
আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি কেরালায় শুরু হতে চলেছে সন্তোষ ট্রফি ফুটবল
লড়াই আর লড়াই, নিষ্ঠা সহকারে লড়াই চালিয়ে গেলে যে কোনও কাজে সাফল্য আসে নিশ্চিত। অন্তত এমনটাই বিশ্বাস করেন একুশ বছরের যুবক রাজা বর্মন (Raja Barman)। শিলিগুড়ি (Siliguri) এনজেপির সূর্য সেন কলোনিতে তাঁর বাড়ি। এবছর ফুটবলের সন্তোষ ট্রফি (Santosh Trophy)-তে বাংলা দলের গোলরক্ষক হিসাবে তিনি সুযোগ পেয়েছেন। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি কেরালায় শুরু হতে চলেছে সন্তোষ ট্রফি ফুটবল। উত্তরবঙ্গ (North Bengal) থেকে এই প্রথম কেউ সন্তোষ ট্রফিতে বাংলা দলের গোলরক্ষকের সুযোগ পাওয়ায় উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে ক্রীড়াপ্রেমী মহলে।
রাজার পরামর্শ, হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। নিষ্ঠার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আর সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নিশ্চয়ই ভালো ফল একটা সময় আসবে।

রাজা বর্মনের বাবা রাজমিস্ত্রি। এনজেপি সূর্য সেন কলোনিতে তাঁদের টিনের ছাউনি দেওয়া ভাঙাচোরা ঘর। সংসারে তীব্র অভাব। তাছাড়া তাঁর মা-ও অসুস্থ। ডায়াবেটিক রোগী হওয়ায় মায়ের জন্য নিয়মিত ওষুধ কিনতে হয়। সংসারে অর্থ কষ্ট থাকায় সে ওষুধ কিনতে হিমশিম খেতে হয়। এরকম সমস্যার মধ্যে লড়াই করেই সন্তোষ ট্রফিতে বাংলা দলের গোলরক্ষক (Goal Keeper) হিসাবে খেলার জন্য কেরালায় যাচ্ছেন রাজা। খেলতে যাওয়ার আগে শিলিগুড়ির এই তরুণ প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড়কে উৎসাহিত করছেন শিলিগুড়ি (Siliguri) বাণীমন্দির রেলওয়ে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষকরা। স্কুলের অধ্যক্ষ শেখ বোরহান আলি, ক্রীড়া শিক্ষক সুদীপ্ত কুমার জানা-সহ অন্যরা আগামীতে রাজার আরও সাফল্য কামনা করছেন।
আরও পড়ুন: প্রয়াত ফুটবলার সুরজিৎ সেনগুপ্ত

২০১৮ সালে বাণীমন্দির রেলওয়ে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে পাশ করেন রাজা। ছোটো থেকেই তাঁর নেশা ফুটবল (Football) খেলার প্রতি। প্রথমে স্ট্রাইকারে, তারপর মিডফিল্ডে। সংসারে অর্থ কষ্ট তাঁর খেলায় বাধা সৃষ্টি করলেও হাল ছেড়ে দেননি। ফুটবল খেলে কখনও দুটো পয়সা রোজগার হলে মায়ের ওষুধ কিনেছেন। বাণীমন্দির স্কুলে পড়ার সময় সুব্রত কাপ, উর্জা কাপ, অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে স্কুল ফুটবলে অংশ নিয়েছেন। ভবিষ্যতে আই লিগ-সহ জাতীয় ফুটবল দলে খেলার স্বপ্ন দেখেন রাজা। গোলরক্ষক হিসাবে আরও দক্ষতা দেখিয়ে বাংলার সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি নিজের সংসারের হালও ফেরাতে চান রাজা। স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক সুদীপ্ত জানা বলেন, শিলিগুড়ি তথা উত্তরবঙ্গ থেকে এই প্রথম কেউ সন্তোষ ট্রফিতে বাংলা দলের গোলরক্ষক হিসাবে সুযোগ পেলো। এটা বেশ আনন্দের খবর।

রাজার বাবা-মা

রাজার বাড়ি
যাঁরা ফুটবল খেলতে খেলতে ফল না পেয়ে মাঝরাস্তায় খেলা ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে রাজার পরামর্শ, হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। নিষ্ঠার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আর সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নিশ্চয়ই ভালো ফল একটা সময় আসবে। সকাল বিকাল দু-ঘণ্টা ধরে প্রতিদিন ফুটবল নিয়ে অনুশীলন তাঁর বাধা ধরা। ঘরে অভাব থাকায় এমন দিনও গিয়েছে উনুনে হাড়ি চড়েনি, তবুও খেলার মাঠ ছাড়েননি রাজা।

