে বারাসাতের ইস্টবেঙ্গল ফ্যানস ক্লাবের ‘স্পর্ধার রং লাল-হলুদ’। এমন আরও যে কত! ওই ‘কত’-র মধ্যেই চোখ অবধারিত আটকে যায় লাল-হলুদ গ্যালারির আপার টিয়ারের কার্নিশে ঝুলতে-থাকা ওই ব্যানারে। গাঢ় সাদা রংয়ে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা দুটো শব্দে। বাঙাল বাহিনী।
দেশভাগের পর ওপার বাংলার যে বিপুল পূর্ববঙ্গীয় জনগোষ্ঠী সহায়সম্বলহীন বাস্তুহারা হয়ে লাখে লাখে পাড়ি দিয়েছিল এপার বাংলায়, যাঁদের হাত ধরে রাতারাতি শহর-মফস্সলের কেন্দ্রে-উপকণ্ঠে গড়ে উঠেছিল বহুসংখ্যক রিফিউজি-কলোনি, সে বাঙাল বাহিনীর মোটামুটি তিনটি মূল চরিত্রচিহ্ন ছিল। খাদ্যাভ্যাস, ভাষা এবং ফুটবলে লাল-হলুদ আনুগত্য।

খাদ্যাভ্যাসের পূর্ব-পশ্চিম বিভাজনের কথাই যদি ধরি, সে পাঁচের দশকেও ছিল, আছে আজও। তবে সময়ের অনিবার্য প্রকোপে সে ভেদরেখাও ক্ষয়িষ্ণু হয়ে এসেছে ক্রমশ। এবং হালকা রসিকতা আর মিঠে খুনসুটির স্তরেই সীমাবদ্ধ থেকেছে ঘটি-বাঙালের রসনারুচির তুলনামূলক ভালো-মন্দ। যা কখনই সামগ্রিক জাতিসত্তার আত্মাভিমানের দ্যোতক হয়ে ওঠেনি। বরং এপার বাংলার ‘নুচি’ বা পোস্ত সমাদরে ঠাঁই পেয়েছে ‘বহিরাগত’ বাস্তুচ্যুতদের হেঁশেলে। পশ্চিমবঙ্গীয় রান্নাঘরেও দাপটে জায়গা করে নিয়েছে ইলিশের মাথা দিয়ে কচুশাক বা কুমড়োফুলের বড়া। প্রাথমিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে রসনাতৃপ্তির উদারীকরণ ঘটে গেছে একপ্রকার নিঃশব্দেই, বাঙালির স্বাদকোরক ‘বিবিধের মাঝে মিলন মহান’-এ বিশ্বাসী হয়ে উঠেছে।
একটা দীর্ঘ সময় ধরে বাঙাল জাত্যাভিমানের প্রকাশের এক নিঃসংশয় দিকচিহ্ন হয়ে উঠেছিল লাল-হলুদ জার্সি, অনস্বীকার্য। ক্লাবের নামের মধ্যেই তো পূর্ববঙ্গের অব্যর্থ অভিজ্ঞান। ইস্টবেঙ্গল। তবে এপার-ওপারের বিভাজনরেখা ক্রমশ অপসৃয়মান ফুটবলেও। ১৯১১-য়, দেশভাগের ঢের আগে, বিদেশি দলকে হারিয়ে সবুজ-মেরুনের সেই ঐতিহাসিক শিল্ডজয়ী টিমে পূর্ববঙ্গেরও ছিলেন কয়েকজন। সাতের দশকের সেই উত্তাল ফুটবল-সময়েও কখনও এমন ঘটেনি, মোহনবাগানে শুধুই এপার বাংলার প্লেয়ার খেলবে, আর ইস্টবেঙ্গলে ওপারের। আর এখন? ডার্বি ম্যাচে ম্যাটাডোর-ট্রাকে করে ‘জয় ইস্টবেঙ্গল’ রণহুঙ্কার দিতে দিতে বাইপাস কাঁপায় যে তরুণদল, তারাও জানে, ঘটি-বাঙাল তো দূরস্থান, দুটো টিম মিলিয়ে জনাপাঁচেক বাঙালি খুঁজতে গেলে ইসরোর সুপার-পাওয়ারফুল টেলিস্কোপ লাগবে। তবু ওই যে, অভ্যেস! ফুটবল মাঠে ‘আমরা-ওরা’-র উত্তাপের আঁচে নিজেদের সাময়িক সেঁকে নেওয়ার অভ্যেস। যে অভ্যেসে জাতিসত্তার সামগ্রিক এবং দীর্ঘস্থায়ী প্ৰকাশ অমিল।
ভাষা? দেশভাগের পর বঙ্গদেশে গড়ে ওঠা কলোনিগুলিতে ছিন্নমূল উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠী যখন শুরু করেছিল জীবিকার অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই আর পরভূমে অস্তিত্বরক্ষার সংগ্রাম, ‘আ মরি বাঙাল ভাষা’-ই ছিল বাস্তুহারা মানুষগুলোর অন্যতম অবলম্বন। অবলম্বন, শিকড়কে আঁকড়ে ধরে থাকার।
কিন্তু কলোনির বাইরে? আশ্রয়শিবিরের বাইরে? পূর্ববঙ্গ থেকে আগতদের সকলেই কলোনির বাসিন্দা ছিলেন, এমন ভেবে নেওয়াটা সরলীকরণ হবে। উত্তর ও মধ্য কলকাতার বিভিন্ন পাড়ায় ঠাঁই নিয়েছিলেন অনেকে। যাঁরা ঘরের মধ্যে কথা বলতেন বাঙাল ভাষায়, পাড়ার লোকদের সঙ্গে এবং কর্মক্ষেত্রে কলকাতার বাংলায়, আবার অবাঙালিদের সঙ্গে বাধ্যতামূলক হিন্দিতেও। বস্তুত, পেশাগত এবং সামাজিক বহির্জগতে বাঙাল ভাষার প্রতি একটা অনীহা যত টের পেয়েছেন পূর্ববঙ্গের মানুষ, ততই মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন এপার বাংলার কথ্য ভাষার সঙ্গে। ‘আইস’ বদলে গিয়েছে ‘এসো’-য়, ‘ক্যান’ বদলে গিয়েছে ‘কেন’-য়। এই ভাষা-সংস্কারের প্ৰতিফলন পড়েছে সমকালীন শিল্প-সাহিত্য-সিনেমাতেও। ঋত্বিক ঘটকের মেঘে ঢাকা তারা-য় মাস্টারমশাইয়ের মুখের ভাষা আগাগোড়া বাঙাল, নীতার কিন্তু সর্বদা তা নয়।
সহজ সত্যিটা হল, পরিবেশ, পরিসর ও ব্যক্তির সামাজিক অবস্থা ও অবস্থান অনুযায়ী ঘটেছে বাঙাল ভাষার ব্যবহারবিধির পরিবর্তন। প্রমিত বাংলা একরকম গ্রাসই করে নিয়েছে বাঙাল ভাষাকে। আজকের ‘বাঙাল’ কিশোর-যুবক-মাঝবয়সিদের কথ্য ভাষায় ‘কমু’, ‘যামু’ শুনতে পাওয়াটা ধর্মতলায় বরফ পড়ার মতোই অত্যাশ্চর্য। বাড়ির প্রৌঢ় বা বৃদ্ধস্থানীয়রা হয়তো এখনও ‘খাবা’, ‘যাবা’, ‘বলবা’ ব্যবহার করে থাকেন, কিন্তু তরুণতর প্রজন্ম যে পারিবারিক, ব্যবহারিক এবং সামাজিক বৃত্তে এ দেশীয় সাবেক বাংলাতেই স্বচ্ছন্দ, কে অস্বীকার করবে?
পরিবেশ-পরিসর-সামাজিক অবস্থান শুধু ভাষাকেই প্রভাবিত করেনি, দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে আরও গভীরে, বাঙাল-অস্মিতার একেবারে অন্তঃস্থলে। কলোনি-জীবনের প্রাথমিক স্মৃতিকে যাঁরা পেছনে ফেলে সাবেক শহর-শহরতলির বাসিন্দা হতে পেরেছেন পাঁচের বা ছয়ের দশকে এবং ক্রমে অনেকটাই সম্পৃক্ত হতে পেরেছেন পশ্চিমবঙ্গীয় জীবনচর্যার সঙ্গে, তাঁদের পরিবারসমূহের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে দেশভাগ জনিত কোনও আবেগ, বিষাদ বা স্মৃতিমেদুরতা দাগ কাটে না সেভাবে। কাজ করে না ‘বাঙালত্ব’ নিয়ে কোনও আন্তরিক অস্মিতাবোধ। এরা বাঙালি। বাঙাল নন। কলকাতার কথাই যদি ধরি, বালিগঞ্জ-গল্ফগ্রীন-আলিপুর বা সাবেক উত্তর কলকাতায় যে বাঙালরা বংশানুক্রমে থাকতে পেরেছেন, তাঁদের পরিবারের বয়স্কতম প্রজন্ম ছাড়া আর কেউই যে ‘বাঙালত্ব’ বা দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে খুব একটা পীড়িত, এমন ভাবাটা বাতুলতাই।
মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। দেশভাগের পর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যাঁদের কলোনি-সংস্কৃতিতেই দিনাতিপাত, তাঁদের মনোভঙ্গি ভিন্ন সহজবোধ্য কারণেই। বনগাঁ-বারাসাত-বসিরহাট-দমদম-টালিগঞ্জ-বিজয়গড়-গড়িয়া-বাঁশদ্রোণীর মতো জনপদগুলির কথা ভাবুন। সেই পাঁচের দশকের বাঁশের ছাউনি বা হোগলাপাতার ঘর আর নেই এসব জায়গায়। পাকা বাড়ি, বহুতল, আধুনিক আমাদের উপকরণ-নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্তে উত্তরণের স্বাক্ষর প্রায় সর্বত্রই। কিন্তু আদতে কলোনি-এলাকায় জীবনযাপনের এই পরিবর্তন মূলত বহিরঙ্গেই। অন্তরঙ্গে থেকেই গিয়েছে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ক্ষত এবং তারই পাশাপাশি সব হারিয়েও পরভূমে জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার একটা অন্তর্লীন অহং। যা জারিত হয়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। যে অহং-এর নিখুঁত রূপটান উঠে আসে অধ্যাপক তপন রায়চৌধুরীর ‘বাঙালনামা’ গ্রন্থে, “বাঙালের শ্রমের অন্নে আমার দেহ পুষ্ট, বাঙালের ভাষা আমার ভাষা, বাঙালের পবিত্র ক্রোধ আমার দুর্দিনের সহায় — আমি বাঙাল না হলে কে বাঙাল? বাঙালের দেহ বাঙালের চরিত্র নিয়ে দুনিয়ার ঘাটে ঘাটে নৌকা বেঁধেছি, অন্নের সংস্থান করেছি। আমার বাঙালের চাপরাশ কেড়ে নেয় এমন ক্ষমতা কার আছে?”

দেশভাগের পর কলকাতার বিজয়গড় অঞ্চলে তৈরি হওয়া বাজার
আর ছিন্নমূল হওয়ার ক্ষত-যন্ত্রণা-হাহাকার-শূন্যতা? যার তীব্রতা হয়তো কমেছে কালের নিয়মে, কিন্তু উপশম হয়েছে কি? হওয়া আদৌ সম্ভব? কলোনি-যাপন দিয়ে যাঁদের এ দেশে বসবাসের শুরু এবং সেখানেই ক্রমপ্রতিষ্ঠা, তাঁদের কাছে ওই ক্ষতের কোনও ‘জেনারেশন গ্যাপ’ নেই। দাদু-ঠাকুমা-বাবা-জ্যাঠাদের কাছ থেকে ‘দ্যাশের বাড়ি’-র গল্প। গ্রামের ভিটার ‘পাইড় বাঁধানো গাং’-এর গল্প। গরান খুঁটি আর হোগলা পাতার ঘরের গল্প। ‘পুকুর থিক্যা মাছ ধইরা’ খাওয়ার গল্প। ময়মনসিংহের মাটি, বরিশালের বাজার, খুলনার পাঠশালার গল্প। আড়িয়াল খাঁ নদীতে ‘বাইন’ ডাকার গল্প। বাপ-পিতামহের ভিটেমাটি ছাড়ার গল্প। মাথার উপর ছাদবিহীন অবস্থায় লক্ষ লক্ষ মানুষের শিয়ালদা স্টেশনে কুকুর-বেড়ালের মতো রাত কাটানোর গল্প। যারা এসব শুনে বড়ো হয়েছে, সে পরবর্তীতে তারা যতই সুসময়ের মুখ দেখুক, হৃদয় খুঁড়ে বেদনার বীজ তো একটা থেকেই যায়। সেই বীজই নবপ্রজন্মের বাঙাল জনতার সূতিকাগৃহ। যারা সদর্পে এবং হয়তো বা সখেদে, যুবভারতীতে বড়ো ম্যাচের দিন ‘বাঙাল বাহিনী’-র ব্যানার ঝোলায়। আগামীতেও ঝোলাবে সন্দেহাতীত।
শঙ্খ ঘোষ-এর ‘পুনর্বাসন’ কবিতার অমোঘ পংক্তিগুলি মনে পড়ে যায় এই লেখায় দাঁড়ি টানতে গিয়ে।
“যা কিছু আমার চারপাশে ছিল
ঘাসপাথর
সরীসৃপ
ভাঙা মন্দির
যা কিছু আমার চারপাশে ছিল
নির্বাসন
কথামালা
একলা সূর্যাস্ত
যা কিছু আমার চারপাশে ছিল
ধ্বস্ত
তীরবল্লম
ভিটেমাটি
সমস্ত একসঙ্গে কেঁপে ওঠে পশ্চিম মুখে
স্মৃতি যেন দীর্ঘযাত্রী দলদঙ্গল
ভাঙা বাক্স পড়ে থাকে আমগাছের ছায়ায়
এক পা ছেড়ে অন্য পায়ে হঠাৎ সব বাস্তুহীন।”
হঠাৎ বাস্তুহীন। হঠাৎ বলেই হয়তো পঁচাত্তর বছর পরেও কিছু মায়া শেষ পর্যন্ত রহিয়াই যায়। ওই মায়াটুকুই মোক্ষ। নবপ্রজন্মের বাঙালত্ব।
