
‘নেচার কমিউনিকেশন্স’-এ সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে এই গবেষণার সাফল্যের কথা
কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস না পুড়িয়েও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে কি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়? গত কয়েক দশক ধরে এই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছেন গবেষকরা। বিজ্ঞানপত্রিকা ‘নেচার কমিউনিকেশন্স’-এ সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে এমনই এক গবেষণার প্রাথমিক সাফল্যের কথা। বিভিন্ন যন্ত্র চলার সময়ে যে তাপ উৎপন্ন হয় এবং পরিবেশে মিশে ‘নষ্ট’ হয়, সেই তাপকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানোর উপায় দেখাচ্ছেন ব্যারাকপুরের প্রীতম সাধুখাঁ।
যে দুটি বিষয় এখনও পর্যন্ত পরিবেশবিদদের সবচেয়ে দুশ্চিন্তার কারণ, তা হল- বিশ্ব উষ্ণায়ন ও গ্রিন হাউস গ্যাস। আর এই দুইয়ের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেই মুক্তির আশা জাগিয়েছে ব্যারাকপুরের এই বঙ্গসন্তান। আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের টোকিয়ো ও কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিশ্বের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৭ জন বিজ্ঞানী মিলে এই গবেষণা চালিয়েছেন। ব্যারাকপুরের প্রীতমই প্রধান গবেষক। প্রথমে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন ও পরে ব্যারাকপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন তিনি। এর পর তিনি ভোপালের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ থেকে রসায়নে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন। তার পরই তাঁর জাপানযাত্রা।
প্রীতমরা দেখিয়েছেন,কোনও যন্ত্র চলতে শুরু করলেই তাপশক্তি জন্মায়। সেই তাপে যন্ত্র এবং আশপাশের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই তাপকে কোনও কাজে ব্যবহার করা যায় না। প্রীতমদের গবেষণা কলকারখানার এই বর্জ্য তাপশক্তিকে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়েই। ওঁরা তৈরি করেছেন লোহা ও কোবাল্টের যৌগ কেলাস।
প্রীতমের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা লোহা ও কোবাল্টের যৌগের একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র কেলাস বানিয়েছেন। এই কেলাসের সাহায্যে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র বা চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ না করেই বর্জ্য তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ‘ম্যানিপুলেটিং ইলেকট্রন রিডিস্ট্রিবিউশন টু অ্যাচিভ ইলেকট্রনিক পাইরোইলেকট্রিসিটি ইন মলিকিউলার ক্রিস্টালস’ শিরোনামে গবেষণাপত্রে ওঁদের দাবি, কোনও যৌগের কেলাস ব্যবহার করে বর্জ্য তাপশক্তি থেকে বিদ্যুৎশক্তি উৎপাদনে এটি এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
এই পদ্ধতিতে বর্জ্য তাপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে কেলাসের লোহা ও কোবাল্টের পরমাণুগুলির বাইরের কক্ষের ইলেকট্রনগুলিকে উত্তেজিত করা হয়। এর ফলে ইলেকট্রন মুক্ত হয়ে চলাচল শুরু করে। তাতেই বিদ্যুৎপ্রবাহ তৈরি হয়। প্রীতমের তৈরি যৌগের কেলাস আয়তনে ০.৫ মিলিমিটার। ওই ক্ষুদ্র কেলাসই ৩ থেকে ৪ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম।
