
বেশ কয়েকবছর ধরে গোলাপি দইয়ে কমে গিয়েছিল বিশেষত্ব
কলকাতার প্রাচীন এলাকা কলেজস্ট্রিট। আর সেখানকার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান সন্তোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। আর তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে না পেরে এবং ব্যবসায় চূড়ান্ত লোকসানের ফলে দোকানটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কলকাতার বাইরে প্রধানত অবাঙালিরা কলকাতার মিষ্টি বলতে বোঝেন রসগোল্লা, মিষ্টি দই আর সন্দেশ। কথিত আছে, বলিউডের নামীদামী স্টারেদের যদি জিজ্ঞাসা করা হয় কলকাতার কোন খাবার সবচেয়ে প্রিয়, তাহলে সবার আগে উঠে আসে মিষ্টি দইয়ের নাম। এই সন্তোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার বিখ্যাত ছিল মূলত মিষ্টি দইয়ের জন্যই।
কলকাতার বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে ঘুরলে নানারকম পাত্রে দই পাওয়া যায়। মাটির ভাঁড় থেকে প্লাস্টিকের কাপ। কলেজস্ট্রিটের বহু পুরোনো দোকান সন্তোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। একসময় মিষ্টি দইয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই সবার আগে আসত এই দোকানের নামটাই। বিশেষত উত্তর কলকাতার কোনো বিয়েবাড়ি, জন্মদিন বা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে বাড়িতে বাড়িতে অর্ডার হত এই দোকানের মিষ্টি দই। কিন্তু বেশ কয়েকবছর ধরে গোলাপি দইয়ে কমে গিয়েছিল বিশেষত্ব। প্লাস্টিকের কাপে কেটে কেটে ১০০ গ্রাম করে দেওয়া হত। দইয়ের সেই চাপ চাপ ব্যাপারটা ক্রমশ কমে গিয়েছিল সন্তোষে। কলেজস্ট্রিট অঞ্চলে যেখানে সমস্ত দই ২০০ টাকা কেজি, সেখানে সন্তোষে তা পাওয়া যেত ১৮০ টাকায়। এটাই ছিল এই দোকানে লোক টানার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
দিন যেতে লাগল। কমে এল ভিড়। কারণ হিসাবে শহরের প্রবীণ নাগরিকরা বলেন, এই দোকানের মালিক এবং কর্মচারীরা সবসময় ভীষণ উদাসীন থাকতেন। ক্রেতাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতেন। কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করলে সঠিক উত্তর দিতেন না। তাই স্বাভাবিকভাবেই দোকানের ক্রেজ কমে গিয়েছিল। কেউ যেতেন না। তাই দোকানটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু কলকাতার মিষ্টিপ্রিয় বাঙালি-অবাঙালিরা এই খবর শুনে মনখারাপ করেছেন। কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় স্মৃতি আওড়ে দু’কথা লিখছেন। লিখছেন দোকানের উদাসীনতার কথা, কর্তৃপক্ষের খারাপ ব্যবহারের কথা কিংবা মিষ্টি অত্যন্ত খারাপ হয়ে যাবার কথা।
শহরের প্রবীণ নাগরিক অরুণ চক্রবর্তী বলেছেন, “সন্তোষের দইয়ের সঙ্গে পরিচয় আমার ১৯৬৩ সাল থেকে। শুরুতে ওদের মিষ্টি পটলে ছিল আমার ক্রেজ! সন্তোষের সন্তোষই আলাদা।” পারমিতা রায় লিখছেন, “এটা খুবই খারাপ খবর। লবঙ্গলতিকা এখানকার খুবই জনপ্রিয় মিষ্টি। এটা রীতিমতো দু:সংবাদ।” মমতা ঘোষ লিখেছেন, “আমার পিসিমার বাড়ি ছিল কলেজ রো-তে। ওঁর বাড়ি গেলে বা উনি যখনই আসতেন সন্তোষের ঘি-এর খাবার খেতে পেতাম। একটা ছোটো জিভে গজার মতো ভাজা মিষ্টি দারুণ ভালো লাগত। সন্তোষে পরেও খেয়েছি। বন্ধ হয়ে যাবে? হায় হায়!!”
এইভাবে নিজেদের ক্ষোভ-অভিমান উগড়ে দিচ্ছেন অনেকে। কিন্তু হায়! এই কথাগুলো যদি কর্তৃপক্ষ একবার দেখতেন! তাঁদের উন্নাসিকতার কিছুটা বদল নিশ্চয় হত। হত কি?
