
বালুরঘাটের জনৈক মিহির মজুমদারের গল্প
অঙ্ক নিয়ে ভয়? চিন্তা নেই। সঙ্গী হবেন ‘অঙ্কমামা’। যাবতীয় জটিল সমস্যার একনিমেষে সমাধান লুকিয়ে আছে তাঁর কাছেই। কিন্তু কে তিনি? কীই বা বিশেষত্ব তাঁর?
অঙ্ক নিয়ে যেসব ছাত্রছাত্রীর বুক দুরুদুরু, তাদের জন্য তৈরি অঙ্ক মামা। কারও কারও কাছে অবশ্য ‘অঙ্ককাকা’ও। নার্সারি থেকে স্নাতক স্তর পর্যন্ত নানান অঙ্কের বই বের করে বেশ ভালই আছেন উত্তরবঙ্গের বালুরঘাটের বাসিন্দা মিহির সমাজদার।
বালুরঘাটের দক্ষিণচক ভবানীতে বাড়ি মিহিরবাবুর। বয়স ৬৪ বছর। তিনি স্থানীয় খাসপুর হাই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। আজ থেকে কুড়ি বছর আগে থেকে তাঁর অঙ্কের বই বের করার নেশা শুরু হয়। প্রথমে দুটো বই বের করেন। তারপর সেই বই বিক্রির লাভের টাকা থেকে আরও অঙ্কের বই। তার লাভ থেকে আবার বই। এভাবেই কুড়ি বছরে ৫৪টি বিভিন্ন রকম অঙ্ক বই বের করেছেন তিনি। আর স্রেফ অঙ্ক বই বের করার জন্যই একটি প্রকাশনা খুলে ফেলেছেন। ১৫ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা দামের অঙ্কের বই আছে তাঁর। রাজ্য শিক্ষা দফতরের সিলেবাস অনুযায়ী বই প্রকাশনার পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অঙ্ক বইও বের করেছেন তিনি। অঙ্কের বিভিন্ন সূত্র ছাড়া কীভাবে অঙ্কে আরও পাকা হওয়া যাবে তার বিভিন্ন পরামর্শ তিনি দিয়েছেন নিজের লেখা বইগুলিতে। এসবের বাইরে ব্যাঙ্ক কিভাবে ঋণ গ্রহীতাকে প্রতারণা করে, তা নিয়েও বই আছে তাঁর। জাগলারি নিয়ে গবেষণাধর্মী বইও পাবেন। ৬টি বিশেষ উপপাদ্য নিয়ে আছে একটি ব্যতিক্রমী বই।
প্রথমে ‘অঙ্কের মজা’ নাম দিয়ে প্রথম বই প্রকাশ। তারপর ধারাবাহিকভাবে চলছে এই বই প্রকাশনা। আরও মজার হল, তাঁর এইসব অঙ্ক বই পাওয়া যায় স্রেফ বইমেলাগুলোতেই। অন্য শিক্ষকরা যখন টিউশন নিয়ে মেতে থাকেন তখন মিহিরবাবু মেতে আছেন স্রেফ বই প্রকাশনা নিয়ে। তবে যারা অঙ্কে কাঁচা, সেইসব ছাত্রছাত্রীরা তাঁর কাছে অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শ চাইলে তিনি তা দিয়ে থাকেন ফোনেই। অঙ্কের বইগুলোতে তাঁর মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া আছে। কারও যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে সেই নম্বরে তাঁরা ফোন করতে পারেন। এভাবে শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গ বইমেলাতেও মিহিরবাবু অনেকের কাছে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, অঙ্কে কাঁচা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কথা চিন্তা করেই তাঁর এই বিশেষ প্রয়াস শুরু হয় কুড়ি বছর আগে। আগামীতে দশম শ্রেণীর বই নিয়ে আরও কিছু তথ্য দিয়ে আরও বই বের করতে চান ‘অঙ্কমামা’।
