রিংকিদের অ-সাধারণ হয়ে ওঠার গল্প

রিংকির বয়স এখন ১৯ বছর। শরীরের উচ্চতা মাত্র দেড় ফুট

১৯টা বছর পার করে ফেলেছে রিংকি। কিন্তু আমাদের তথাকথিত ‘সভ্য’ সমাজের বাইরেই ওর জীবন। রিংকির জীবনের গল্প তাই সাধারণ থেকে অ-সাধারণ হয়ে ওঠার। রিংকির বয়স এখন ১৯ বছর। শরীরের উচ্চতা মাত্র দেড় ফুট। পা দুটি ২ ইঞ্চি করে লম্বা। এখনও দাঁত হয়নি। চলাফেরাতেও কষ্ট ভীষণ। লড়াই করে বেঁচে থাকাটাই রিংকির কাছে বিস্ময়কর। রিংকি গুণবতী। দারুণ ছবি আঁকে, নাচ জানে, সেলাইয়ের কাজ জানে।

অস্থি সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা তাকে গ্রাস করেছে। রিঙ্কি দাস। বাড়ি শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া ইস্টার্ন বাইপাসের মাঝা বাড়িতে। বাবা প্রভাস দাস সামান্য ডেকোরেটর কর্মী। আর মা কল্যাণি দাস লোকের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। এত প্রতিবন্ধকতা এবং দারিদ্রের মধ্যেই রিংকির সাধ সে স্কুলে যাবে। যায়ও। দিদিমণিদের পড়া শোনে মন দিয়ে। এখন সে দ্বিতীয় শ্রেণি। শিলিগুড়ি হাকিমপাড়ার বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের স্কুল উদয়তে পড়াশোনা করে রিংকি। তার স্কুল-শিক্ষিকা চন্দ্রা বিশ্বাস আমাদের জানিয়েছেন, “১৯ বছর বয়স হলেও এখনও দাঁত গজায়নি রিংকির। পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী। দারুণ ছবিও আঁকতে পারে। ছবি আঁকায় ওর অনেক পুরস্কার আছে স্কুল এবং স্কুলের বাইরে থেকেও। কখনও রিংকি গাছ সমেত গ্রামের ছবি আঁকছে, আবার বিভিন্ন ফলের ছবি আঁকছে। মাঝে মাঝে দেখি স্কুলে বসে সেলাইয়ের কাজ করছে। ভীষণ ভালোলাগে ওকে দেখে।”

শিলিগুড়ির এই বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের স্কুলে আরও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়ে রয়েছে। এদের কেউ মানসিক প্রতিবন্ধী, কেউ শ্রবণ প্রতিবন্ধী, কেউ দৃষ্টিহীন, কেউ সেরিব্রাল পালসি, কেউবা অটিস্টিক। এইসব বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেমেয়েদের সামাল দিতে স্কুলের শিক্ষিকাদের প্রতিদিন নাজেহাল অবস্থা। তারমধ্যেই নিজের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে পড়াশোনা করছে রিংকি। প্রায় ৬০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে স্কুলটিও চলছে কিছু সহৃদয় মানুষের সহযোগিতায়। স্কুলের শিক্ষিকা চন্দ্রা বিশ্বাস, সীমা হোড়রায়রা স্কুল চালাতে সকলের সহযোগিতা চান। তাঁরা বলেন, পিছিয়ে পড়া পরিবারের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেমেয়েদের খুঁজে খুঁজে গাড়ি করে স্কুলে নিয়ে আসেন। আগে এই সব ছেলেমেয়েরা খুব অবহেলিত হয়ে বাড়িতে পড়ে থাকত। অথচ এদের মধ্যেও রয়েছে দারুণ সব প্রতিভা। লড়াই করে তাদের স্কুল চালানোই কষ্টকর হয়ে উঠছে। সেজন্য তাঁরা সকলের সহযোগিতা চান। এর ফলে রিংকিদের মতো অনেক বাচ্চাকেই সুন্দর ভবিষ্যতের আলোয় এগিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

Developed by DXDasia