
উদ্যোগে রাজ্য উদ্যানপালন দপ্তর
আম, রেশম, মাখনার পাশাপাশি এবার মালদা জেলাকে নতুন দিশা দেখাচ্ছে মাশরুম চাষ। রাজ্য উদ্যানপালন দপ্তরের উদ্যোগে, অয়েস্টার ও মিল্কি – এই দুধরনের মাশরুম চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন ক্ষুদ্র চাষি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। কয়েক বছর আগেই, ২০১৭-১৮ সালে ইংরেজবাজার ব্লকের ১১টি পঞ্চায়েতে মাশরুম চাষ শুরু হয়েছিল। এর পরে, মাশরুমের চাষ বাড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা ও আগ্রহীদের সহযোগিতা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলাফল স্বরূপ, বর্তমানে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে জেলা জুড়ে মাশরুম চাষ হচ্ছে।
ক্ষুদ্র চাষি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই জেলা জুড়ে তৈরি করা হচ্ছে ছোটো ছোটো ইউনিট। ‘স্মল মাশরুম প্রোডাকশন ইউনিট’ তৈরিতে সহায়তা করছে রাজ্য সরকার।
মাশরুম পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি খাবার। আগে মাশরুম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা থাকায় সেভাবে কখনও এর চাষ নিয়ে আগ্রহ দেখাতেন না চাষিরা। অয়েস্টারের থেকে মিল্কি মাশরুম বেশি জনপ্রিয়। দাম তুলনামূলক বেশি। এই মাশরুম চাষে মূলত লাভের অঙ্ক বেশি। শীতকাল বাদে সারা বছরই মিল্কি মাশরুম চাষ হয়। অন্যদিকে, শীতের মরশুমেই চাষ করা হয় অয়েস্টার মাশরুম। এই মাশরুম চাষে খরচ এবং সময় দুইই কম লাগে।
ক্ষুদ্র চাষি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই জেলা জুড়ে তৈরি করা হচ্ছে ছোটো ছোটো ইউনিট। ‘স্মল মাশরুম প্রোডাকশন ইউনিট’ তৈরিতে সহায়তা করছে রাজ্য সরকার। একটা ইউনিট তৈরি করতে খরচ হয় ৬৬ হাজার ২৫০ টাকা। যার মধ্যে রাজ্য সরকার ৩৩ হাজার ২৫০ টাকা ভর্তুকি দেয়। উদ্যানপালন দপ্তরের উদ্যোগে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ায় ব্যবস্থা করা হয়। মাশরুম চাষের এই ছোটো ইউনিটগুলির জন্যই স্বাবলম্বী হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।
আরও পড়ুন: আম দিয়ে যায় চেনা
প্রসঙ্গত, বছরের শুরুতে মালদার মাশরুম চাষের প্রশংসা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, মালদায় উৎপাদিত মাশরুম দেশ-বিদেশের রপ্তানি করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে মালদা জেলা প্রশাসন।