
সুমন লিখেছেন, তাঁর জীবনে কোনও হতাশা, দুঃখ, ব্যর্থতাবোধ, অবসাদ নেই
২৩ অক্টোবর শুক্রবার হঠাৎই ফেসবুকে স্বহস্তে লেখা একটি ইচ্ছাপত্র পোস্ট করলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। এমনকি ফেসবুক পোস্টের নিচে লিখে দিয়েছেন, ‘জন্মস্বাধীন। স্বপরিশ্রমে ও স্বখরচায় স্বেচ্ছাচারী, কবীর সুমন’। এই পোস্ট নিয়েই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এখনও পর্যন্ত ১২০টি শেয়ার হয়েছে এই পোস্টে। যেখানে তিনি বলেছেন, মৃত্যুর পর তাঁর সমস্ত সৃষ্টি যেন ট্রাকে করে নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করে দেয় কলকাতা পুরসভা।
‘সকলের অবগতির জন্য’ শিরোনামে নিজের হাতে লেখা ইচ্ছাপত্রে সুমন লিখেছেন, ‘আমার মৃতদেহ যেন দান করা হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাজে। কোনও স্মরণসভা, শোকসভা, প্রার্থনাসভা যেন না হয়। আমার সমস্ত পাণ্ডুলিপি, গান, রচনা, স্বরলিপি, রেকর্ডিং, হার্ড ডিস্ক, পেনড্রাইভ, লেখার খাতা, প্রিন্ট আউট যেন কলকাতা পুরসভার গাড়ি ডেকে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সেগুলি ধ্বংস করার জন্য। আমার কোনও কিছু যেন আমার মৃত্যুর পর পড়ে না থাকে। আমার ব্যবহার করা সব যন্ত্র, বাজনা, সরঞ্জাম যেন ধ্বংস করা হয়। এর অন্যথা হবে আমার অপমান’।
সুমন আরও লিখছেন, ‘খুব জরুরি বিষয়। আবেগহীনভাবে সকলকে জানিয়ে রাখছি, কারণ হঠাৎ কিছু ঘটে গেলে কঠিন সমস্যা দেখা দেয়। প্রায় অনুরূপ একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল ২০১২ সালে আমি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবার পর। খোলাখুলি সকলকে জানিয়ে রাখছি। অনুগ্রহ করে মতামত দেবেন না। ভালোমন্দ কিছু লিখবেন না। এটা এক প্রবীণ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি। অনেক অভিজ্ঞতার পর, অনেক ভেবেচিন্তে লিখছি। ফেসবুকে, যাতে অনেকেই এটা জেনে যান। অনুগ্রহ করে আবেগের বশবর্তী হবেন না, উপদেশ পরামর্শ দেবেন না’। লিখছেন, ‘আমার জীবনে কোনও হতাশা, দুঃখ, ব্যর্থতাবোধ, অবসাদ নেই। আমি সানন্দে বেঁচে আছি। আমার কাজ করে যাচ্ছি’।
কবীর সুমনের ইচ্ছাপত্র
বাংলা গানের জগতে নতুন হাওয়া এসেছিল কবীর সুমনের হাত ধরে। নব্বইয়ের দশকে ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবাম বেজে উঠেছিল বাঙালির ঘরে ঘরে। এই পোস্টে তিনি লিখেছেন, তাঁর ধর্ম কাজ। প্রতিনিয়ত তিনি কাজ করে যাচ্ছেন, অর্থাৎ স্বধর্ম পালন করছেন। তিনি সানন্দে, খুশি মনে মারা যাবেন। তিনি বেঁচে আছেন বাংলা খেয়ালের জন্য। তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভালোবাসা কাম-কামনা খামখেয়ালিপনা এক ধরনের ক্ষ্যাপামি আর সুরতাললয়ে থেকে মৃত্যুর অপেক্ষায়। অন্য কোনও বিষয়ে তিনি নেই।
গীতিকার, সুরকার, সংগীতশিল্পী, প্রাক্তন সাংসদ জানিয়েছেন, ‘সজ্ঞানে, সচেতন অবস্থায়, স্বাধীন ভাবনাচিন্তা ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমি জানাচ্ছি, আমার কোনও অসুখ করলে, আমায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে, অথবা আমি মারা গেলে, আমার সম্পর্কিত সব কিছুর, প্রতিটি বিষয় ও ক্ষেত্রে দায়িত্বগ্রহণ এবং সিদ্ধান্তগ্রহণের অধিকার থাকবে একমাত্র মৃন্ময়ী তোকদারের (মায়ের নাম প্রয়াত প্রতিমা তোকদার, বাবার নাম দেবব্রত তোকদার)। অন্য কারওর কোনও অধিকার থাকবে না এই সব বিষয় ও ক্ষেত্রে’।
সুমনের পোস্টের নিচে মৃন্ময়ী লিখেছেন, তিনি সুমনের দেওয়া ওই দায়িত্ব স্বীকার করে নিচ্ছেন।

